জাতীয়

শেষ সময়ে জমজমাট প্রচারণা

তফসিল অনুযায়ী গতকাল শনিবার ছিল নির্বাচনী প্রচারণার শেষ দিন। আগামীকাল সোমবার শুরু হবে ভোটগ্রহণ। ফলে শেষ সময়ে প্রচারণায় ব্যস্ত ছিল আওয়ামী লীগ। তারা শহরে পথসভা করেছে। ভোট চেয়েছে নগরবাসীর কাছে। বিএনপির প্রচারণা তেমন চোখে পড়েনি। তবে দুপুরের দিকে তারা দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে। সেখানে নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের পুলিশ ও সরকারি দল ভয়ভীতি দেখাচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের জন্য তারা ১০ দফা দাবি তুলেছে। ইসলামী আন্দোলন প্রচারণার পাশাপাশি নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ তুলেছে। বাসদের মেয়র প্রার্থীও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনেছেন। জাতীয় পার্টির প্রার্থীকে দল থেকে বহিষ্কারের পরও তিনি নির্বাচনী প্রচারণায় ছিলেন।

আওয়ামী লীগ : বরিশালে পথসভা করেছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। গতকাল বিকেল ৪টায় নগর ভবনের সামনে এ পথসভা করেন তিনি। এ সময় সাদিক প্রয়াত মেয়র শওকত হোসেন হিরনের স্বপ্নের নগরী বিনির্মাণে নৌকা প্রতীকে শেষবার ভোট দাবি করেন নগরবাসীর কাছে। সাদিক বলেন, ‘বরিশালে বিএনপি অসংখ্যবার নির্বাচিত হয়েও ছিটেফোঁটা উন্নয়ন করেনি। শুধু জনগণের সম্পদ লুটপাট করেছে। শওকত হোসেন হিরন নির্বাচিত হয়ে বরিশাল নগরীর ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। তাঁর স্বপ্ন ছিল এই নগরীকে দেশের সবচেয়ে উন্নত ও পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে গড়ে তোলা।’

অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন বলেন, ‘তিন সিটি নির্বাচনে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে মেয়র হবেন সাদিক আবদুল্লাহ। কারণ সাদিক বরিশালের মানুষের অন্তরের অন্তস্তলে পৌঁছে গেছেন। এর পরও বিজয়ী ঘোষণার আগে কেউ কেন্দ্র ছাড়বেন না। কারণ বিএনপি-জামায়াত নাশকতা করতে পারে। তাই সবাইকে সচেষ্ট থাকতে হবে।’

বরিশাল সিটি নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার গতকাল দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন।     ছবি : কালের কণ্ঠ

সেনাসহ ১০ দাবি বিএনপির : বিনা পরোয়ানায় দলীয় নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার নির্বাচন পর্যন্ত স্থগিত রাখার দাবি জানিয়ে বিএনপির মেয়র প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার বলেছেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের মুক্তি দিতে হবে। গ্রেপ্তার আতঙ্কে কর্মীরা ভোটে এজেন্ট হতে চাচ্ছে না। তাই বিলম্বে হলেও সেনা মোতায়েনের মাধ্যমে সব প্রার্থীর জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড সৃষ্টি করে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সব প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্ট ও নির্ধারিত পোলিং এজেন্টদের সুরক্ষা দিতে হবে।’

গতকাল বিএনপি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ওই সব দাবিসহ ১০ দফা দাবি তোলে। দলীয় কার্যালয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি তোলা হয়। অপর দাবিরগুলোর মধ্যে রয়েছে—বহিরাগতদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের নির্বাচন পর্যবেক্ষণে প্রশাসনকে সহযোগিতা প্রদান, আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগগুলোর দৃশ্যমান প্রতিকারের পাশাপাশি তথ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে আচরণবিধি সম্পর্কে ব্যাপক হারে প্রচার করতে হবে। এ ছাড়া ভোটকেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে আওয়ামী লীগ যে নতুন অফিস করেছে, তা বন্ধ করতে হবে।

ভোটে কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করে মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, বিভিন্ন উপজেলা থেকে দলীয় ক্যাডারদের আওয়ামী লীগ শহরে নিয়ে এসেছে। তারা এখন শহরের আবাসিক এলাকাগুলোতে অবস্থান করছে। ভোটের আগের রাতে ব্যালটে সিল মেরে ভোটের দিন ক্যাডারদের লাইনে দাঁড় করিয়ে মিডিয়ায় ভোটার উপস্থিতি দেখানোর উদ্যোগ নিয়েছে আওয়ামী লীগ। এভাবে ভোটের কারচুপি বাস্তবায়নের চেষ্টা থেকে বিরত না থাকলে ভোটের আগের দিন সব মেয়র প্রার্থীকে (আওয়ামী লীগ বাদে) নিয়ে তিনি বসবেন। সে অনুযায়ী ভোট চুরি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তার পরও ভোট কারচুপি হলে বরিশাল থেকেই সরকার পতনের আন্দোলন শুরু হবে।

এদিকে সন্ধ্যা ৬টায় সরোয়ার নগরের দলীয় কার্যালয় থেকে গণসংযোগে বের হলে তাঁকে আটকে দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসেন। আচরণবিধি মেনে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে বলেন। এ সময় বাধার মুখে সড়কে বসে পড়ে সরোয়ার ও তাঁর কর্মী-সমর্থকরা। তখন সরোয়ার দাবি করেন, তাঁর কর্মীদের আটক করা হচ্ছে গণহারে। হামলা করা হচ্ছে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ওপর। তাঁকে আচরণবিধির অজুহাতে প্রচারণায় নামতে দেওয়া হচ্ছে না। অথচ তিন ঘণ্টা সড়ক আটকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সমাবেশ করেছেন। তিনি নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের নীরব ভোট বিপ্লবের মাধ্যমে সরকারের এ জুলুমের প্রতিবাদ করার অনুরোধ করেন।

বিএনপির কাউন্সিলরের আওয়ামী লীগে যোগদান : বরিশাল জেলা বিএনপির মহিলাবিষয়ক সম্পাদিকা ৩০ জুলাইয়ের সিটি নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত সংরক্ষিত কাউন্সিলর আয়শা তৌহিদ লুনা আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন। শতাধিক বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী নিয়ে মহিলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শাহান আরা বেগমের হাতে ফুল দিয়ে লুনা আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন।

ইসলামী আন্দোলন : দলীয় মেয়র প্রার্থী ওবাইদুর রহমান মাহবুব গতকাল নগরীতে বিভিন্ন জায়গায় গণসংযোগ করেন। এ সময় তিনি বলেন, সব প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর জন্য নির্বাচনকালীন বিধি-নিষেধ থাকলেও সরকারি দলের প্রার্থীর জন্য আচরণবিধি ভিন্ন কি না, তা জানতে চায় নগরবাসী। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নগরীতে বহিরাগতদের অবস্থান নিষিদ্ধ থাকলেও নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর সপক্ষে বিজয় মিছিলে বেশির ভাগই ছিল বহিরাগত। শুধু তা-ই নয়, দলের নেতাকর্মীদের নেতৃত্বে প্রশাসন প্রটোকলে বিভিন্ন মহল থেকে স্বল্প অর্থের বিনিময়ে আগত লোকজন দ্বারা মিছিল করে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের পাশাপাশি নির্বাচনের আগেই জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা হয়েছে, যার দরুন নগরবাসী অতিষ্ঠ। এ ঘটনার পরও ভোটাররা নির্বাচনের দিন ভোট দিতে পারবে, নাকি খুলনা, গাজীপুরের মতো প্রহসনমূলক নির্বাচন দেখবে, তা নিয়ে চিন্তিত নগরবাসী।

বাম সংগঠন : বাসদের মেয়র প্রার্থী ডা. মনীষা চক্রবর্তী গতকাল দিনভর নগরের বিভিন্ন স্থানে প্রচারণা চালিয়েছেন। পথসভা করেছেন রসুলপুরে। সেখানে তিনি মেহনতি মানুষের পক্ষে কাজ করার জন্য মই প্রতীকে ভোট চেয়েছেন।