অন্যরকম

মাথায় গেঁথে রয়েছে চাপাতি! তবুও হাঁটছে যুবক !

মাথায় গেঁথে রয়েছে মাঝারি আকারের চাপাতি বা ম্যাচাটে। ক্ষতস্থান থেকে রক্তও ঝড়ে পড়ছে। কিন্তু তাতে একটুও ঘাবড়ে যাননি আহত যুবক। আচরণ তো স্বাভাবিক আছেই, হাঁটাচলাও করছে সুস্থ মানুষের মতো। সম্প্রতি এমনই এক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল জানায়, ব্রাজিলে সম্প্রতি পেড্রো ফেরাইরা নামের ওই যুবকের বিরুদ্ধে চুরির নানা অভিযোগ আছে। চুরির দায়ে ২০০৪ সাল থেকে জেলেই ছিলেন ৩৪ বছর বয়সী পেড্রো।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মাসে জেলখানার এক কয়েদির সঙ্গে মারপিট করেন পেড্রো। ব্রাজিলের ইতামারাকা দ্বীপের ওই জেলখানায় মারপিটের এক পর্যায়ে প্রতিপক্ষ তার মাথায় ম্যাচাটে দিয়ে আঘাত করে। এর ফলে তার মাথার ডান পাশে চাপাতি গেঁথে যায়।

এমন আঘাতে মৃত্যু স্বাভাবিক ঘটনা হলেও এক্ষেত্রে তার ব্যতিক্রম ঘটে। দেখা যায় ক্ষতস্থান থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়লেও পেড্রো এমনভাবে হাঁটাচলা ও কথাবার্তা বলছে যেন তার কিছুই হয়নি।

পুলিশ অবশ্য পেড্রোকে হাসপাতালে পাঠাতে একদমই দেরি করেনি। তবে তাকে গাড়িতে উঠাতে গিয়েও বেশ বেকায়দায় পড়তে হয় জেল পুলিশকে।

পেড্রোর মাথায় ম্যাচাটে লম্বাভাবে গেঁথে থাকায় গাড়ির ছাদে তা ঠেকে যাচ্ছিল। অবশ্য কায়দা করে গাড়িতে উঠানোর ফলে হাসপাতালে যেতে দেরি হয়নি তার।

এদিকে, পেড্রোকে এমন অবস্থায় দেখে খোদ ডাক্তারেরাই ভড়কে যায়। এখন সুস্থ মনে হলেও মাথা থেকে ম্যাচাটে বের করলে পেড্রো বাঁচবেন কিনা, সেই ভাবনাও তাদের ছিল।

অবশ্য চিকিৎসকদের চেষ্টায় ভালোভাবেই অস্ত্রোপচার শেষ হয়। মাথার চাপাতি বের করার পরও শঙ্কামুক্ত থাকেন পেড্রো।

চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, এমন মারাত্মক আঘাতের পরও রুগী কিভাবে বেঁচে ছিলেন তা এক রহস্য। তার চাইতেও বড় রহস্য হচ্ছে, এমন আঘাতের পরও আহত ব্যক্তি স্বাভাবিক মানুষের আচরণই করেছেন।

অস্ত্রোপচারের পর শারীরিক অবস্থা ভালো হওয়ায় তাকে আবারও জেলখানায় ফিরিয়ে আনা হয়। ডেইলি মেইল জানায়, পেড্রোকে আক্রমণকারীর পরিচয় মিলেছে। তার নাম অ্যান্টোনিও ডি সিলভা।

একই সেলের ২৭ বছরের ওই তরুণই পেড্রোর মাথায় এভাবে আঘাত করেছিল। এই ঘটনায় জেল কর্তৃপক্ষ তদন্তের ঘোষণাও দেয়। তবে এক মাস পেরিয়ে গেলেও পেড্রোর মারপিটের ঘটনার কোনো কিনারা করতে পারেনি প্রফেসর ব্যারেটো হাই সিকিউরিটি প্রিজন কর্তৃপক্ষ।