এক্সক্লুসিভ সংবাদ

মহানবীর জীবনী থেকে শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে

ইসলামে কোনো সাম্প্রদায়িক বিভাজন নেই উল্লেখ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেছেন, মহানবী মুহাম্মদ (সা.) অসাম্প্রদায়িকভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করেছিলেন। সব ধর্মের লোকের সংমিশ্রন ছিল তার শাসন ব্যবস্থায়। তাই এক্ষেত্রে ইসলামের বিকল্প নেই।

আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ইসলাম ধর্ম শান্তির ধর্ম, মানবতার ধর্ম। অশান্তি সৃষ্টি করার কথা ইসলাম বলে না। সাম্প্রদায়িক কোনো বিভাজন ইসলাম ধর্মে নেই। আমাদের সবাইকে ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে।

সৌদি আরবের সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডের কথা তুলে ধরে এ শিক্ষাবিদ বলেন, সৌদির এক সাংবাদিক তুরস্কে নিজেদের দূতাবাসে ঢুকেছিলেন। তারপর তাকে কেটে কতো টুকরো করা হয়েছে, তার হিসাব এখনো পাওয়া যায়নি। তাকে এমনভাবে হত্যা করা হয়েছে, যা কোনো মুসলমানের পক্ষে সম্ভব নয়।

মুক্তিযুদ্ধের কথা তুলে ধরে ঢাবির এই সাবেক উপাচার্য বলেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনী, যারা নিজেদের মুসলিম বলে দাবি করে, তারা এদেশের ত্রিশ লাখ মানুষকে হত্যা করেছে। পৃথিবীতে এতো বড় জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে তারা নয় মাস ধরে।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচক্ষণ ও মানবিক সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দশ লাখ মানুষকে বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। ইসলাম হচ্ছে মানবতার ধর্ম। মানবতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে তাদের আশ্রয় দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আরেফিন সিদ্দিক বলেন, পাকিস্তানের নাম ছিল ইসলামিক রিপাবলিক অব পাকিস্তান, মানে ইসলামী প্রজাতন্ত্র। পাকিস্তানের যেসব রাষ্ট্রীয় সভা হয়, সেখানে মদ পরিবেশন ছিল রীতি। কিন্তু বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সভায় মদ পরিবেশন নিষিদ্ধ করলেন। যে রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু ভাষণ দিয়েছিলেন, সেখানে প্রতি রোববার ঘোড়দৌড় হতো। সেই ঘোড়দৌড়কে কেন্দ্র করে বাজি ধরা হতো, লটারি ধরা হতো। এই ঘোড়দৌড় বন্ধ করলেন বঙ্গবন্ধু এবং এই মাঠের নাম পরিবর্তন করে রাখেন সোহরাওয়ার্দী মাঠ। চিন্তা করে দেখেন, নামে ইসলামী প্রজাতন্ত্র, কিন্তু কাজে যতো অনৈসলামিক কাজ। স্বাধীন বাংলাদেশ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু যে নিয়মগুলো চালু করলেন, সেগুলো ইসলামিক অনুশাসন, মানবতা ও মুক্তির পক্ষে।

‘আমি বলতে চাই, এদেশে যারা বসবাস করি, তাদের রাসুল (সা.) এর জীবনী থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়া উচিত।’

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মুহাম্মদ ফজলুর রহমান, অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির, রেজভী মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া প্রমুখ।