লাইফস্টাইল

মেম্বারের ছেলের সাথে স্ত্রীর অনৈতিক কর্মকাণ্ড, ওড়না দিয়ে স্বামীর আত্মহত্যা!

কুমিল্লার তিতাসে স্ত্রীর ওড়না দিয়ে স্বামীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। রবিবার দুপুর ১২টায় উপজেলার বন্দরামপুর গ্রাম সংলগ্ন চার পা বিশিষ্ট বিদ্যুৎ খুঁটির পাত থেকে স্বামী মাজারুল ইসলামের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে থানা পুলিশ। নিহত মাজারুল বন্দরামপুর গ্রামের মৃত মঙ্গল মিয়ার ছেলে। স্ত্রী শানু আক্তারের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ফলে তিনি একমাস আগে ওমান থেকে দেশে ফিরে আসে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বন্দরামপুর গ্রামের মঙ্গল মিয়ার তৃতীয় ছেলে মাজারুল ইসলাম ১১ বছর আগে একই গ্রামের শাহজাহান মিয়ার মেয়ে শানু আক্তারকে বিয়ে করে। বিয়ের পর তাদের সংসারে এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। পারিবারিক স্বচ্ছলতার জন্য মাজারুল বিদেশ চলে যায়। পুত্র সুমন (১০) ও কন্যা মরিয়ম আক্তারকে (৭) নিয়ে স্ত্রী শানু বেগম দেশেই থাকতেন।

স্বামীর বিদেশী টাকায় ভালোই চলতো শানুর সংসার। প্রায় ২ মাস পূর্বে একই গ্রামের বাসিন্দার ও কড়িকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবুল কাশেম মেম্বারের ছেলে দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে গভীর রাতের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। বিষয়টি থানা পর্যন্ত গড়ালেও দেলোয়ারের বাবার প্রভাবে তা ধামাচাপা পড়ে যায়।

বিষয়টি ভালো ভাবে নিয়ে পারেননি মাজারুল। ঘটনার কিছুদিন পরে তিনি দেশে ফিরে আসেন। বন্দরামপুর গ্রাম থেকে বাসা পরিবর্তন করে দাউদকান্দির গৌরীপুর বাজার সংলগ্ন হাটচান্দিনা ভাড়া বাসায় স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। এরই মধ্যে এলাকার লোকজন রবিবার সকালে মাজারুলের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পায়।

মাজারুল স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে বসবাস করলেও নিজের স্ত্রীর ওড়না দিয়ে কেন তার বাড়িতে এসে ফাঁস দিলেন এ নিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা। এ বিষয়ে শানুর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে বারবার চেষ্টাও করলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

নিহতের মা আমেনা আক্তার জানান, আমার চার ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে মাজারুল তৃতীয়। স্ত্রী সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে সে বিদেশ যায়। টাকা পয়সা সব স্ত্রীর নামে আসে। কেন শানু এমন হলো তা বলতে পারবো না। আগের ঘটনার পর ছেলে দেশে এসে বলে, ‘মা, দুটি সন্তানের দিক চেয়ে আমি শানুকে নিয়েই অন্য জায়গায় থাকবো’। আমি বলেছি ‘বাবা, তোর যেভাবে ভালো লাগে সে ভাবে থাক’। কথাগুলো বলতে বলতে তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

এদিকে মাজারুলের একাধিক সমবয়সী বন্ধু জানান, মাজারুল শানুকে নিয়ে গৌরীপুর বাসায় ওঠার পরও শানু একাধিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। তা নিয়ে তাদের মধ্যে গত একমাসে অনেকবার ঝগড়া হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় মাজারুল তার স্ত্রীর কর্মকাণ্ড সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তিতাস থানার এসআই কমল মালাকার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছে। এ বিষয়ে একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। যেহেতু শানুকে নিয়ে পূর্বের একটি সমস্যা ছিল সেহেতু পারিবারিক কোন্দলের জের হিসেবে এ আত্মহত্যার ঘটনা ঘটতে পারে। ভোর রাতে তিনি আত্মহত্যা করতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।