আফ্রিকা

যেখানে টাকা দিয়ে বউ কেনা যায় !

এফপি

ডেস্কনিউজ; আফ্রিকা মহাদেশে নাইজেরিয়ার একটি সম্প্রদায়ের কথা যেখানে অল্প বয়সী মেয়েদের টাকার বিনিময়ে বিক্রি করার মতো ভয়াবহ ঘটনা ঘটে চলেছে। শুনতে বিম্বাস করতে কষ্ট হলেও টাকা দিলেই মিলে যায় বউ।

বিষয়টি একে বারেই সহজ কেননা সমাজের প্রভাবশালীরা দারিদ্র্যপীড়িত পরিবারের শিশুদের বিয়ের নামে কিনে নেয় আর বিনিময়ে দিতো নামেমাত্র কিছু টাকা।

মানি ম্যারেজ বা অর্থের বিনিময়ে অল্প বয়সী মেয়েদের বিয়ের নামে বিক্রি করে দেয়া একটি প্রচলিত প্রথা রয়েছে নাইজেরিয়ার সর্বদক্ষিণের ক্রস রিভার রাজ্যের বেশেরে সম্প্রদায়ের মধ্যে। বিষয়টি ভয়াবহ হলেও তাদের জন্য ছিল নিত্যদিনের ব্যাপার।

আর মানি ম্যারেজর স্বীকার হলেন ডরফি নামে এক তরুণী। মেয়েটির বয়স মাত্র ১০-১১ বছর। বিষয়টির বিরুদ্ধে স্থানীয় ধর্মীয় নেতারা প্রচারণা চালালেও কোন লাভ হচ্ছে না। অথচ এমনি একটি কম বয়স্ক মেয়েকে তুলে দেয়া হল তার নানা-দাদার বয়সী এক ব্যক্তির কাছে।

মানি ম্যারেজ স্বীকার হওয়া ডরফি জানালেন তার করুন কাহিনী। তিনি জানান, লোকটি আমার সঙ্গে শুতে চাইলে আমি বলতাম, না, আমি এমনটা হতে দেব না, কারণ আপনি আমার বয়সের না। আপনার ছেলেমেয়েরাও আমার অনেক বড়। যখন আমি মানা করতাম, তখন সে আরও দুইজন লোক ডেকে আমার ওপর জবরদস্তি করতো।

জানা যায়, ডরফির উপর এভাবেই অমানুষিক নির্যাতনের এক পর্যায়ে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। অথচ সন্তান ধারণ করার মতো বয়সও তখন তার হয়নি। যেহেতু সে বিক্রি হওয়া বউ তাই তার সাহায্য চাওয়ারও কোন জায়গা ছিল না।

এ বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মিশনারি ও শিশু অধিকার আন্দোলনকারী পস্তোর রিচার্ড বলেন, একজন মানি ওম্যানের কোন সম্মান থাকেনা। তাদের স্কুলে যাওয়ার অনুমতি নেই, তাদেরকে ঠিকঠাক খেতেও দেয়া হয়না। সে সবার উচ্ছিষ্ট খায়। তারা শিশুশ্রম থেকে শুরু করে অমানবিক যৌন নিপীড়নের শিকার হয়। অনেকে অন্ত:সত্ত্বা হলেও মায়ের বাড়ি যাওয়ার সুযোগ পায়না।

বিষয়টি অস্বীকার করে এই সম্প্রদায়ের প্রধান চিভসামদে চিলে জানান, এখন মানি ওয়াইফ প্রথার কোন অস্তিত্ব নেই।

তিনি জানান, যাদের বয়স ১৮ বছরের নীচে তাদের কাউকে মানি ওয়াইফ হিসেবে বিয়ে করা যায়না।

তিনি আরও জানান, এখনও অনেক মানুষ মনে করে যে বেশেরে সম্প্রদায়ে এখনও মানি ম্যারিজ হয়ে থাকে। কিন্তু এখন আর এসব হয়না। এটা নব্বই দশকের শুরুর দিকেই বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

তবে এর বাস্তবতা যে একে বারেই উল্টো সে বিষয়ে পাস্তোর রিচার্ড বিদ্রূপের সুরে বলেন, এই মানি ম্যারেজের ঘটনা আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেও গ্রাম প্রধানরা বলবে, এই বিয়ে সবশেষ হয়েছিলো সেই ১৯৯৯ সালে। অথচ কয়েকদিন আগেই আমরা ১৭ বছর বয়সী একটি মেয়েকে উদ্ধার করেছি