খেলাধুলা

স্বপ্নের দুয়ার খুলে নক আউটে বাংলাদেশ

ম্যাচ শেষে মাঠে ঢুকে পড়লেন কোচ জেমি ডে। তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লেন ফুটবলাররা। হাতের কাছে উৎসবের জন্য ছিল না কিছু। পানি ছিটিয়ে ইতিহাস গড়ার উৎসব। পিছিয়ে পড়া, ঝিমিয়ে পড়া ফুটবলকে জাগাতে দরকার ছিল এমন একটা জয়। আরাধ্য সেই জয়টা এলো আজ বেকাসির প্যাট্রিয়ট চন্দ্রভাগা স্টেডিয়ামে। নিজেদের গ্রুপে এক জয় ও এক ড্রতে বাংলাদেশের পয়েন্ট ৪। তাই গ্রুপ রানার্স আপ। টানা তিন জয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন উজবেকিস্তান।

চোখ-ধাঁধানো ঘটনাচক্র! তিন-তিনজনকে কাটিয়ে লাতিন শিল্পে বক্সে ঢুকে পড়ছেন বাংলাদেশের কেউ। র‍্যাংকিংয়ে ৯৬ ধাপ এগিয়ে থাকা দলের গোলরক্ষককে একা পেয়ে গেলেন মাহবুবুর রহমান সুফিল। বিরতির পর জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠা। রক্ষণে দুর্গ গড়ে আক্রমণের ঢেউ আটকানো। প্রতিপক্ষকে ভয় না পেয়ে খেলল চোখে চোখ রেখে। সাহসী ফুটবলেই খুলল স্বপ্নের দুয়ার। কাতারকে ১-০ গোলে হারিয়ে পৌঁছে গেল নক আউটে। একের পর এক সুযোগ নষ্টের পর ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে জামাল ভূঁইয়ার নজরকাড়া গোল। এ গোলেই প্রথমবার এশিয়ান গেমসের নক আউটে বাংলাদেশ। অধিনায়ক হয়ে জামাল ভূঁইয়া পৌঁছে দিলেন স্বপ্নের বন্দরে।

ম্যাচ শেষে মাঠে ঢুকে পড়লেন কোচ জেমি ডে। তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লেন ফুটবলাররা। হাতের কাছে উৎসবের জন্য ছিল না কিছু। পানি ছিটিয়ে ইতিহাস গড়ার উৎসব। পিছিয়ে পড়া, ঝিমিয়ে পড়া ফুটবলকে জাগাতে দরকার ছিল এমন একটা জয়। আরাধ্য সেই জয়টা এলো আজ বেকাসির প্যাট্রিয়ট চন্দ্রভাগা স্টেডিয়ামে। নিজেদের গ্রুপে এক জয় ও এক ড্রতে বাংলাদেশের পয়েন্ট ৪। তাই গ্রুপ রানার্স আপ। টানা তিন জয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন উজবেকিস্তান।

৯০ মিনিট শেষের পর গোলরক্ষক আশরাফুলের ভলি। সেখান থেকে একজন বল বাড়ালেন জামাল ভূঁইয়াকে। ডি-বক্সের বাইরে থেকে বল পেয়ে দুজনকে ফাঁকি দিয়ে জামালের ডান পায়ের মাটি কামড়ানো শটে পরাস্ত কাতারের গোলরক্ষক। কুশল এবং কার্যকারিতায় এ গোল দীর্ঘকাল বেঁচে থাকবে এ দেশের ফুটবল স্মৃতিতে।

ম্যাচের আগে দুই দলেরই একটা চোখ ছিল উজবেকিস্তান-থাইল্যান্ড ম্যাচে। কারণ শেষ ম্যাচের আগে বাংলাদেশ ও কাতারের পয়েন্ট সমান ১ করে। কিন্তু গোল গড় বাংলাদেশ মাইনাস তিন আর কাতারের মাইনাস ছয়। থাইল্যান্ডের ২ পয়েন্ট হলেও গোল গড় ছিল শূন্য। তাই অঙ্কটা এমন দাঁড়ায় বাংলাদেশ-কাতারের ম্যাচ ড্র হলে জেমি ডের দলের প্রথমবার এশিয়ান গেমসের নক আউটের জন্য ০-৪ গোলে হারতে হবে থাইল্যান্ডকে। কিন্তু বাংলাদেশের জয়ে জটিল অঙ্কে যেতে হলো না আর। উজবেকদের কাছে থাইল্যান্ডের ১-০ ব্যবধানের হারে আর অতশত ভাবতে হয়নি বাংলাদেশকে। বাংলাদেশ টুর্নামেন্টটা খেলছে ৪-২-৩-১ ছকে। রক্ষণ ঠিক রেখে প্রতি-আক্রমণে গোলের চেষ্টা। চতুর্থ মিনিটেই তৈরি হয় একটা সুযোগ। ডি-বক্সের ভেতর থেকে নেওয়া আকিকুর রহমানের শট হয় লক্ষ্যভ্রষ্ট। আগের ম্যাচে দুটো সুযোগ নষ্ট করেছিলেন মাহবুবুর রহমান সুফিল। এরপর প্রতিজ্ঞা করেন সুযোগ পেলে মিস করবেন না আর। অনুশীলনে পোস্টে শটের আলাদা সেশনও ছিল তাঁর জন্য। এর পরও প্রথম ২০ মিনিটেই মিস করে ফেলেন দুটি সুযোগ। প্রথমটা অষ্টম মিনিটে। বাঁ প্রান্ত থেকে বল পেয়েছিলেন ডি-বক্সে ভালো জায়গায়। কিন্তু শট মারলেন বাইরে। ১৭ মিনিটে সেই সুফিল করলেন অমার্জনীয় ভুল। এবার গোলরক্ষককে পেলেন একা। কিন্তু সুফিল মারলেন সোজা গোলরক্ষকের হাতে।

র‍্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকা কাতারের যুবারা খুব যে ছন্দোময় ফুটবল খেলছিলেন, তা নয়। তবে বক্সের আশপাশে শুরুতে কয়েকটা ফাউল করায় পর পর ফ্রি কিক পাচ্ছিল তারা। এর একটি নষ্ট হয় অল্পের জন্য। ২১ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া আল সাদি আহমেদের ফ্রি কিক ফেরে পোস্টে লেগে। এতে কিছুটা আত্মবিশ্বাস ফিরে পায় কাতার। বাড়ে আক্রমণের ধার। ৩৬ মিনিটে হাসনিন হাতিমের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় অল্পের জন্য।

এক মিনিট পরই গোলের আরো একটি সোনালি সুযোগ পায় বাংলাদেশ। এবার মিস করলেন তপু বর্মণ। জামাল ভূঁইয়ার কর্নার থেকে লাফিয়ে নিয়েছিলেন হেড। কিন্তু তা রুখে দেন গোলরক্ষক। ওদিকে ৩৯ মিনিটে দারুণ সেভে বাংলাদেশকে বাঁচান গোলরক্ষক আশরফুল ইসলাম। আল সামারাই মেশালের শট ফেরান তিনি কর্নারের বিনিময়ে।

বিরতির পর গোলরক্ষক বদলায় কাতার। বেদেলদিন মারওয়ানের বদলে নামেন ইব্রাহিম মোহামেদ। ৫৭ মিনিটে মাসুক মিয়া দুর্দান্ত ক্রস ফেলেছিলেন বক্সে। বলের লাইনেই ছিলেন মাহবুবুর রহমান। কিন্তু বিপক্ষের একজনের হেডে বিপদমুক্ত হয় সেটা। ৬৫ মিনিটে বিপলু আহমেদের পায়ের কাজে ছিল লাতিন শিল্প। তিন-তিনজনকে কাটিয়ে ঢুকে পড়েছিলেন বক্সে। দৌড়ে ছিল কবিতার ছন্দ। সেটা পরিণতি পায়নি বিপলু সরাসরি গোলরক্ষকের শরীর বরাবর শট নেওয়ায়। কাতারও পেয়েছিল সুযোগ। কিন্তু দিনটা ছিল বাংলাদেশের। স্বপ্নডানায় চড়ে এখন নক আউটে জেমি ডের দল। টুর্নামেন্টের আগে আস্থা না রেখে নক আউটের আগে ফেরার টিকিট কেটে রাখার জবাব এভাবেই দিলেন ফুটবলাররা।

বাংলাদেশ আগের দুটো ম্যাচ খেলেছিল বোগরের পেকানসারি স্টেডিয়ামে দিনের আলোয়। গতকাল খেলল বেকাসির প্যাট্রিয়ট চন্দ্রভাগা স্টেডিয়ামে। পশ্চিম জাভার অসাধারণ এই স্টেডিয়ামে দর্শক আসন ৩০ হাজার। কিন্তু সব মিলিয়ে গ্যালারিতে নেই ১৫০ জনও। যে কয়েকজন ছিল তাদের বেশির ভাগই গলা ফাটাচ্ছিল কাতারের হয়ে। কিন্তু তাদের উচ্ছ্বাস থামিয়ে ম্যাচ শেষে উৎসবে মেতেছে বাংলাদেশই।