জাতীয়

শেখ হাসিনা ধরলা সেতুর দুই প্রান্তে পর্যটন কেন্দ্র চান এলাকাবাসী

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা সদর থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দুরত্বে শেখ হাসিনা ধরলা সেতু। উপজেলার মানুষের বিনোদনের তেমন কোনও ব্যবস্থা না থাকায় সেতুটি উদ্বোধনের পর থেকে প্রতিদিন কম-বেশি দর্শনার্থী বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুটে আসেন ধরলার তীরে। দিন দিন বাড়ছে পর্যটকদের সংখ্যা। তাই সেতুর দুই তীরে অবস্থিত বাঁধে স্থায়ীভাবে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবি উঠছে দর্শনার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্য থেকে।

সরজমিনে দেখা যায়, এ উপজেলার মানুষের বিনোদনের তেমন কোনও ব্যবস্থা না থাকায় সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দর্শনার্থীরা আড্ডায় মেতে ওঠেন এই স্থানটিতে। বিশেষ করে গোধুলী লগ্নে অস্ত যাওয়া সূর্য মুগ্ধ করে দর্শনার্থীদের। দর্শনার্থীদের সমাগমের কারণে চটপটি-ফুচকা ও বাদামওয়ালাদের আনাগোনাও চোখে পড়ার মতো।

সচতন মহল বলছেন, প্রকৃতির এ অপার সৌন্দর্য অনুভবের জায়গাটিতে পর্যটন কেন্দ্র হলে পাশ্ববর্তী জেলা রংপুর, লালমনিরহাটসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার মানুষ এখানে চড়ুইভাতি করতে ও সময় কাটাতে আসতো। সেতুর দুই তীরের নদীরক্ষা বাঁধের চারদিকে বিভিন্ন প্রজাতির সৌন্দর্যবর্ধক ঔষধি, ফুল ও বাহারি গাছের পাশাপাশি নারিকেল বা পাম জাতীয় গাছ লাগিয়ে সাজালে সেতুর দুইপাড়ের সৌন্দর্য আরও বেশি বেড়ে যেত। সেতুপাড়ে নদীরক্ষা বাঁধ দিয়ে সিমেন্টের বেঞ্চ জাতীয় কিছু নির্মাণের মাধ্যমে পর্যটকদের বসার ব্যবস্থা করলে আয় রোজগারের দ্বার খুলে যেত দরিদ্র ফেরিওয়ালাদের।

নাগেশ্বরী উপজেলা থেকে শেখ হাসিনা ধরলা সেতু আসা দেখতে নিখিল চন্দ্র রায় ও লিপি রানী জানান, সেতুটির দুই পাশে নদী রক্ষা বাঁধ খুবেই আকর্ষণীয় স্থান। এখানে ঘুরতে খুবেই ভালো লাগে । তাই সময় পেলে ঘুরতে আসি। সেতুর দুই পাড়ে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠলে ফুলবাড়ী ও নাগেশ্বরী উপজেলায় নতুন দিগন্তের সূচনা হবে।

স্থানীয় বাদশা আলমগীর, ব্যবসায়ী মমিনুল ইসলাম, শিক্ষার্থী নুরনবী মিয়া, হাবিবুর রহমান, অসীম কুমারসহ অনেকেই জানান, শেখ হাসিনা ধরলা সেতুটি উদ্বোধনের পর থেকে এখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক ভালো। খুব অল্প সময়ের মধ্যে আমরা রংপুর শহরে যেতে পারছি। ফুলবাড়ী উপজেলায় কোনও ধরনের বিনোদন না থাকায় প্রতিদিন একবার হলেও আমরা সেতুর পাড়ে এসে অনেক মজা করি। বর্তমান সরকার একটু উদ্যোগ নিলেই সেতুর দুই পাড়ে দৃষ্টিনন্দন একটি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তুলতে পারে।

সেতুর পাড়ের চটপটি ও ফুচকা ব্যবসায়ী কবির হোসেন জানান, সেতু উদ্ধোধনের দিন থেকেই এখানে চটপটি ও ফুচকা বিক্রি করছি। প্রতিদিনে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা আয় হয়। কিন্তু একটি বিনোদন কেন্দ্র হলে চটপটি ও ফুচকার দোকানও বাড়তো, বিক্রিও ভালো হতো।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা নিবার্হী অফিসার মাছুমা আরেফিন জানান, আমি অতি সত্তর সেতুর দুই পাশের রাস্তায় শোভাবর্ধনকারী ঔষধি গাছ বাসক লাগানোর ব্যবস্থা করবো। ফলে সেতুসহ নিকটবর্তী এলাকার সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে। সেই সাথে দর্শনার্থীর সংখ্যাও আরো বাড়বে বলে আমার বিশ্বাস। যেহেতু এ উপজেলায় বিনোদনের কোনও ব্যবস্থা নেই, বিষয়টি আমি খুব শীঘ্রই জেলা প্রশাসক স্যারকে জানাবো।

উল্লেখ্য, উপজেলা এলজিইডির তত্ত্বাবধানে ১৯১ কোটি টাকা ব্যয়ে সম্পূর্ণ দেশীয় অর্থ ও প্রযুক্তিতে ৯৫০ মিটার দীর্ঘ এই গার্ডার সেতুটি নির্মিত হয়েছে। চলতি বছরের ৩ জুন রবিবার সকাল সাড়ে ১০ টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম সড়ক সেতু ‘শেখ হাসিনা ধরলা সেতু’র শুভ উদ্বোধনের মাধ্যমে সর্বসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেন।