লাইফস্টাইল

‘স্তন’ উচ্চারণে লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই।

এফপি

ডেস্কনিউজ; আমাদের দেশে মেয়েদের উত্যক্ত করার সবচেয়ে সুন্দর উক্তিঃ তোমার ব্রা’র সাইজ কত? বুকের মাপ কত? জীবনে বহুবার এই উক্তিকে কানে না মেখে চলে গিয়েছি না শোনার ভান করে। কিন্তু যখন প্রতিবাদ করতে শিখলাম তখন ঘুরে দাঁড়িয়ে বলেছি- তোমার মায়েরটা, বোনেরটা কত? সেগুলির খোঁজ নাও।

একটু বড় হওয়ার পর দেখলাম মেয়েরা ‘স্তন’ শব্দটা উচ্চারণেও ভীষণ লজ্জা পায়। কারণ আর কিছুই না। ছোটোবেলা থেকে শেখানো হয়- স্তন ব্যাপারটা খুব লজ্জার, সেটা ঢেকে রাখতে হয় নানারকম কাপড় দিয়ে। একটু বড় হলে যখন স্তনের কারণে ওড়না পরা শুরু হয় তখন সবচেয়ে বড় চেষ্টা করা হয় ‘আমার স্তন নেই’ এমন একটা ভাব দেখানোর!

স্তন ক্যান্সারে কতজন মেয়ে মারা যায় তার ইয়ত্তা নেই। তবুও থেমে নেই স্তনকে আকর্ষণীয় করে তোলার ভুল চেষ্টা। কারণ পুরুষতান্ত্রিক সমাজ শিখিয়েছে স্তন থাকবে ধনুকের ছিলার মতন টানটান, সুডৌল। যদি তা না হয় তাহলেই শুরু হয়ে যায় ব্রেস্ট ক্রিম, ব্রেস্ট এসেন্স আর ফোমওয়ালা শক্ত কার্ডের মতন ব্রা পরে নিজেকে আদর্শ স্তনের অধিকারিণী প্রমাণের অপচেষ্টা। সেই সঙ্গে স্তনের আকৃতি একটু বড় হলে ঝুঁকে হাঁটা তো থাকেই।

গবেষণায় দেখা গেছে শতকরা আশিজন মেয়ে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয় টাইট ব্রা, ব্রেস্ট ক্রিম আর বগলের ডিওডোরেন্টের কারণে। ছেলেদের শুধরানোর কথা ছেড়েই দিলাম, মেয়েদের বলছি- সৌন্দর্য নিয়ে কবরে যাওয়ার ইচ্ছে না থাকলে দিনের একটা নির্দিষ্ট সময় ব্রা পরা ছেড়ে দিন, অতিরিক্ত ডিওডরেন্ট আর কেমিক্যাল শরীরে ব্যবহার করবেন না। ‘স্তন’ উচ্চারণে লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই।

সচেতনতায় মেরুদণ্ড সোজা হোক আপনার। কারণ রোগের কাছে লজ্জার কিছু নেই, রোগ লুকানোতেই লজ্জা!

জান্নাতুন নাঈম প্রীতি‘র ফেসবুক থেকে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here