আর্ন্তজাতিক

সরকার গঠনে প্রয়োজনীয় সমর্থন পেয়ে গেছেন ইমরান!

ইমরান খানের দল ‘পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ’ (পিটিআই) দাবি করেছে, সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয়সংখ্যক আইন প্রণেতার সমর্থন তারা পেয়ে গেছে। পিটিআই এও জানিয়েছে, আগামী ১৪ আগস্ট পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিতে আসা ৬৫ বছর বয়সী ইমরান খান।

এদিকে নির্বাচনে কারচুপি ও সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপের অভিযোগের মধ্যে গতকাল রবিবার করাচি ও শিয়ালকোটে পরিত্যক্ত প্রায় ১২টি খালি ব্যালট পেপার এবং পাঁচটি ব্যালট বাক্স পাওয়া গেছে।

গত বুধবার পাকিস্তানের ১১তম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পূর্ণাঙ্গ ফল প্রকাশিত হয় গত শনিবার। তাতে সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে পিটিআই; ১১৬টি। ৬৪ ও ৪৩ আসন নিয়ে দ্বিতীয় ও তৃতীয় হয়েছে যথাক্রমে ‘পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ’ (পিএমএল-এন) এবং ‘পাকিস্তান পিপলস পার্টি’ (পিপিপি)।

মোট আসন ২৭২টি। সরকার গঠন করতে দরকার অন্তত ১৩৭টি আসন। সেই হিসাবে পিটিআইয়ের আরো ২১ জন আইন প্রণেতার সমর্থন দরকার। সেই সমর্থন এরই মধ্যে পাওয়া গেছে বলে গত শনিবার দাবি করেন পিটিআইয়ের মুখপাত্র ফাওয়াদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘আমরা সমর্থন পেয়ে গেছি। আল্লাহ চাইলে আমরা এখন সরকার গঠন করব।’ তবে কতজন আইন প্রণেতার সমর্থন পাওয়া গেছে, তা তিনি সুনির্দিষ্ট করে বলেননি।

পিটিআইয়ের আরেক মুখপাত্র ফয়সাল জাবেদ খান বলেন, ‘ইমরান খান আগামী ১৪ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন।’ উল্লেখ্য, ১৪ আগস্ট পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস।

এদিকে নির্বাচনে কারচুপি এবং সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপের অভিযোগ আরো চাঙ্গা হয়েছে। গতকাল পাঞ্জাবের শিয়ালকোট শহরে পাঁচটি ফাঁকা ব্যালট বাক্স পাওয়া গেছে। এগুলো সেনানিবাসের মধ্যে অবস্থিত ‘কাশ্মীর পার্ক’ এলাকায় পড়ে ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা বাক্সগুলো সেখানে ফেলে রেখেছে।

যে এলাকায় বাক্সগুলো পাওয়া গেছে, সেটি ৭৩ নম্বর আসনের অন্তর্গত। সেখানে পিএমএল-এন প্রার্থী খাজা মোহাম্মদ আসিফের কাছে হেরে যান পিটিআই প্রার্থী উসমান দার। তাঁর অভিযোগ, পিএমএল-এনের লোকজন ব্যালট বাক্সগুলো স্থানীয় ভোটকেন্দ্র থেকে চুরি করেছিল। তবে খাজা আসিফ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

একই দিন ফাঁকা ১২টি ব্যালট পেপার পাওয়া যায় করাচির কাইয়ুমাবাদ এলাকায়। সেখানে একটি ময়লার ভাগারের মধ্যে ব্যালটগুলো পড়ে ছিল। তবে কী উদ্দেশ্যে কিংবা কারা এগুলো ফেলে রেখেছে, তা তাত্ক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

নির্বাচনের আগেই অভিযোগ ওঠে, পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ইমরানের পক্ষে কাজ করছে। নির্বাচনের পরও এ অভিযোগ অব্যাহত আছে। সেই সঙ্গে আছে ভোট কারচুপির অভিযোগও। এসব অভিযোগে এবং নতুন করে নির্বাচনের দাবিতে এরই মধ্যে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে অন্তত ১২টি রাজনৈতিক দল। এ ছাড়া পার্লামেন্টে পিটিআইকে চাপের মধ্যে রাখতে যৌথ কৌশল নির্ধারণে একমত হয়েছে পিএমএল-এন এবং পিপিপি। দু-এক দিনের মধ্যেই দুই দলের শীর্ষ নেতা এ নিয়ে বৈঠকে বসবেন।

‘ভয়েস অব করাচি’র চেয়ারম্যান নাদিম নুসরাত অভিযোগ করেছেন, পিটিআইকে জেতাতে এবারের নির্বাচনে সেনাবাহিনী ব্যাপক হস্তক্ষেপ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত মহাজির সম্প্রদায়ের এ নেতা বলেন, ‘সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ এবারের নির্বাচনকে শুরু থেকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। ইমরান এবং পিটিআই সবক্ষেত্রেই বিশেষ সুবিধা পেয়েছে।’ সূত্র : ডন, টাইমস অব ইন্ডিয়া।