আইন আদালত

হলি আর্টিজানে হামলা : হাসনাত করিমের জামিন নামঞ্জুর

রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিসিটির খণ্ডকালীন শিক্ষক হাসনাত করিমের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফাহাদ বিন আমিন চৌধুরীর আদালতে জামিন আবেদনের শুনানি শেষে আদালত এ আদেশ দেন। অন্যদিকে মামলাটি বিচারের জন্য সন্ত্রাস দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করার নির্দেশ দেন চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুজ্জামান হিরো।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ জুলাই এই মামলায় আট জীবিত জঙ্গিকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেওয়া হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জঙ্গি হামলায় হাসনাত করিমের জড়িত থাকার বিষয়ে সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করেন। এরপরে আজ বৃহস্পতিবার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফাহাদ বিন আমিন চৌধুরীর আদালতে হাসনাত করিমের জামিনের আবেদন করেন তার আইনজীবীরা।

এ বিষয়ে আদালত পুলিশের সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন কর্মকর্তা শেখ রকিবুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, মামলা স্থানান্তর করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আগামী রবিবার সন্ত্রাস দমন ট্রাইব্যুনালে নথিপত্র পাঠানো হবে।

তিনি জানান, হাসনাত করিমের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে। যেহেতু নথি  ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর নির্দেশ হয়েছে সেহেতু হাসনাত করিমের অব্যাহতি ও জামিনের বিষয়টিও ট্রাইব্যুনাল নিষ্পত্তি করবেন।

এর আগে গত ২৩ জুলাই এই মামলায় আটজনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের পরিদর্শক হুমায়ুন কবির সন্ত্রাস বিরোধী আইন ২০০৯ (সংশোধনী ২০১৩) এর ৬(২)/৭/৮/৯/১০/১২/১৩ ধারায় আসামিদের বিচারের ব্যবস্থা করতে এই চার্জশিট দেন।

মামলায় যে আটজনকে আসামি করা হয়েছে তারা হলেন- গাইবান্ধার জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী,  নওগাঁর আসলাম হোসেন ওরফে আসলামুল ইসলাম ওরফে রাশেদ ওরফে র‌্যাশ, কুষ্টিয়ার  আবদুস সবুর খান ওরফে সোহেল মাহফুজ, জয়পুর হাটের হাদীসুর রহমান ওরফে সাগর, চাপাই নবাবগঞ্জের মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান, বগুড়ার রাকিবুল হাসান ওরফে রিগ্যান, বগুড়ার মামুনুর রশীদ ওরফে রিপন ও রাজশাহীর শরিফুল ইসলাম ওরফে খালেদ। এদের মধ্যে মামুনুর রশীদ ওরফে রিপন ও শরিফুল ইসলাম ওরফে খালেদ পলাতক রয়েছে। তাদের দুজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করা হয়েছে চার্জশিটে। অন্য ছয়জন কারাগারে আছে। অভিযুক্ত সবাই নব্য জেএমবির সক্রিয় সদস্য বলে চার্জশিটে বলা হয়েছে।

এই মামলায় আটজনকে অভিযুক্ত করা হলেও হলি আর্টিজানের ঘটনার সঙ্গে ২১ জঙ্গির জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে। এদের মধ্যে পাঁচজন ঘটনার সময় ঘটনাস্থলেই সেনাবাহিনীর কমান্ডোদের অভিযানে নিহত হন। এরা হলেন ঢাকার রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, মীর সামেহ মোবাশ্বের, নিবরাস ইসলাম, শফিকুল ইসলাম ওরফে উজ্জ্বল ও খায়রুল ইসলাম ওরফে পায়েল। এই পাঁচজনই সরাসরি হলি আর্জিজানে প্রবেশ করে গ্রাহকদের জিম্মি করে ও জিম্মিদের নৃশংসভাবে হত্যা করে। এছাড়া জেএমবির প্রধান সমন্বয়কারী তামিম চৌধুরী, সারোয়ার জাহান, তানভীর কাদেরী, নুরুল ইসলাম মারজান, বাশারুজ্জামান, মেজর জাহিদুল ইসলাম, রায়হানুল  কবির রায়হান ওরফে তানভীর ও মিজানুর রহমান ওরফে ছোটো মিজানও হলি আর্টিজান হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে তদন্তে পাওয়া গেছে। এই আটজন বিভিন্ন সময়ে জঙ্গি বিরোধী অভিযানে নিহত হয় বলে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে মোট ১৩ জন নিহত হওয়ায় তাদের উক্ত চার্জশিট থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

চার্জশিটে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাত পৌনে নয়টার সময় হলি আর্টিজান বেকারিতে অতর্কিত আক্রমণ করে পাঁচ জঙ্গি। তারা ভেতরে থাকা সবাইকে জিম্মি করে। একে একে গুলি চালিয়ে, কুপিয়ে ১৭ বিদেশি ও তিনজন বাংলাদেশিকে হত্যা করে। সেখানে তাৎক্ষণিক অভিযান চালাতে যায় র‌্যাব ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা। অভিযানকারীদের দিকে বোমা হামলা চালায় ওই পাঁচ জঙ্গি। এতে দুই পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন। আহত হন র‌্যাব-১ এর তৎকালীন অধিনায়ক লে. কর্ণেল তুহিন মাসুদ, পুলিশের গুলশান অঞ্চলের অতিরিক্ত উপ কমিশনার আবদুল আহাদসহ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বেশ কয়েকজন সদস্য।