সারাদেশ

সবজির পাইকারি চেয়ে খুচরা দাম তিন-চার গুণ বেশি

রাজধানীর খুচরা বাজারে কাঁচামরিচ কেজি ১৮০ টাকা, করল্লা ৫০ টাকা। অথচ পাইকারি বাজারে এই দুই পণ্যের দাম যথাক্রমে ১০০ ও ১২ টাকা। মাঝখানে আর কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই এক বাজার থেকে আরেক বাজারে এসে দাম দ্বিগুণ, কোনো কোনো সবজির ক্ষেত্রে তিন-চার গুণ বেশি হয়ে যায়।

রাজধানীর সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার কারওয়ান বাজার আর মোহাম্মদপুর নতুন কাঁচা বাজার, টাউন হল বাজার, ভ্রাম্যমাণ সবজির ভ্যান ও বেশ কিছু বাজার ঘুরে দামের এই তফাত পাওয়া যায়।

কারওয়ান বাজারে সাধারণত রাত ১০টার পর থেকে সকাল ১০টা পর‌্যন্ত পাইকারি কেনাবেচা চলে। দিনের বেলায়ও পাইকারি বিক্রি হয় তবে সেটা রাতের দামে নয়।

রাতের কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা যায়, খুচরা বাজারের দামের সঙ্গে পাইকারি সবজির দাম আকাশ-পাতাল তফাত। খুচরা বাজারে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া কাঁচামরিচ পাইকারি মূল্য ৫০০ টাকা পাল্লা। অর্থাৎ কেজি ১০০ টাকা। আর করলার পাল্লা ৬০ টাকা, কেজি হিসেবে দাম পড়ে ১২ টাকা। খুচরা বাজারে এই কলার দাম প্রায় পাঁচ গুণ।

একই অবস্থা অন্যান্য সবজির বেলায়ও। পাইকারি বাজারে শসা কেজি ১০-১৫ টাকা; বেগুন (লম্বা), বরবটি, কচুর মুখী ২০-২৫ টাকা; গোল বেগুন ২০ টাকা; পটল, ঢেঁড়স, চিচিঙ্গা ১৪-১৬; মুলা ২০ টাকা। টমেটো ৭৫-৮০ টাকা। সদ্য ওঠা সিম বিক্রি হচ্ছে ১১০-১২০ টাকা কেজি দরে।

খুচরা বাজারে এসব সবজির দাম দ্বিগুণের বেশি। খুচরা বাজারে শসা কেজি ৫০-৬০ টাকা, বেগুন (লম্বা), বরবটি ৬০ টাকা, কচুর মুখী ৫০-৫৫ টাকা, গোল বেগুন ৫০ টাকা; পটল, ঢেঁড়স, চিচিঙ্গা ৪০-৫০ টাকা, মুলা ৪০ টাকা। টমেটো ১০০-১২০ টাকা। সিম বিক্রি হচ্ছে ১৬০-১৮০ টাকায়।

কারওয়ান বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ীদের দাবি, গত দুই সপ্তাহ ধরে সবজি বাজার একটু চড়া।

পাইকারি বিক্রেতা শাহজাহান বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে মালের দাম একটু বেশি। আবার এত বেশিও না। সবজির দাম ওঠানামা করবই।’

এই পাইকার আরও বলেন, ‘কোনো সবজি নতুন আসলে তার দাম বেশি থাকে। আবার সিজনের শেষে দাম বাড়ে। আমাদের থেকে নিয়া কে কি দামে বেঁচে তা তো আমরা জানি না। তবে সবাই একটু বেশি লাভ করতে চায়।’

পাইকারি বাজারেও সমস্যা আছে জানিয়ে শাহজাহান বলেন, ‘এক দোকান দেইখা আপনি মালের ঠিক দাম জানতে পারবেন না। কমপক্ষে তিনটা দোকানে কথা কইলে প্রকৃত দাম জানতে পারবেন।’

পাইকারি বাজারে মূল্যবৃদ্ধি হলেও দাম নাগালের মধ্যেই আছে বলে দাবি করেন বিক্রেতারা। কিন্তু খুচরা বাজারগুলোতে সবজির দাম তিন-চারগুণ পর্যন্ত বেশি নেয়া হচ্ছে। খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, পাইকারি কেনার পর নানা কারণে সবজিতে ঘাটতি পড়ে। তাই দাম একটু বেশি নিতে হয়।

পাইকারি আর খুচরার মধ্যে সবচেয়ে বেশি পার্থক্য দেখা যায় মহল্লায় ভ্রাম্যমাণ সবজির ভ্যানে।

মোহাম্মদপুরে ভ্যানগাড়িতে ফেরি করে নিয়মিত সবজি বেচেন মো. মাজিজুল। ঢাকাটাইমসকে তিনি বলেন, ‘কাওরান (কারওয়ান) বাজারে দাম বেশি থাকলে আমরা কি করুম? দৈনিক দাম বাড়ে। বাজারে গেলে বুঝতেন।’

কারওয়ান বাজারে অন্যান্য সবজির মধ্যে কাকরোল ও ঝিঙা ২০ টাকা কেজি, উস্তা ২০ টাকা, লতি ২০-৩০ টাকা। ধনিয়া পাতা কেজি ৪০ টাকা, পুদিনা কেজি ৬০ টাকা, বাঁধাকপি প্রতিটি ২০-২৫ টাকা, কাঁচা কলা হালি ১২-১৫ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৪০ টাকা প্রতিটি, চালকুমড়া প্রতিটি ১২-১৫ টাকা।

এসব পণ্য প্রায় দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে রাজধানীর খুচরা বাজারে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে কাকরোল, ঝিঙা, উস্তা বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা কেজি দরে। প্রতি কেজি কচুর লতি ৫০-৬০ টাকা, ধনিয়া ও পুদিনাপাতা ১০০ টাকা, বাঁধাকপি প্রতিটি ৩০-৩৫ টাকা, কাঁচা কলা হালি ২৫-৩০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া প্রতিটি ৮০-১০০ টাকা, প্রতি টুকরা (একটি কুমড়াকে ছয় টুকরো) ১৫-২০ টাকা, চালকুমড়া প্রতিটি ৩০-৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কারওয়ান বাজারে পাইকারি ফল বিক্রি হতে দেখা গেছে লেবু ১২ থেকে সাড়ে ১২ টাকা হালি দরে, আমড়া ৩০ টাকা কেজি, পেয়ারা ২০ টাকা কেজি, কাঁঠাল প্রতিটি ৩০-২৫০ টাকা, কাঁচা হলুদ ৫০ টাকা কেজি।

খুচরা বাজারে ২৫ টাকা হালির কমে মিলছে না লেবু। আমড়া ৫০-৬০ টাকা কেজি, পেয়ারা ৩০-৪০ টাকা। কাঁচা হলুদ ১০০-১২০ টাকা কেজি। কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন দামে। দেড়শো টাকার নিচে মিলছে না মাঝারি এই মৌসুমী ফল।

এদিকে ঈদুল আজহা সামনে রেখে এখনই বাড়তে শুরু করেছে মশলা ও মশলাজাতীয় পণ্যের দাম, যার প্রভাব দেখা গেছে পাইকারি বাজারেও। দেশি পেয়াঁজ পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ৪৬ টাকা কেজি দরে, ভারতীয় পেঁয়াজ ৩০ টাকা, ক্যাপসিকাম ২৩০ টাকা কেজি, দেশি আদা ৭০ টাকা, আদা চাইনিজ ৮০ টাকা, দেশি রসুন ৪৪ টাকা কেজি, বিদেশি ৪৬ টাকা।

খুচরা বাজারে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫৫-৬০ টাকা দরে, ভারতীয় পেঁয়াজ ৪০-৪৫ টাকা। ক্যাপসিকাম ২৬০-৩২০ টাকা কেজি, দেশি আদা কেজি ১০০ টাকা, আদা চাইনিজ ১১০-১২০ টাকা কেজি, দেশি রসুন ৮০-৯০ টাকা কেজি।

পাইকারি বাজারে বেড়েছে পুঁইশাকের দাম। প্রতি আঁটি বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা দরে। একই দরে বিক্রি হচ্ছে ডাঁটাশাক। অন্যান্য শাকের মধ্যে পালংশাক আঁটি ৮ টাকা ও হাইব্রিড পালংশাক ৬ টাকা, লালশাক ৭, পাটশাক ৬ টাকা, শাপলা ৫ টাকা, কলমি শাক ৪-৫ টাকা আঁটি।

খুচরা বাজারে ২৫-৩০ টাকার নিচে মিলছে না পুঁইশাক ও ডাঁটাশাক। আটি প্রতি কমপক্ষে ১০ টাকা গুনতে হচ্ছে লালশাক, পাটশাক, কলমিশাক ও শাপলার ক্ষেত্রে।