লাইফস্টাইল

হিন্দি ছবির ইতিহাসে সেরা ১০ টি গোপন রহস্য, যা আজও অধরা, দেখে নিন, চমকে উঠবেন

১. আমির খান ও জেসিকা হাইনস
একটি সাময়িকীর বরাতে জানা যায় মি. পারফেকশনিস্ট খ্যাত আমির খান ব্রিটিশ সাংবাদিক জেসিকা হাইনসের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান এবং একটি বাচ্চা ছেলের জন্মও দেন। তাদের মধ্যে পরিচয় ও প্রণয় জমেছিল ‘গোলাম’ ছবির সেটে। আমির খান সম্পর্কটি গোপন রাখতে চেয়েছিলেন এবং সন্তানটির গর্ভপাত করতে বলেছিলেন। কিন্তু জেসিকা হাইনস তা করতে অস্বীকৃতি জানান এবং জান নামে একটি ছেলের জন্ম দেন।

২. হৃত্তিক রোশন ও কারিনা কাপুর
দুজনের বলিউডে অভিষেক ঘটতে যাচ্ছিল ‘কাহো না পেয়ার হ্যায়’ ছবির মাধ্যমে। তাদের মধ্যে সম্পর্কের সূত্রপাত হয় সুভাষ ঘাইয়ের ‘ইয়াদে’ ছবির কাজ শুরু করার সময়। ‘ইয়াদে’ ও ‘কাবি খুশি কাবি গাম’ মুভির পাশাপাশি তারা একসাথে জুটি বেধেছিলেন ‘মুজছে দোস্তি কারোগি’ ও ‘মে প্রেম কি দিওয়ানি হো’ তে। তাদের প্রেম ও প্রেম ভেঙ্গে পড়া বলিউডের একটি রহস্য।

৩. শাহরুখ খান ও প্রিয়াংকা চোপড়া
ভালো স্বামী ও ভালো প্রেমিক হিসেবে পরিচিত শাহরুখ খান ও বাঁচতে পারেননি প্রেমের থাবা থেকে। প্রিয়াংকা চোপড়া ও শাহরুখ খান নাকি খুব কাছাকাছি চলে এসেছিলেন। তাদের গোপন প্রণয় নিয়ে কিছু মিডিয়াতে বেশ লেখালেখি হয়েছিল। একসময় দেখা গিয়েছিল শাহরুখ খান প্রিয়াংকার ওপর বিশেষ মনোযোগ দিচ্ছেন এবং বিভিন্ন প্রযোজকের কাছে প্রিয়াংকার ব্যাপারে সুপারিশ করছেন।

৪. অমিতাভ বচ্চন ও রেখা
বলিউডের মেগাস্টার অমিতাভ বচ্চন ও এভারগ্রিন রেখার মধ্যে আলোচিত প্রেমের সূত্রপাত হয় ‘দু আনজানে’ সিনেমার সেটে। তাদের দু’জনের মধ্যে সম্পর্কের ঘটনা নজরে আসে ‘গঙ্গা কি সুগন্ধ’ ছবির সেটে যখন রেখার সাথে ঝামেলা করার জন্য এক সহ-অভিনেতার ওপর চরম ক্ষেপে যান ‘বিগ বি’। রেখা অমিতাভকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন কিন্তু অমিতাভের জীবনে অন্য নারীকে সহ্য করতে পারছিলেন না। যখন দেখলেন তাদের সম্পর্কের ভবিষ্যত নাই তখন সড়ে আসেন।

৫. রাভিনা টেন্ডন ও অক্ষয় কুমার
নব্বইয়ের দশকের এ প্রেমকাহিনী সে সময়ের বলিউড দর্শকদের জানা। ‘মোহরা’ ছবির শুটিংয়ের সময় দু’জন কাছাকাছি আসেন। রাভিনা এটা স্বীকারও করেছেন যে দু’জন গোপনে মন্দিরে গিয়ে বাগদান সম্পন্ন করেছিলেন। কিন্তু অক্ষয়ের উড়নচণ্ডি স্বভাবের কারণে সম্পর্কের ইতি টানতে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন রাভিনা।

৬. গোবিন্দ ও রানি মুখার্জি
গোবিন্দ ও রানি মুখার্জিকে একসাথে বিভিন্ন রোমান্টিক ছবিতে কাজ করতে দেখা গেছে। তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক শুরু হয় ‘হাদ কারদি আপনে’ সিনেমার সেটে। সম্পর্ক এমন গভীরে চলে গিয়েছিল যে গোবিন্দের স্ত্রী সুনিতা তার বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল। গোবিন্দ ও রানি মুখার্জির মধ্যে বিয়ের খবর ও প্রকাশ করেছিল বিভিন্ন পত্রিকা। কিন্তু কোনো এক কারণে সম্পর্কটা আগায়নি। তারা আলাদা হয়ে যান।

৭. মিঠুন চক্রবর্তী ও শ্রীদেবী
ডিসকো ড্যান্সার মিঠুন চক্রবর্তী ও বলিউড দীবা শ্রীদেবীর সঙ্গে গভীর প্রেম ছিল। তারা ১৯৮৫ তে গোপনে বিয়েও করেছিল। শ্রীদেবী মিঠুনের প্রেমে পড়েন রাকেশ রোশনের ‘জাগ উঠা ইনসান’ ছবির সেটে। কিন্তু তাদের বিচ্ছেদ হয় ১৯৮৮ সালে যখন শ্রীদেবী জানতে পারে মিঠুন তার স্ত্রী যোগিতাকে ছাড়বেন না বা কোনো প্রকার কষ্ট দেবেন না।

৮. দিলীপ কুমার ও মধুবালা
দিলীপ কুমার ও মধুবালার মধ্যে গোপন প্রণয় শুরু হয় ‘মুঘল ই আজম’ ছবির সেটে। তাদের সম্পর্কের কথা মানুষের কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যখন দুজন হাতে হাত রেখে ‘ইনসানিয়াত’ মুভির প্রিমিয়ারে আসেন। তবে দুজন আলাদা হয়ে যান যখন মধুবালার বাবা এ সম্পর্কে না বলে দেন।

৯. নার্গিস ও রাজ কাপুর
বলা হয়ে থাকে রাজ কাপুরের প্রেমে পাগল ছিলেন নার্গিস। ইন্ডাস্ট্রিতে তাদের প্রেম কাহিনী অনেক আলোচিত হলেও তার দুঃখজনক পরিণতি ছিল যেন নিয়তি। রাজ কাপুর ছিলেন একজন বিবাহিত পুরুষ আবার নার্গিসকেও ছাড়তে চাচ্ছিলেন না। নার্গিসের মন ভেঙে গিয়েছিল যখন সে জানতে পেরেছিল রাজ কাপুরের জীবনসঙ্গিনী আছেন। নার্গিস নাকি সুইসাইড করার চেষ্টাও করেছিলেন। কিন্তু তখনই তার জীবনে সুনীল দত্ত চলে আসে।

১০. দেব আনন্দ ও সুরাইয়া
দেব আনন্দ বলিউডে প্রবেশ করেছিলেন ১৯৪৫ সালে এবং তার কারিশমা দিয়ে কাবু করে ফেলেছিলেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী সুরাইয়াকে। কিন্তু তাদের এই বহুল আলোচিত প্রেমকাহিনীটি ক্ষণস্থায়ী ছিল এবং গন্তব্যে পৌঁছতে পারেনি কারণ সুরাইয়ার দাদি এই সম্পর্ক অনুমোদন করেনি।