বিনোদন

হিজড়া হতে গিয়ে বিপত্তিতে স্কারলেট জোহানসন!

ডেস্কনিউজ; নতুন একটি ছবিতে তৃতীয় লিঙ্গ বা হিজড়া চরিত্রে অভিনয় করছেন হলিউড তারকা স্কারলেট জোহানসন। আবেদনময়ী ও মারকুটে চরিত্রে অভিনয় করে দারুণ খ্যাতি অর্জন করেছেন এই অভিনেত্রী। কিন্তু এ চরিত্রে তাঁকে মেনে নিতে পারেননি হিজড়া সম্প্রদায়। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন তাঁরা।

‘রাব অ্যান্ড টাগ’ নামের একটি ছবিতে দেখা যাবে স্কারলেটকে। এ চরিত্রে তাঁর অভিনয় করা নিয়ে সামাজিক মিডিয়ায় প্রতিবাদের ঝড় বয়ে গেছে। এ প্রসঙ্গে একটি ম্যাগাজিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্কারলেট বলেছেন, ‘অভিনয়শিল্পী হিসেবে যে কোনো চরিত্রে অভিনয়ের অধিকার আমার আছে। আমি গাছ বা পশুর চরিত্রেও অভিনয় করতে পারি, যদি চরিত্রটি সে রকম হয়।’ তিনি মনে করেন, অভিনয় একটি শিল্প, একে রাখতে হবে মুক্ত। এটা করা যাবে না, ওটা করা যাবে না—এসব বিধিনিষেধ অভিনয়শিল্পীর জন্য নয়। আর কেবল অভিনয়শিল্পীই নয়, সমাজের প্রতিটি মানুষকে তাঁর নিজের মতো চিন্তা ও অনুভব করার অধিকার দেওয়া দরকার। এতে সমাজের প্রতিটি মানুষের সঙ্গে প্রতিটি মানুষ আরও বেশি সম্পৃক্ত হতে পারবে।

সিনেমাটির প্রসঙ্গে স্কারলেট বলেন, একটি সিনেমা শেষ করার জন্য সেটাকে নানা ভাবে পরিবর্তন করতে হয়। শেষ পর্যন্ত সেটা গিয়ে এমন অবস্থায় পৌঁছায় যে, ছবিটায় চুক্তিবদ্ধ হওয়ার সময় ভাবাই যায় না যে, এমনটা হতে পারে। তিনি বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত যে ছবিটা আমরা দেখি, শুরুতে এটা কী হবে সেটা বোঝা যায় না। খুব কম ক্ষেত্রেই যা ভেবেছি শেষে সেটা রাখা যায়। কখনো কখনো এটা কী হলো ভেবে বিস্মিত হতে হয়।’

গত বছরের জুলাই মাসে স্কারলেট যুক্ত হন ‘রাব অ্যান্ড টাগ’ ছবিতে। সত্তর-আশির দশকের কুখ্যাত মার্কিন হিজড়া গ্যাংস্টার ও ম্যাসেজ পারলারের মালিক লুইস জেন গিল ওরফে দান্তে টেক্স গিলকে নিয়ে এ ছবিটি। হিজড়া সম্প্রদায়ের দাবি, এই চরিত্রে স্কারলেট কেন, একজন হিজড়া অভিনেতাকেই এ চরিত্র করতে দেওয়া উচিত। অন্যদিকে স্কারলেট মনে করেন, এ রকম ব্যতিক্রম একটি ঘটনা নিয়ে ছবি হচ্ছে, তাতে যে কেউ অভিনয়ের লোভ সামলাতে পারবে না, সেটাই স্বাভাবিক। তিনি বলেন, ‘ছবিটায় আমার অভিনয় করা নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, এ জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।’

হিজড়া হয়েও পুরুষ সেজে একটি ম্যাসেজ পারলার চালাতেন গিল। গত শতকের ৭০-৮০ দশকের কুখ্যাত এই ডন যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় নানা দুষ্কর্মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। কর ফাঁকি দেওয়ার জন্য তাঁকে সাত বছর কারাবরণ করতে হয়।
সূত্র; প্রথমআলো