লাইফস্টাইল

স্যার আমাকে ডেকে নিয়ে বুকে হাত দেয়

শরীয়তপুরের এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক কার্ত্তিক চন্দ্র কির্ত্তনীয়ার বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন হয়রানিসহ নানা অপকর্মের অভিযোগ থাকা সত্বেও সহকারী শিক্ষক থেকে পদোন্নতি নিয়ে হয়েছেন প্রধান শিক্ষক। চাকরী জীবনের যে বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেছে সেখানেই রয়েছে তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ। এতো কিছুর পরও পদোন্নতি পাওয়ায় ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে বিভিন্ন মহলে। ত‌বে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস কার্ত্তিক চন্দ্র কির্ত্তনীয়ার কর্মকাণ্ডের বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসকে একাধিক লিখিত অভিযোগ পাঠালেও নেয়া হয়নি কোন ব্যবস্থা। তবে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার।

সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র ও স‌রেজ‌মি‌নে গি‌য়ে জানা গে‌ছে, শরীয়তপুর সদর উপজেলা ৬৫ নং কীর্তিনগর সরকারী বিদ্যালয়ে ২০১২ সালের ১২ জানুয়ারি থে‌কে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন কার্ত্তিক চন্দ্র কির্ত্তনীয়া। যোগদা‌নের কিছু‌দিন পর থেকেই তার দ্বারা একা‌ধিকবার যৌন নিপীড়নের শিকার হ‌তে হ‌য়ে‌ছে বিদ্যালয়ের অ‌নেক ছাত্রীকে। ছাত্রী‌দের অ‌ভি‌যোগ, বি‌ভিন্ন অজুহাত দে‌খি‌য়ে বির‌তির ফাঁ‌কে ডে‌কে, গা‌য়ে হাত দিত কা‌র্তিক মাষ্টার। তা‌র বর্ণনা দিয়ে বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানান, আমি স্কুলে আসলে কার্ত্তিক স্যার আমাকে ডেকে নিয়ে বুকে হাত দেয়। আমি বাসা থেকে খাবার আনলে স্যার খেতে চায়, খাবার দিতে গেছি, সে আমাকে জড়িয়ে ধরছে। কার্ত্তিক স্যার অনেক খারাপ লোক।

সম্প‌্রতি এম‌নি এক কেলেঙ্কারির ঘটনা সরাস‌রি ধরা প‌রে স্থানীয়‌দের হা‌তে। রা‌তের অাধাঁ‌রে ছাত্রী‌কে ডে‌কে এ‌নে জোরপূর্বক সারারাত অাট‌কে রা‌খে এক‌টি ঘ‌রে। প‌রে সকা‌লে ওই ছাত্রীর ডাক চিৎকা‌রে এ‌গি‌য়ে অা‌সে প্র‌তিবেশিরা। ততক্ষ‌ণে ঘটনাস্থল থে‌কে পা‌লি‌য়ে যায় অ‌ভিযুক্ত শিক্ষক কার্ত্তিক চন্দ্র। প‌রে স্থানীয় জনপ্র‌তি‌নি‌ধিরা বিচা‌রের অাশ্বাস দি‌য়ে অ‌ভিভাবক‌দের হা‌তে তু‌লে দেন ওই ছ‌াত্রী‌কে।

গত ০২ জুলাই এই ঘটনার পর থে‌কে ৬৫ নং কীর্তিনগর সরকারী বিদ্যালয়ে কর্মস্থ‌লে অার যান‌নি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কার্ত্তিক চন্দ্র কির্ত্তনীয়া। স্কু‌লের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম মল্লিক বলেন, কার্ত্তিক মাষ্টারের বিরুদ্ধে সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে লিখিত অভিযোগ করেছিলাম। ত‌বে কোন ব্যবস্থা নেয়‌নি শিক্ষা অ‌ফিস।

মাদারীপুর জেলার রাজৈর থানার কলাগাছিয়া গ্রামের কার্ত্তিক চন্দ্র কির্ত্তনীয়া। ১৯৯৯ সালে তথ্য গোপন ক‌রে শরীয়তপুর জেলার সদর থানার চিতলীয়া ইউনিয়নের কাশিপুর গ্রামের ঠিকানায় দি‌য়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে চাকরী নেন। এরপর যোগদান করেন সদর উপজেলার ১১নং গয়ঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ২০১১ সালের ডিসেম্বরে স্কুলের এক ছাত্রীর সা‌থে অপ্রীতিকর অবস্থায় ধরার পরে গণধোলাইও খে‌তে হয়ে‌ছিল তাকে। পরব‌র্তী‌তে প্রশাস‌নিক কোন ব্যবস্থা না নি‌য়েই বদ‌লি করে দেয়া হয়ে‌ছে অন্য স্কু‌লে ব‌লে জানান সাবেক মেম্বার ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হরিদাস চন্দ্র। তিনি বলেন, শিশু‌ শিক্ষার্থী‌দেরও যৌন হয়রা‌নি ক‌রে‌ছে কা‌র্ত্তিক। এর মতো শিক্ষক যদি কোন স্কুলে থাকে তাহলে মানুষের অপ্রীতিকর হবে। আমি এই ধরনের একজন শিক্ষকের সুবিচার দাবী করি এবং সমাজে যাতে এ ধরনের অন্যায় অন্য কেউ করতে না পারে এই কমনা রাখি।

এ‌কের পর এক ঘটনা ঘ‌টি‌য়েও পদোন্নতি পেয়ে প্রধান শিক্ষক হ‌য়ে‌ছে কার্ত্তিক মাষ্টার। পদোন্নতির অা‌গের ঘটনায় ০২ জুলাই থে‌কে অনুপস্থিত থাক‌লেও ১৭ জুলাই প্রধান শিক্ষ‌কের পদোন্নতি নি‌য়ে যোগ দি‌য়ে‌ছেন ৩৩নং ছোট বিনোদপুর নদীরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। কিন্তু সেখা‌নে গি‌য়েও দেখা মে‌লে‌নি অ‌ভিযুক্ত এ শিক্ষ‌কের। ত‌বে মু‌ঠো‌ফো‌নে নি‌জের অপরাধ শিকার ক‌রে জানা‌লেন, এসব লি‌খে কি হ‌বে। য‌দি লিখ‌তে চান লি‌খেন।

কার্ত্তিক চন্দ্র কির্ত্তনীয়ার চাকরী জীবনে এমন কেলেঙ্কারির একাধিক অভিযোগ এসেছে সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে। সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসও একাধিক লিখিত অভিযোগ পা‌ঠি‌য়ে‌ছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে। ত‌বে এ‌সব অ‌ভি‌যো‌গের ভি‌ত্তি‌তে তদ‌ন্ত চল‌ছে ব‌লে জানা‌লেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ। তি‌নি জানান, কা‌র্তিকে বিষ‌য়ে সদর উপ‌জেলা শিক্ষা অ‌ফিসার‌কে তদ‌ন্তের নি‌র্দেশ দেয়া হ‌য়ে‌ছে। রি‌পোর্ট পে‌লে ব্যবস্থা নেয়া হ‌বে। আর পদোন্নতির ‌বিষ‌য়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত ব‌লে দাবী ক‌রেন এ কর্মকর্তা।

দীর্ঘ‌দিন যাবত কা‌র্তির মাষ্টা‌রের একের পর এক অপক‌র্মের ঘটনায় উপযুক্ত বিচার না হ‌লে অাগামী‌তে এমনটা অারও ঘটা‌বে ব‌লে ম‌নে করে স‌চেতন মহল। তাই দ্রুত এ শিক্ষক‌কে বিচা‌রের মু‌খোমু‌খি ক‌রে বর্তমান শিক্ষক সমাজকে কলংকিত মুক্ত কর‌বে এমনটাই প্রতাশা সক‌লের।