খুলনা বিভাগ

’স্যার প্রায়ই আমাকে কুপ্রস্তাব দিত’

সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা হারুণ-অর-রশিদ কলেজের প্রভাষক আতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রীকে প্রতিনিয়ত কু-প্রস্তাব, উত্যক্ত ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী কলেজ ছাত্রীর বাবা আসাদুল ইসলাম লিখিত অভিযোগ করেছেন কলেজ কর্তৃপক্ষ বরাবর।

এই ঘটনার জের ধরে রোববার (২৯ জুলাই) হারুণ-অর-রশিদ কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে। পাশাপাশি এ ঘটনায় শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন ও অভিযুক্ত প্রভাষকের দৃষ্টান্ত স্বরূপ শাস্তির দাবি করেছেন।

ভুক্তভোগী কলেজ ছাত্রী জানান, আতিয়ার স্যার আমাকে বিভিন্ন সময় কু-প্রস্তাব, পাশাপাশি প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। আমি তার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সে বিভিন্ন ভাবে আমাকে মানসিক নির্যাতন ও অপমান করছিল। গত বুধবার একই ঘটনা আবার ঘটে। ক্লাসে স্যার আমাকে একা পেয়ে নানা ধরনের আপত্তিকর কথা বলছিল। কোন উপায় না পেয়ে আমি রুম থেকে বেরিয়ে আসি। এরপর বাড়িতে ফিরে পরিবারের সদস্যদের ঘটনাগুলো বলি।

এই ঘটনায় শাস্তির দাবিতে গত বৃহস্পতিবার মেয়ের বাবা আসাদুল ইসলাম এসব ঘটনা উল্লেখ করে শিক্ষক আতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে কলেজ কর্তৃপক্ষের নিকটে লিখিত আবেদন ও সঠিক তদন্তের দাবি জানান।

এ বিষয়ে শনিবার (২৮ জুলাই) কলেজ পরিচালনা পরিষদের সদস্যদের নিয়ে জরুরি সভা করেন। সভায় কলেজ পরিচালনা পরিষদের সদস্য কাজী তবিবর রহমানকে আহবায়ক করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

ঘটনার তদন্ত কমিটির আহবায়ক কাজী তবিবুর রহমান জানান, ইতোমধ্যে ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করা হয়েছে। সর্বশেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।

এদিকে, অভিযুক্ত প্রভাষক আতিয়ার রহমান পুরো ঘটনা অস্বীকার করে বলেন, এ ঘটনা মিথ্যা ও বানোয়াট। কলেজে আমার পাওনা ৩ লাখ টাকা ও পে-স্কেলের টাকা না দেয়ার জন্য একটি কুচক্রী মহল এ ঘটনা সাজিয়েছে। এমন কোন ঘটনা কখনো ঘটেনি। পুরোটা যড়যন্ত্র চলছে।

কলেজের (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যক্ষ মো: হাবিবুর রহমান বলেন, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠণ করা হয়েছে। ছাত্রীর বাড়িতে যেয়ে তদন্ত করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।