ধর্ম

যে ৮টি কাজ করলে মহান আল্লাহর সাথে সস্পর্ক গভীর হবে আপনার

মানুষকে আল্লাহপাক সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহপাক তার খলিফ রূপে মানুষকে এই দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন। কিন্তু মানুষ অনেক সময় এই কথাগুলো ভুলে যায় এবং আল্লাহর নাফরমানিতে ডুবে যায়। তাই মানুষের উচিত সব সময় সঠিক পথে চলার জন্য চেষ্টা করা। আল্লাহকে স্মরণ করা। একজন মানুষ কীভাবে তার সময়কে সঠিকভাবে ব্যয় করার মাধ্যম আল্লাহ মহানের সাথে সম্পর্ককে গভীর করতে পারবে এমন কিছু উপায় উল্লেখ করা হলো-

  1. আপনার সময় কীভাবে ব্যয় করছেন: আপনার কাজ ও বিনোদন থেকে ধর্মের বিষয়ে আপনার মনকে স্থীর করুন। সময় ব্যয় করার ক্ষেত্রে অনেক বেশি পরিমাণে সতর্কতা অবলম্বন করুন। আপনিই ঠিক করুন আপনার সময়কে আপনি কোন কাজে ব্যায় করবেন। আপনি চেষ্টা করুন দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে গিয়ে আদায় করতে। এটা করতে পারলে আপনার সময় অনেক ভালো কাটবে। সেই সাথে আপনি ভালো কিছু বন্ধু নির্বাচন করুন। যারা শুধু নামেই বন্ধু নয়। তাহলে আবশ্যই আপনার মাঝে আল্লাহর ভয় ও ভালোবাসা বৃদ্ধি পাবে।
  2. জ্ঞান অর্জন করুন: একজন মানুষ ধর্মীয় জ্ঞান ছাড়া চলতে পারে না। মানুষ যখন কোনো বিষয় শেখে তখন তার মাঝে একটি শারীরিক, মানসিক, বা আধ্যাত্মিক স্তর তৈরি হয় যা সার্বক্ষণ তার মাঝে কাজ করে। একটি হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, উপকারী জ্ঞান লাভের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করুন। এবং এমন জ্ঞান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করুন যা কোনো উপকারে আসে না। (ইবনে মাজাহ)
  3. শয়তানের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সচেতন হোন: কিছু মানুষ শুধু শুধু বিবাদ তৈরি করে এমন লোকদের থেকে বেঁচে থাকতে হবে। শয়তানের বিভেদ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে কুরআন বুঝে বুঝে পড়তে হবে।
  4. বিনয়ী হোন : অহংকার সব থেকে খারাপ একটি গুণ। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহপাক ইরশাদ করেছেন, আর তাদেরকে আদমের দু-ছেলের সঠিক কাহিনী ও শুনিয়ে দাও। তারা দুজন কুরবানী করলে তাদের একজনের কুরবানী কবুল করা হলো, অন্য জনেরটা কবুল করা হলো না। সে বললো, আমি তোমাকে মেরে ফেলব। সে জবাব দিল, আল্লাহ তো মুত্তাকিদের নজরানা কবুল করে থাকে (সুরা মায়েদা: ২৭) কোনো বিষয়েই অহংকার করা যাবে না। আহংকারকারীর আমল আল্লাহ কবুল করেন না।
  5. আপনার প্রধান লক্ষ্য হবে আল্লাহকে খুশি করা: এই লক্ষ্যটা সাভাবিকভাবে অনেক উচ্চস্তরের। আর এই স্তরটা অর্জন করতে হবে শুধুই অনুশীলনের মাধ্যমে। আপনি এই লক্ষ্যটা অর্জন করলেই সবসময় আল্লাহর কথা আপনার স্বরণ হবে। আপনি কখন কোন কাজ করছেন কেন করছেন? আপনার এই কাজ দ্বারা কি আল্লাহ সন্তুষ্ট হচ্ছেন? ইত্যাদি বিষয় আপনার মাথায় আসবে। অন্যথায় আপনার চিন্তায় এই বিষয়গুলো কাজ করবে না।
  6. আমি দুনিয়াতে কেন এসেছি: নিজেকে এই প্রশ্ন করতে পারলে আমাদের আধ্যাত্মিকতা এবং আল্লাহর সাথে সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা গভীর হবে। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাপাক ইরশাদ করেছেন, জিন ও মানুষকে আমি শুধু এ জন্যই সৃষ্টি করেছি যে, তারা আমার দাসত্ব করবে। (সুরা যারিয়াত: ৫৬)
  7. মৃত্যু স্মরণ: আল্লাহর পথে নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য এটা বড় একটা মাধ্যম। কল্পনা করুন আপনার জীবন কাল শেষ হবে। আপনি কি আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে পারেন এবং দাবী করেন যে, আপনি যে কাজগুলো করছেন তাতে তিনি সন্তুষ্ট। সুতরাং বেশি বেশি মৃত্যু স্মরণ মানুষকে খাঁটি মানুষ হওয়ার পথে এগিয়ে নিয়ে যায়।
  8. আল্লাহর কাছে আশা করা: মানুষ যত কিছুই করুক না কেন সব কিছুই মূলত আল্লাহর হাতে। একজন মানুষ অনেক অপরাধ করেছে কিন্তু আল্লাহ যদি তাকে মাফ করে দেন তাহলে কি কারো কিছু করার আছে? এমন অনেক ঘটনাও আছে যে সারা জীবন আল্লাহর নাফরমানি করেছে কিন্তু মৃত্যুর আগে আল্লাহপাক তাকে কালেমা পড়ার তৌফিক দিয়েছেন। আবার এমনও দৃষ্টান্ত আছে একজন মানুষ সারা জীবন ভালো ছিল কিন্তু মৃত্যুর আগে কালেমা পড়ে মৃত্যু বরণ করতে পারে নি। মানুষ যত গুনাহ করুক না কেন সে যেন আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ না হয়। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহপাক ইরশাদ করেছেন, হে নবী, বলে দাও, হে আমার বান্দারা যারা নিজের আত্মার ওপর জুলুম করেছো আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চিতভাবেই আল্লাহ সমস্ত গোনাহ মাফ করে দেন। তিনি ক্ষমাশীল ও দয়ালু। (সুরা যুমার : ৫৩)

পবিত্র কুরআনে আরো এসেছে, যার মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর সন্তোষকামী লোকদেরকে শান্তি ও নিরাপত্তার পথপ্রদর্শন করেন এবং নিজ ইচ্ছাক্রমে তাদেরকে অন্ধকার থেকে বের করে আলোকের দিকে নিয়ে আসেন এবং সরল-সঠিক পথের দিকে পরিচালিত করেন। (সুরা মায়েদা: ১৬)

মানুষ যেন শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আল্লাহকে স্মরণ করেন কখনো যেন ভুলে না যায় তাই আল্লাহপাক পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করছেন, তোমরা এ অস্থায়ী জীবনের প্রতারণা জালে আবদ্ধ হচ্ছো আর আল্লাহ তোমাদের শান্তির ভুবনের দিকে আহবান জানাচ্ছেন। (হেদায়াত তার ইখতিয়ারভুক্ত) যাকে তিনি চান সোজা পথ দেখান। (সুরা ইউনুস: ২৫)