ক্রিকেট

মাশরাফিই সেরা জানালেন কোর্টনি ওয়ালশ !

এফপি

ডেস্কনিউজ; ২০১৬ সালের আগস্টে বাংলাদেশ দলে যোগ দেন তিনি । বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের বিশেষজ্ঞ বোলিং কোচ হিসেবে মাশরাফিদের পথ দেখাচ্ছেন উইন্ডিজ গ্রেট কোর্টনি ওয়ালশ। শুরুর দিন থেকেই মাশরাফিতে মুগ্ধ ছিলেন কোচ। এদিকে ২ বছর পরেও মাশরাফিকে সেরা বলছেন ওয়ালশ।

অনেকদিন থেকেই ধারাবাহিকভাবে ভালো করে যাচ্ছেন বাংলাদেশ ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মূর্তজা। একদিনের ক্রিকেটে সামনে থেকে দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তরুণদের থেকে এখনও এগিয়ে মাশরাফি। পারফরম্যান্স যেন তারই প্রমাণ দিচ্ছে।

আজ রোববার (০৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় এশিয়া কাপ খেলতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাচ্ছে বাংলাদেশ দল। দলের প্রস্তুতি কেমন, সেটি বলেছেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা ও কোচ স্টিভ রোডস।

পেসারদের নিয়ে আলাদাভাবে বললেন কোর্টনি ওয়ালশ। পেসারদের নিয়ে বেশ আশাবাদী শোনাল ক্যারিবীয় কিংবদন্তিকে। ফিট মোস্তাফিজুর রহমান আর ওয়ানডেতে ছন্দে থাকা রুবেল হোসেন আত্মবিশ্বাসী করছে তাঁকে।

সব ছাপিয়ে ওয়ালশের মুগ্ধতা মাশরাফিকে নিয়ে। চোটে না পড়লে তিনি এখনো যে টেস্ট খেলতেন, সে কথা মনে করিয়ে দিলেন আরেকবার, ‘এখানে এসে প্রথমবার দেখেই তাকে বলেছি যে সে টেস্ট খেলার জন্য যথেষ্ট ভালো। হয়তো চোটের কারণে সব সংস্করণে ও খেলতে পারেনি। লম্বা সময় ধরে বাংলাদেশের জন্য ও উঁচু মানের বোলার। এখন তরুণদের ভেতর ওর ওই ক্ষুধাটা থাকা দরকার। আমরা শুধু দূর থেকে কাজ করতে পারি। কিন্তু তরুণদের মাঠে নেমে ভালো খেলতে হবে। ম্যাশ (মাশরাফি) তার পারফরম্যান্সকে আত্মমর্যাদা হিসেবে দেখে। অন্যদের সঙ্গে ওর পার্থক্য এখানেই। সে ভালো করতে চায়, লড়াই করতে চায়।’

স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন আসে, তবে কি মাশরাফির মতো দীর্ঘদিন ধরে ভালো খেলে যাওয়ার ক্ষুধা বা তাড়না নেই তরুণদের ভেতর? সেটি যে বোঝাননি ওয়ালশ সেটাই বললেন, ‘আমি বলব না ক্ষুধা নেই। আমার মনে হয় ধারাবাহিকভাবে খেলে যাওয়ার সুযোগটা ওদের দেওয়া হয়নি। তফাত সম্ভবত এখানেই। আমাদের বেশ কয়েকজন তরুণ বোলার রয়েছে যাদের যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া দরকার। একটি-দুটি ম্যাচ খেলিয়েই বাদ দেওয়া যাবে না।’

কোনো তরুণ বোলার খারাপ করলেই তাঁকে দ্রুত বাদ দেওয়ার পক্ষেও নন ওয়ালশ, ‘পারফরম্যান্সে ভালো-খারাপ থাকবেই। কিন্তু একটু খারাপ করলেই সবাই যেন বাদ দেওয়ার জন্য উঠেপড়ে লাগে। তাতে কিন্তু খুব একটা লাভ হয় না। কেউ খারাপ করলে নিজেকে ফিরে পাওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত। যে তরুণ ক্রিকেটারদের আমি দেখেছি শেখার ব্যাপারে ওদের আগ্রহ অনেক, পারফর্ম করতে চায়। এখন শুধু ওদের সুযোগটা দিতে হবে।’

ঠিক দুই বছর আগে বাংলাদেশের বোলিং কোচের দায়িত্ব নিয়ে এসেছিলেন ক্যারিবীয় কিংবদন্তি কোর্টনি ওয়ালশ। দুই বছর পেরিয়েছে। বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ হিসেবে কেমন করলেন উইন্ডিজ কিংবদন্তি?

ওয়ালশের আত্মমূল্যায়ন হচ্ছে, ‘কাজ এখনো চলমান। বেশ কয়েকজন তরুণ উঠে আসছে। কিন্তু দলে না নেওয়া হলে তো বোঝা যাবে না তারা কেমন! আমার মনে হয়, এদিকটায় আমাদের আরেকটু বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত। তরুণদের সুযোগ দিতে বেশি ভয় পেলে চলবে না। কিন্তু আমরা যদি ওদের শুধু অপেক্ষায় রাখি এবং খেলার সুযোগ না দিই, তাহলে লাভ নেই। যত খেলবে ওরা, তত শিখবে। খেললেই অভিজ্ঞতা বাড়বে। ওরা প্রস্তুত নয় বলে যদি সুযোগ না দেওয়া হয়, তাহলে তো ওরা কখনোই প্রস্তুত হবে না!’