লাইফস্টাইল

সম্পর্ক দূরত্বের পর যেভাবে ফিরবেন স্বাভাবিক ছন্দে

স্বামী-স্ত্রী হোক বা প্রেমিক-প্রেমিকা, বর্তমানে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই উভয়েই কর্মরত। কর্মরত থাকলে ব্যস্ততাও তার হাত ধরেই থাকে যার কারণে আসে সম্পর্কে দূরত্ব। যুগলের অগোচরেই সেই দূরত্ব ধীরে ধীরে বাড়তে বাড়তে চরমে পৌঁছায়। মানুষ ভুলে যায় যে কাজকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে তাদের সম্পর্ক ধুলোয় মিশে যাচ্ছে।

সম্পর্কের প্রধান চাবিকাঠিই হলো যথার্থ যোগাযোগ, একসাথে সময় কাটানো। অথচ এই পথে না গিয়ে ধীরে ধীরে মনের না-বলা কথার পাহাড় জমিয়ে তার পরিণতি হচ্ছে ডিভোর্স বা ব্রেকাপ। সম্পর্ক গড়ে উঠতে যা সময় লাগে , তা ভাঙতে মাত্র এক মুহূর্ত সময় লাগে। অথবা কিছু বুঝে ওঠার আগেই অনেকক্ষেত্রে সম্পর্ক ভেঙে যায়। অথচ সামান্য কিছু নিয়ম মেনে চললে সম্পর্কের মাধুর্য্য কখনো শেষ হয়না, এটা আমাদের মাথায় রাখা প্রয়োজন।

১. যত বড়ো পদেই চাকরি করুন না কেন, অফিসের কাজ অফিসেই সেরে আসুন। সারাদিন অফিস সেরে বাড়ি ফিরে পরিবারের সঙ্গে পারিবারিক বিষয়েই কথা বলুন।

২. বাড়ি ফিরেই ফেসবুক বা হোয়াটআপ স্ক্রল করা থেকে বিরত থাকুন। ফেসবুক কক্ষনোই আপনার সম্পর্কের থেকে উর্ধে থাকতে পারেনা। তাই নয় কি?

৩. একসঙ্গে খাবার খাওয়ার সময় বা সময় কাটানোর সময় আপনার পার্টনারকে জিজ্ঞেস করুন তার সারা দিন কেমন গেলো এবং আপনিও আপনার সারাদিনের জার্নি শেয়ার করুন, এতে দুজনেই দুজনের কাজ সম্পর্কে জ্ঞাত থাকবেন, ফলে কাজের চাপ থাকলে আপনার পার্টনারের আপনার চাপ বুঝতে সুবিধে হবে।

৪. পরপর আপনাদের বেশকিছুদিন ধরে ঠিকমতো যোগাযোগ না হয়ে থাকলে একটু সময় বের করে বা ছুটির দিনে একটু বাইরে বেড়িয়ে আসুন। এটি সত্যি একটা সম্পর্ককে সুস্থভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করে, একসাথে সময় কাটাতে গিয়ে প্রচুর মনবরম স্মৃতি তৈরী হয়। মাঝেমধ্যে গিফট দেওয়াও প্রয়োজন, আপনি যে তার কেয়ার করেন এই বার্তায় পৌঁছায় পার্টনারের কাছে।

৫. সংসারের ছোট ছোট কাজ একসাথে করার চেষ্টা করুন, যেকোনো একজনের ঘরে সমস্তটা চাপিয়ে দেওয়া কখনোই উচিত নয়। সঙ্গাসারের প্রতি দুজনেরই দায়বদ্ধতা থাকা দরকার। কোনো একজনই মেশিনের ন্যায় কাজ করে যাবে তা হয়না। সবাই মানুষ, মেশিন নয়। একসাথে টুকটাক কাজ করলে সময়ও ভালো কাটবে কাজও হবে।

৬. জীবনকে একঘেয়ে করে ফেলবেন না, পার্টনার আপনার সাথে যতই কমিটেড থাকুক না কেন, মাঝেমধ্যে রোম্যান্টিক মেসেজ করুন, স্মাইলি পাঠান। এগুলি প্রেমে বা সম্পর্কে অক্সিজেনের যোগান দেয়।

৭. একে অপরের পছন্দ-এপছন্দ বা শখের দিকে খেয়াল রেখে কাজ করুন। সম্পর্ককে দিন দিন নতুন করে গড়ে তোলার চেষ্টা করুন।

মনে রাখবেন, একটা সম্পর্কে একে অপরকে “সময়” দেওয়ার চেয়ে বড়ো উপহার কিছু হতে পারেনা. আর একটা সম্পর্কের চেয়ে আপনার ব্যস্ততা বা কাজ কখনোই বড়ো হতে পারেনা। সম্পর্ক চারাগাছের ন্যায়, জল দিয়ে পরিচর্যা করলে বাড়বে, নাহয় মারা যাবে। সুতরাং সম্পর্ককে মর্যাদা দিন।