লাইফস্টাইল

যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীরা নগ্ন হওয়া বাধ্যতামূলক, না হলে পরীক্ষার খাতায় নিশ্চিত ফেল!

যুক্তরাষ্ট্রের সান দিয়েগোর ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটিতে অদ্ভুত এক নিয়ম চলে আসছে বহু বছর ধরে। বিশ্ববিদ্যালয়টির ভিজুয়াল আর্টের অধ্যাপক প্রফেসর রিকার্ডো ডমিনগুয়েজ এ রীতি চালু করেছেন। যেখানে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর নগ্ন হওয়া বাধ্যতামূলক। এবং যদি কেউ সেটি না করে তবে তাকে পরীক্ষার খাতায় ফেল দেখানো হয়।

বিষয়টি নিয়ে তোপের মুখে পড়েছেন খোদ প্রফেসর রিকার্ডো। অভিভাবকরাও ঘোর আপত্তি জানাচ্ছে এমন কর্মকাণ্ডে।

অবশ্য প্রফেসর নিয়ে এ বিষয়ে একেবারের নিরুত্তাপ। তার ভাবখানা এমন, যেন এটি কোনও ঘটনাই না। উল্টো তিনি বলেন, ‘এ যুগেরও বেশি সময় ধরে এ নিয়ম মানছে শিক্ষার্থীরা। কই, কখনও তো কোনও ছাত্রী অভিযোগ জানায়নি। আমি এর মধ্যে কোনও অশ্লীলতা দেখি না।’

সমস্যাটা আরও প্রকট হয়েছে- যখন বলা হয় শুধু নগ্ন হলেই চলবে না, নগ্ন হতে হবে সবার সামনে। যেখানে অধ্যাপক নিজে ও ওই ছাত্রীর অন্য সহপাঠীরাও হাজির থাকবে। এবং নগ্ন হওয়ার সময় অবশ্যই প্রেমের ভঙ্গি থাকতে হবে শরীরে। ডিগ্রি হাতে নিতে হাজার অনিচ্ছা সত্ত্বেও তাই ‘নগ্ন’ হচ্ছে ছাত্রীর।

অবশ্য বিশ্ববিদ্যালয়টিতে কোনও একজনের জন্য এ নিয়ম নয়। পালাক্রমে সবাইকেই ডিগ্রি হাতে পেতে নগ্ন হতে হয়।

সম্প্রতি অধ্যাপক ও সহপাঠীদের সামনে ভরা ক্লাসে নগ্ন হয়ে বাড়িতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন এক ছাত্রী। সে বিষয়টি পরিবারকে জানায়। এর পরই বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা ও নিন্দা জানানো শুরু হয়।

তাদের অনেকেরই অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সময় নগ্ন হওয়ার বিষয়টি যে বাধ্যতামূলক তা জানানো হয় না। জানানো হলে শিক্ষার্থীরা বুঝেশুনেই ভর্তি হলো। তারা মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতো। কিন্তু শেষ বর্ষের পরীক্ষার সময় যখন সেটি করতে বলা হয় তখন ছাত্রীদের নগ্ন না হয়ে আর কিছু করার থাকে না।

সাধারণত ভিজুয়াল আর্টের কোনও প্রতিষ্ঠানে নগ্ন ছবি আঁকার জন্য পেশাদার মডেল ব্যবহার করা হয়। কখনও কোথাও কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের এভাবে ভরা ক্লাসে নগ্ন হতে হয় না। গোপনে সে কাজটি চালিয়ে যাওয়ায় এখন তোপের মুখে পড়েছেন প্রফেসর রিকার্ডো।