জাতীয়

রিপার আর কেউই রইল না

ভুবনবাংলা২৪ঃ ঢাকার অদূরে আশুলিয়ার গৃহবধূ রিপা আক্তারের কেউই রইল না আর। একজনের পোড়া লাশ কবরে রাখার শোক না কাটতেই এক এক করে লাশ হয়ে গেলেন দগ্ধ চার স্বজন।

গত নয় দিনের মধ্যে শ্বশুর-শাশুড়ি আর স্বামীর লাশ কবর দেওয়ার পর শেষ পর্যন্ত না ফেরার দেশে চলে গেল তার দুই বছরের মেয়ে আয়েশাও। রোববার বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকার একটি বাসায় স্বামী, সন্তান আর শ্বশুর-শাশুড়ি নিয়ে ভাড়া থাকতেন রিপা আক্তার। ২ নভেম্বর ভোরে ওই বাসায় গ্যাসের পাইপ লাইনে বিস্ফোরণের পর লাগা আগুনে দগ্ধ হয়েছিলেন বাসার পাঁচ সদস্যই। তাদের সবাইকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছিল। স্বামীর সঙ্গে রিপাও তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন।

বার্ন ইউনিটের চিকিৎসকরা জানান, ঘটনার পরের দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছিল রিপার শাশুড়ি হাসিনা বেগমের। ৫ নভেম্বর মারা যান তার শ্বশুর আরব আলী এবং ৬ নভেম্বর মৃত্যু হয় রিপার স্বামী আবদুর রবের। সর্বশেষ রোববার না ফেরার দেশে চলে গেল একমাত্র সন্তান আয়েশাও।

বার্ন ইউনিটের আবাসিক সার্জন পার্থ শঙ্কর পাল বলেন, শিশু আয়েশার শরীরের ৩২ ভাগ দগ্ধ ছিল। তবে আগুনে শ্বাসনালি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শুরু থেকেই শিশুটি মৃত্যুঝুঁকিতে ছিল। চিকিৎসকরা তাকে বাঁচাতে সব ধরনের চেষ্টাই করেছিলেন।

শেষ অবলম্বন মেয়ের মৃত্যুর পর বার্ন ইউনিটে হাউমাউ করে কাঁদছিলেন রিপা আক্তার। তিনি বলছিলেন, তার আর কিছু রইল না। কী নিয়ে এখন বাঁচবেন তিনি!

রিপার এক স্বজন জানান, রিপার শ্বশুরবাড়ি চুয়াডাঙ্গার গোয়ালপাড়ায়। স্বামীর লাশ নিয়ে গ্রামে গিয়েছিলেন তিনি। তখন দগ্ধ মেয়ে আয়েশাকে হাসপাতালে অন্য স্বজনরা দেখাশোনা করতেন। রোববার সকালে হাসপাতালে মেয়ের কাছে আসেন রিপা। বিকেলেই মারা গেল আয়েশা।