জাতীয়

স্বপ্নের গাড়ি ‘স্পিডকার’ বানালেন সেলিম

এফপি

ডেস্কনিউজ; মো. সেলিম শেখ ছোট বেলা থেকেই স্বপ্ন দেখেন নতুন কিছু আবিষ্কারের। তার সেই স্বপ্ন সফল হয়েছে নতুন গাড়ি নির্মাণের মাধ্যমে। যার নাম তিনি দিয়েছেন ‘স্পিডকার’। এই স্পিডকার নির্মাণ করেছেন ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার চতুল ইউনিয়নের চতুল গ্রামের আফসার শেখ ও সাবিনা বেগমের ছেলে মো. সেলিম শেখ।

বোয়ালমারীর মানুষের আলোচনায় এখন সেলিম আর তার স্পিডকার। গত ৩০ জুলাই প্রথম রাস্তায় নামানো হয় তার স্বপ্নের গাড়িটি। ১ আগস্ট গাড়িটি নজরে পড়ে বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাকির হোসেনের। তিনি নিজে গাড়িটি চালিয়ে দেখেন। সেলিমের এই গাড়ি দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে দলে দলে ছুটে আসছে মানুষ।

২০০৫ সালে চতুল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০১০ সালে বোয়ালমারী সরকারি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। এরপর বাড়ির পাশে একটি রাইচ মিল দিয়ে একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি।

ছোট থেকেই বিভিন্ন প্রকার যন্ত্রপাতি তৈরি তার নেশা ছিল। তখন থেকেই তিনি স্বপ্ন দেখেন বড় কিছু আবিষ্কার করার। এর আগেও তিনি পানির ট্যাংকির অটো সার্কিট তৈরি করেন। ট্যাংকি খালি হয়ে গেলে এবং ভরে গেলে অটোমেটিকভাবে মোটর চালু ও বন্ধ হয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা ছিল। তবে পরে আর তিনি সেটি বাজারজাত করতে পারেননি।

ছোট ছেলের জন্য একটি গাড়ি বানানোর কাজ শুরু করেন সেলিম। ছোট চাকা না পেয়ে ইজিবাইকের চাকা দিয়েই তিনি কাজ শুরু করেন। মেঝেতে কাঠ আর পাশে প্লেনশিট দিয়ে তৈরি করা হয় গাড়ির বডি। অটোরিকশার এক হর্স (৭৫০ ওয়াট) পাওয়ারের একটি মোটর আর ব্যাটারি লাগানো হয় তাতে। এ অবস্থায় গাড়িটি প্রায় ৪৫ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারে। এ গাড়িতে বসার আসন রাখা হয় ২টি।

গাড়িটি নির্মাণ করতে তার খরচ হয়েছে ৫৫ থেকে ৬০ হাজার টাকা। অবসর সময়ে বসে গাড়িটি বানিয়েছেন তিনি। তাই মজুরি ধরা হয়নি। তবে সেই মজুরি দশ হাজার টাকার বেশি হবে না বলে জানান এ আবিষ্কারক।

সেলিম জানান, তার এই গাড়িটি বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আনতে চান। সেজন্য সরকারি, বেসরকারি সহযোগিতা চান তিনি। ইজিবাইকের মতো একটি গাড়ি তিনি এক লাখ দশ হাজার টাকার মধ্যে বাজারে দিতে পারবেন।

সেলিম শেখ বলেন, স্বপ্ন ছিল, ইচ্ছা ছিল, মেধা ছিল কিন্তু সাধ্য নেই। নিজের চেষ্টায় চাল কল করে জীবিকা নির্বাহ করি। আর এ সকল কাজ আমার শখ এবং স্বপ্ন। সরকার বা এনজিও যদি আমাকে সহযোগিতা করে তাহলে কারখানা করে বাণিজ্যিকভাবে গাড়ি উৎপাদন করা যাবে। এ গাড়ি নিয়েই এখন তিনি হাটবাজার করাসহ বিভিন্ন কাজ সারছেন।

চতুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শরীফ সেলিমুজ্জামান লিটু বলেন, সেলিম আমার এলাকার ছেলে। ছোট থেকেই সে এসব যন্ত্রপাতির কাজ করে আসছে। সে এখন চতুলবাসীর গর্ব। তাকে সহযোগিতা করার জন্য সরকার এবং বেসরকারি উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, চতুল উচ্চ বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে ছোট্ট ওই গাড়িটি আমার চোখে পড়ে। তাৎক্ষণিক গাড়ি থেকে নেমে ওই ছোট্ট গাড়িটিতে চড়ে চালিয়ে দেখি। আকর্ষণীয় রঙের গাড়িটি দেখতে খুব সুন্দর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here