সারাদেশ

মৃত্যুর আগে শেষ বারের মতো যা খেতে চেয়েছিল মুক্তামনি

রক্তনালীর টিউমারে আক্রান্ত সাতক্ষীরার শিশু মুক্তামণি আর নেই (ইন্নালিলাহি… রাজিউন)। দেশ বিদেশের ডাক্তারের প্রচেষ্টা এমনকি প্রধান মন্ত্রীর আন্তরিকতা ছিল তার উপর।

সব কিছুরই অবসান ঘটিয়ে বুধবার (২৩ মে) সকাল ৮টার সময় সাতক্ষীরা সদর উপজেলার দক্ষিণ কামারবায়সা গ্রামের নিজ বাড়িতে না ফেরার দেশে চলে যায় মুক্তামণি। মিত্যুর আধা ঘন্টা আগে পানি চেয়েছিল মুক্তামনি। তারপর ঘুমিয়ে পড়েছিল। এটাই শেষ ঘুম। প্রাণ প্রিয় মেয়ের মৃত্যু যেন কোনভাবেই মেনে নিতে পারছেন না মুক্তামণির বাবা ইব্রাহিম হোসেন ও তার মা আসমা খাতুন। কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তারা।

গত কয়েকদিন ধরেই জ্বরে ভুগছিল সে। মুক্তামণির ক্ষতস্থানে নতুন করে পচন ধরেছিলো। তার হাত ফুলে গিয়েছিল বের হচ্ছিলো দুর্গন্ধ। কথাও বলতে পারছিলো না সে।  রোগ ছড়িয়ে পড়েছিল সারা দেহে। আক্রান্ত ডান হাত থেকে বের হচ্ছিল সাদা পোকা আর রক্ত।

২০১৭ সালের জুলাই মাসে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর দায়িত্ব নেয় স্বাস্থ্য বিভাগ। প্রথমে স্বাস্থ্য সচিব তার চিকিৎসার দায়িত্ব নেন। পরে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার চিকিৎসার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তাকে সাতক্ষীরা থেকে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে নেওয়া হয়।

সেখানে মুক্তামনির চিকিৎসায় গঠিত হয় বোর্ড। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ধরা পড়ে মুক্তামনির হাত রক্তনালীর টিউমারে আক্রান্ত। তারপর মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কয়েক দফা অস্ত্রপচার করে অপসারণ করা হয় তার হাতের অতিরিক্ত মাংস পিন্ড।

এরপর মুক্তামনিকে নিয়ে এক মাসের ছুটিতে বাড়ি আসার অনুমতি পায় বাবা ইব্রাহিম হোসেন। কিন্তু পরে আর ঢামেকে যেতে রাজি হয়নি মুক্তামনি। আজ বাদ জোহর জানাজা শেষে পারিবারিক কবর স্থানের কবরের পাশে দাফন করা হবে মুক্তামনিকে ।