আজকের সেরা সংবাদ

সারাদেশে বন্দুকযুদ্ধে নিহত আরও ১১

ফাইল ছবি

সারাদেশে চলমান মাদকবিরোধী অভিযানের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে আরও ১১ জন নিহত হয়েছে। র‍্যাব ও পুলিশ এসব ঘটনাকে বর্ণনা করে আসছে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হিসেবে।

গতকালও বন্দুকযুদ্ধে নিহত ৯ জনকেও মাদক বিক্রেতা বলে দাবি করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত র‍্যাব ও পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে কুমিল্লায় ২, নীলফামারীতে ২, চট্টগ্রামে ১, নেত্রকোনায় ১, দিনাজপুরে ১, নারায়ণগঞ্জে ১, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১ ও চুয়াডাঙ্গায় ১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতরা সবাই মাদক বিক্রেতা বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

কুমিল্লা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও থানা পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে শরীফ (২৬) ও পিয়ার (২৮) নামে দুই যুবক নিহত হয়েছেন। নিহতরা তালিকাভুক্ত শীর্ষ দুই মাদক বিক্রেতা বলে দাবি করেছে পুলিশ। সোমবার রাত পৌনে একটার দিকে জেলা সদরের অদূরে বিবিরবাজার অরণ্যপুর এলাকায় মাদক বিক্রেতাদের আটক করতে গিয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে দুই রাউন্ড গুলিসহ একটি রিভলবার, একটি পাজেরো জিপ, ৫০ কেজি গাঁজা এবং ৫০০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে।

অভিযানকালে কোতয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) রূপকুমারসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন কোতয়ালি মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আবু ছালাম মিয়া।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সীমান্ত এলাকা থেকে মাদকের একটি বড় চালান আসছে এমন খবর পেয়ে পুলিশের একাধিক টিম ওই এলাকায় অবস্থান নেয়। রাত পৌনে ১টার দিকে মাদক বিক্রেতারা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এ সময় পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এতে শীর্ষ মাদক বিক্রেতা শরীফ, পিয়ার আলী ও সেলিম গুরুতর আহত হন। তাদের উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত ডাক্তার মাদক বিক্রেতা শরীফ ও পিয়ারকে মৃত ঘোষণা করেন।

নীলফামারীর সৈয়দপুরে সোমবার রাত আড়াইটার দিকে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে দুই মাদক বিক্রেতা নিহত হয়েছেন। এ সময় মাদক বিক্রেতাদের ককটেলের আঘাতে ৪ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে ককটেল, দেশীয় অস্ত্র , ইয়াবা এবং একটি মোটরসাইকেল জব্দ করেছে পুলিশ।

নিহতরা হলেন- সৈয়দপুর পৌর শহরের ইসলামবাগ মহল্লার আব্দুল হান্নানের ছেলে মো. জনি হোসেন (২৭) ও নিচু কলোনী মহল্লার ইউসুফ হোসেনে ছেলে শাহিন আহমেদ (৩০)।

সৈয়দপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অশোক কুমার পাল জানান, সোমবার সন্ধ্যার পর ইসলামবাগ মহল্লা থেকে জনিকে এবং নিচু কলোনী মহল্লা থেকে শাহিনকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের তথ্য অনুযায়ী বাইপাস মহাসড়কের গোলাহাট বধ্যভূমি এলাকায় অপর দুই মাদক বিক্রেতা জসিয়ার ও নূর বাবুকে ধরতে ও মাদক উদ্ধারে গেলে সন্ত্রাসীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ও ককটেল ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এই সুযোগে গ্রেফতার জনি ও শাহিন পালানোর চেষ্টা করলে দু’পক্ষের গোলাগুলিতে তারা নিহত হন।

এদিকে চট্টগ্রাম নগরের বায়োজিদ থানার ডেবারপাড় এলাকায় র‍্যাবের সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ শুক্কুর আলী (৪৩) নামে এক শীর্ষ মাদক বিক্রেতা নিহত হয়েছেন। সোমবার রাত আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

এছাড়া চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় পুলিশের সঙ্গে বন্ধুকযুদ্ধে কামরুজ্জামান সাধু নামে এক চিহ্নিত মাদক বিক্রেতা নিহত হয়েছে। সোমবার রাত ২টার দিকে শহরের রেলস্টেশনের পেছনে এ বন্ধুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশি পিস্তল, ৩ রাউন্ড গুলি ও ১ বস্তা ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, রাতে বিশেষ অভিযানে বের হয় থানা পুলিশ। পুলিশের গাড়ি আলমডাঙ্গা রেলস্টেশনের নিকট পৌঁছলে তাদের গাড়িকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে দুর্বৃত্তরা। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এক পর্যায়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করেন। গোলাগুলির শব্দে স্থানীয় এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে এসে মরদেহটি কামরুজ্জামান সাধুর (৪৫) বলে শনাক্ত করেন।

আলমডাঙ্গা থানার ওসি আবু জিহাদ খান জানান, নিহত কামরুজ্জামান সাধু থানার তালিকাভূক্ত মাদক বিক্রেতা। তার বিরুদ্ধে থানায় ৬টি মাদক মামলা রয়েছে। একটি মামলায় তার ৩ বছরের সাজা হয়েছে।

নেত্রকোণায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মঙ্গলবার ভোরে আমজাদ নামে এক অস্ত্রধারী মাদক বিক্রেতা নিহত হয়েছে। এ সময় সদর থানার ওসিসহ আরও ৫ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

পুলিশ জানায়, সোমবার রাত ২টার দিকে অভিযান চালিয়ে মাদক বিক্রেতা আমজাদকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তার দেয়া তথ্যমতে সদর উপজেলার মেদনী ইউনিয়নের বড়য়ারী এলাকায় অভিযান চালানোর সময় পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা তার সহযোগীরা পুলিশের উপর হামলা চালায়। এ সময় আমজাদ নিহত হয়।

নেত্রকোণা মডেল থানার ওসি বোরহান উদ্দিন জানান, আমজাদ একজন ভাড়াটে খুনি ও অস্ত্রধারী মাদক বিক্রেতা। তার বিরুদ্ধে থানায় ১৩টি বিভিন্ন মামলা রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় মঙ্গলবার ভোরে র্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে বাচ্চু খান (৩৫) নামে এক মাদক বিক্রেতা নিহত হয়েছেন। এসময় র‍্যাব তাদের ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকার, বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও বিদেশি অস্ত্র উদ্ধার করেছে।

র‍্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদক উদ্ধারে গেলে বাচ্চুসহ তিন মাদক বিক্রেতা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে ও র‍্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ সময় র‍্যাবও পাল্টা গুলি ছুড়লে ঘটনাস্থলেই বাচ্চু নিহত হয় এবং বাকি দুজন পালিয়ে যায়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে র‍্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ধন মিয়া (২৮) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। সোমবার রাত ২টার দিকে উপজেলার সোনারামপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত যুবক ধন মিয়া মাদক বিক্রেতা বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

ফেনীর সদর উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের লেমুয়া এলাকায় গতকাল সোমবার রাতে তথাকথিত বন্দুকযুদ্ধে মঞ্জুর আলম মঞ্জু এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

আজ মঙ্গলবার সকালে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)-৭ সিপিসি-১ এর অধিনায়ক স্কোয়াড্রন লিডার শাফায়াত জামিল ফাহিম দাবি করেন, ‘রাতে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি মাইক্রোবাসকে থামতে বলা হয়। কিন্তু চালক সিগনাল অমান্য করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তখন র‍্যাব সেটিকে ধাওয়া দেয়।’

‘একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা মাইক্রোবাস ফেলে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে এবং র‍্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। র‍্যাবও পাল্টা গুলি ছুড়ে। এতে মঞ্জুর আলম মঞ্জু গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাঁকে ফেনী সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’

স্কোয়াড্রন লিডার শাফায়াত জামিল ফাহিম আরো দাবি করেন, মঞ্জুর দেহ তল্লাশি করে ১০ হাজার ইয়াবা, একটি বিদেশি পিস্তল, সাতটি গুলি, পাঁচটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়।

‘মঞ্জু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত মাদক বিক্রেতা। তাঁর লাশ ফেনী সদর হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য রাখা হয়েছে।