ধর্ম

যে ৪টি গুনের মেয়েকে বিয়ে করতে বলেছেন মহানবী (সা.)

আগামীর পৃথিবীটা আমরা কেমন দেখতে চাই, তা নির্ভর করে নিজেদের সন্তানদের কীভাবে গড়ে তুলছি তার ওপর। আরও গোড়া থেকে বলতে হলে বলব, আমরা নিজের সন্তানের জন্য কেমন ‘মা’ নির্বাচন করেছি বা করব তার ওপর। কারণ সন্তানের ওপর সর্বপ্রথম যে মানুষটির প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে সে আর কেউ নন, তার মা। 

একজন সৎ ও ন্যায়পরায়ণ সর্বোপরি ধর্মানুরাগী পুরুষ যদি স্ত্রী নির্বাচনে সফল হতে পারেন, তাহলে তার পরবর্তী প্রজন্ম আদর্শ সমাজ প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে- এটাই স্বাভাবিক। হেলা নয়, নিজ সন্তানের আদর্শ জননী নির্বাচনে সর্বোচ্চ সচেতনতার বিকল্প নেই।

পাত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রে মহানবী (সা.) কিছু বিষয়ের প্রতি নজর দিতে বলেছেন। পাত্রীর কিছু গুণাবলী সম্পর্কে জানিয়ে বিবাহ যোগ্য পুরুষদের সচেতন করেছেন তিনি।

হযরত আবু হুরায়রা (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে হাদিস বর্ণনা করেন যে, রূপ-সৌন্দর্য, ধন-সম্পদ, বংশমর্যাদা ও ধর্মভীরুতা– সাধারণত এ চার গুণের দিকে লক্ষ করে কোনো নারীকে বিয়ে করা হয়। শ্রোতা! তুমি ধার্মিককে গ্রহণ করে সাফল্যম-িত হও। আর নিরুৎসাহিত হইও না।’ (বোখারি, মুসলিম)।
মহানবী (সা.) আরও বলেছেন, ‘যখন তোমাদের কেউ নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দেয় তখন সে যেন তার এমন কিছু দেখে, যা তাকে তার সাথে বিয়েতে উৎসাহিত করে’ (আবু দাউদ : ২০৮২)।

একথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, রূপ-সৌন্দর্য ও ঐশ্বর্য একজন নারীর ঈর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য। তবে ধর্মানুরাগ সে তুলনায় নারীর অনন্য এক বৈশিষ্ট্য। যার ইতিবাচক প্রভাব ইহজীবনে তো বটেই, পরজীবনেও ব্যাপকভাবে পড়ে। অনেকের ক্ষেত্রে এ বৈশিষ্ট্য অন্য যাবতীয় গুণাগুণের পরিপূরক বলে প্রমাণিত হয়। একজন ধার্মিক নারী এ বৈশিষ্ট্যে দুনিয়ার জীবনকে ছাপিয়ে আখেরাতের জীবনকেও সমৃদ্ধ করে তোলে। এর প্রভূত কল্যাণে নারী শুধু নিজেই নয়, তার পরবর্তী প্রজন্মও সিক্ত হয়।

দুঃখের বিষয় হলেও এটাই অপ্রিয় সত্য যে, আমাদের সমাজে পাত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রে কনের ধর্মপরায়ণতা গৌণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনকি সমাজে ধার্মিক পরিচয়ে পরিচিত পরিবারের বেলায়ও বিষয়টি প্রযোজ্য হয় অনেক ক্ষেত্রে। অথচ দাম্পত্য জীবনে ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য স্বামী-স্ত্রী উভয়ে ধার্মিক হওয়া অপরিহার্য। একটি আদর্শ পারিবারিক অবকাঠামো গড়ে তোলার জন্য একজন ধর্ম পরায়ন গৃহকত্রীর বিকল্প নেই।

হজরত আবু হাতেম মুজানি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেন, ‘যাদের ধর্মপরায়ণতা ও চারিত্রিক গুণাবলি সম্পর্কে তোমরা সন্তুষ্ট, তাদের কেউ (তোমাদের কন্যা বা অধীন কারও বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে) এলে তার সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দাও। অন্যথায় দুনিয়ায় ব্যাপক ফেতনা-ফাসাদ সৃষ্টি হবে।’ (তিরমিজি : ১০৯৩

উল্লিখিত হাদিসে কনেপক্ষের জন্য পাত্র নির্বাচনে মৌলিক নীতি-আদর্শ রয়েছে। এর অন্যথা করলে পরিণতি কী হতে পারে, তার প্রতিও ইঙ্গিত রয়েছে। কনের অভিভাবক যদি ধনবান পাত্রের আশায় বিয়েতে বিলম্ব করে, তাহলে দিন দিন নারী-পুরুষ উভয়ের নীতি-নৈতিকতার অবক্ষয় দেখা দেবে। সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক নানা জটিলতার সৃষ্টি হবে, যা সমাজ সচেতন ব্যক্তিমাত্রই অবগত রয়েছেন। (তুহফাতুল আহওয়াজি : ৭/২০৪)।


কোনো নারীকে একবার দেখে পছন্দ করা গেলে একবার দেখাই বিধান। কোনো কোনো নারীকে একবার দেখে তার সাথে বিয়ের মতো গুরত্বপূর্ণ চুক্তির সিদ্ধান্ত নেয়ায়ায় না। এ ক্ষেত্রে তাকে একাধিকবার দেখা যেতে পারে।

 দাম্পত্য জীবনে ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য স্বামী-স্ত্রী উভয়ে ধার্মিক হওয়া অপরিহার্য। একটি আদর্শ পারিবারিক অবকাঠামো গড়ে তোলার জন্য একজন ধর্ম পরায়ন গৃহকত্রীর বিকল্প নেই।