লাইফস্টাইল

যৌ’নতায় ভরপুর বিশ্বকাপে বেপরোয়া রাশিয়ান তরুণীরা! (ছবিসহ)

রাশিয়ায় বসেছে বিশ্বকাপের ২১তম আসর। এই বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে গোটা বিশ্ব থেকে অসংখ্য মানুষ এখন ভিড় জমিয়েছে রাশিয়ায়। কিন্তু বিশ্বকাপ শুরুর আগে থেকেই আলোচনায় আসে রাশিয়ান নারীরা।

এই ধারাবাহিকতায় বিশ্বকাপ ফুটবলে রাশিয়ান নারীদের আচরণে ভীষণ ক্ষুব্ধ হয়েছেন মস্কোর একটি পত্রিকার কলামিস্ট প্লাটন বেসেদিন। তার অভিযোগ, বিশ্বকাপ আসরকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার নারীরা নিজেদেরকে পর্নো তারকা হিসেবে পরিচিত করছেন। বিশেষ করে সম্প্রতি গ্যালারিতে একজন রাশিয়ান যুবতীর নাতালিয়া নেমছিনোভার ছবি ধরা পড়ে। তা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক প্রচার পায়। পরে জানা যায়, তিনি সাবেক একজন পর্নো তারকা। কিন্তু এ অভিযোগ অস্বীকার করেন নাতালিয়া।

প্লাটন বেসেদিন বলেন, ৫ বছর আগে একজন যুবকের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল। সেই ওইসব ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেছে। শুধু যে নাতালিয়া তা নয়। রাশিয়ার সুন্দরীরা বিদেশি খদ্দের ধরতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আশ্রয় নিচ্ছেন। বিশেষ করে বিদেশিদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সম্মতির পর যুবতীরা যেন বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।

মস্কোর রাজপথে তাদেরকে দেখা যাচ্ছে আপত্তিকর দৃশ্যে অভিনয় করতে। হুটহাট এখানে ওখানে তারা বিদেশিদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করছেন। এর মধ্য দিয়ে নিজেদের অবস্থানকে খর্ব করছেন রাশিয়ান নারীরা। এমন অভিযোগ ওই কলামনিস্টের। তিনি একাধারে একজন লেখক ও মনোবিজ্ঞানী। মস্কো থেকে প্রকাশিত মস্কোভস্কি কোমসোমোলটসে তিনি ওই কলাম লিখেছেন। তাতে তিনি রাশিয়ান যুবতীদের বিরুদ্ধে ধারালো আক্রমণ শাণিয়েছেন। রাশিয়ান নারীরা ‘বেশ্যার’ (হোরস) মতো আচরণ করছেন বলে তার অভিযোগ। এমন কুৎসিত তুলনায় তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাকে এ আর্টিকেল লেখার কারণে ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে।

কলামিস্ট প্লাটন বেসেদিনের বয়স ৩২ বছর। তিনি রাশিয়ার নারীদেরকে এর মাধ্যমে দুর্নীতিপরায়ন, নৈতিক স্খলিত বলে অভিহিত করেছেন। ওই আর্টিকেলে তিনি লিখেছেন, ‘সামাজিক নেটওয়ার্কগুলোতে ভিডিওতে সয়লাব। সেখানে যুবতীরা, শুধু যুবতীরাই নন, অন্য রাশিয়ান নারীরাও অতিমাত্রায় ব্যবহৃত যৌনকর্মীর মতো আচরণ করছেন। তাতে তারা তাদের সামাজিক দায়বদ্ধতাকে নিচু করছেন।

বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজন করা হয়েছে আমার মাতৃভূমির যেসব শহরে তার সর্বত্রই এই দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। বিদেশিদের সঙ্গে বহু রাশিয়ান নারীকে বেশ্যার মতো আচরণ করতে দেখা যাচ্ছে। উল্লেখ্য, সামাজিক ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, রাশিয়ান ‘হোর’ নারীরা বিশ্বকাপের বিদেশি ভক্তদের সঙ্গে শয্যাসঙ্গিনী হচ্ছেন।

আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, একজন নারী মদ্যপ। তিনি মস্কোর একটি বেঞ্চের ওপর। সেখানে পোল্যান্ডের একজন ফুটবল ভক্তের কাছ থেকে তিনি ‘ওরাল সেক্স’ উপভোগ করছেন। আর পাশে দাঁড়িয়ে ওই পোল্যান্ডের যুবকের বন্ধুরা তা প্রত্যক্ষ করছে। আরেকটি সেলফি ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তাতে একজন রাশিয়ান যুবতীকে দেখা যাচ্ছে আপত্তিকর অবস্থায়। তিনি মুখের ভিতর কনডম ধরে সেলফি তুলেছেন। তারপর সেই সেলফি প্রকাশ করা হয়েছে। এসব দেখে ক্ষেপে গিয়েছেন কলামিস্ট প্লাটন বেসেদিন। তিনি এ নিয়ে সোচ্চার হওয়ার পর নারীরা তার ওপর ক্ষেপেছেন।

তারা তাকে ক্ষমা চাওয়ার আহবান জানানোর পর কলামিস্ট প্লাটন বেসেদিন বলেছেন, আমরা চাই না রাশিয়া একটি ‘ভলগার হোর’ হিসেবে ভাবমূর্তি তুলে ধরুক বিদেশিদের কাছে। বিশ্বকাপে আমরা এরই মধ্যে প্রচুর হারিয়েছি আমাদের সেই ভাবমূর্তি।

তিনি আরো বলেছেন, নারীরা ডেটিং বিষয়ক ওয়েবসাইটগুলোতে নিজেদেরকে যৌনতার দিক দিয়ে ‘স্মার্ট’ দেখিয়ে বিজ্ঞাপন দিচ্ছেন। এটা স্পষ্ট যে, তাদের বেশির ভাগই অর্থ উপার্জনের জন্য এমনটা করছেন। অন্যরা বিদেশিদের সঙ্গে এমন সম্পর্কে জড়াচ্ছেন অন্য উদ্দেশে। তারা শুধু বিদেশিদেরকে ফাঁদে ফেলে তাদেরকে বিয়ে করার কৌশল খুঁজছেন। ওদিকে এসকর্ট সার্ভিসগুলো তাদের রেট বাড়িয়ে দিয়েছে। আবার কিছু রাশিয়ান যুবতী বিদেশিদের সঙ্গে কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই তাদের সঙ্গে বিছানায় যেতে প্রস্তুত। রাশিয়ান নারীরা মনে করছেন বিদেশিদের লজ্জাশরমের বালাই নেই। তারা সবচেয়ে বেশি তৃপ্তি দিতে পারেন।

কলামিস্ট প্লাটন বেসেদিন লিখেছেন, এর মধ্য দিয়ে আমরা বেশ্যা বা যৌনকর্মীদের একটি প্রজন্ম সৃষ্টি করছি। যারা বিদেশি পেলেই তাদের সব উজার করে দিতে প্রস্তুত। তার এমন লেখার প্রতিবাদ তীব্র হচ্ছে। বিখ্যাত কসমোপলিটন ম্যাগাজিনের লেখিকা গ্রিবাতস্কায়া একটি পিটিশন পোস্ট করেছেন প্রতিবাদ জানিয়ে। তাতে বলা হয়েছে, কলামিস্ট প্লাটন বেসেদিন তার লেখার মাধ্যমে রাশিয়ার নারীদের অবমাননা করেছেন। এ জন্য তাকে ক্ষমা চাইতে হবে। এ পিটিশনে ৬৫০০ এর বেশি নারী সমর্থন দিয়েছেন।