লাইফস্টাইল

যে কারণে তিন ভাইকে বিয়ে করতে হয়েছে এই কিশোরীর

দক্ষিণ আফগানিস্তানের এক আফিম উৎপাদক কৃষক পরিবারের মেয়ে খাদিজা। ছয় বছর বয়সে বড় ভাইকে জিয়াকে বিয়ে করেন তিনি।

পাখতুন সমাজের নিয়মানুযায়ী-স্বামীর মৃত্যুর পর তার ঠিক পরের ভাইকে বিয়ে করতে হয়  বিধবাকে। এই  নীতি মেনেই আফগান এই কিশোরীকে পেরতে হয় পর পর তিনটি দাম্পত্য। বর্তমানে তার বয়স ১৮।

সংবাদমাধ্যম ‘দি ইন্ডিপেন্ডেন্ট’ অনুযায়ী, জন্মের আগেই খাদিজার বাবা তার ফুপাতো ভাইয়ের ছেলের সঙ্গে তার বিয়ে ঠিক করে রেখেছিলেন। সে অনুযায়ী ৬ বছর বয়সে খাদিজার বিয়ে হয় তার থেকে ১৫ বছরের বড় এক তালেবান জঙ্গি জিয়া উল হকের সঙ্গে।

সেইসময় মারজা শহর ছিল তালিবানদের স্বর্গ। বিয়ের আগেই জিয়া তালেবানদের সঙ্গে যুদ্ধে যোগ দেন। পরে মার্কিন সেনার হাতে নিহত হন।

জিয়া মারা যাওয়ার পর ১০ বছর বয়সে তার ছোট ভাই আমিনুল্লাহর সঙ্গে বিয়ে হয় খাদিজার। আমিনুল্লাহ পেশায় পুলিশকর্মী ছিলেন।

২০১৪ সালে তালেবানদের সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে আমিনুল্লাহও মারা যায়। খাদিজার গর্ভে তখন কন্যা সন্তান। ১৪ বছর বয়সে তার প্রথম সন্তান জন্ম নেয়।

প্রয়াত স্বামীদের ছোট ভাই শামসুদ্দিন। পেশায় দোভাষী। চার মাস পর বিধবা খাদিজার পুনর্বিবাহ হয় আমিনুল্লাহর ছোট ভাই শামসুদ্দিনের সঙ্গে।সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শামসুদ্দিন জানিয়েছে, সে খাদিজাকে বিয়ে করতে চায়নি। দেশাচারই তাকে বাধ্য করেছে বড় ভাইয়ের বিধবাকে বিয়ে করতে।

সে চেয়েছিল, খাদিজা অন্য কাউকে বিয়ে করুক। কিন্তু তখন কিছুই করার ছিল না।বিয়ের পর শামসুদ্দিন তার পরিবার নিয়ে হেলমন্দ প্রদেশের রাজধানী লস্কর গড়ে চলে যায়। সেখানে সে প্রতিদিন ২৫ মার্কিন ডলারের বিনিময়ে দোভাষীর কাজ করতে থাকে। কিন্তু একদিন সেই চাকরিও চলে যায়।পরে রিকশা চালক হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি।

ইতোমধ্যে তাদের পরিবারের বাকি পুরুষরা তালেবান হামলায় মারা গেছে।বর্তমানে  খাদিজা ও শামসুদ্দিনের সংসারে এক পুত্রসন্তান রয়েছে। তালেবানরা নিয়মিত ফোন করে সেই শিশুটিকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। তার স্বামীও নিয়মিত প্রাণনাশের হুমকি শোনে।

যুদ্ধ আর তালেবান শাসন তাদের সমস্ত স্বপ্নকে এক ফুঁয়ে নিবিয়ে দিয়েছে।এই কাহিনি একা খাদিজার নয়। এটা আফগান গ্রামাঞ্চলের বেশিরভাগ পরিবারেরই ছবি। খাদিজার হাত ধরে পুত্র-কন্যা নিয়ে বাঁচতে চায় শামসুদ্দিন। আর কোনো স্বপ্ন তার সামনে নেই।