লাইফস্টাইল

বিয়ে সুখের হয় অসম বয়সেই!

বলিউড অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার বর্তমান বয়স ৩৫। প্রেম করছেন ২৫ বছর বয়সী মার্কিন গায়ক ও অভিনেতার সঙ্গে। অসম বয়সের প্রেমিককে নিয়ে প্রিয়াঙ্কা এখন ভারতে। খুব শীঘ্রই নাকি তাঁরা বিয়ের পিড়িতে বসতে যাচ্ছেন। বলিউডে এমন অসম প্রেম নতুন নয়। এইতো কিছুদিন আগে বিয়ে করলেন ভারতীয় মডেল ও অভিনেতা মিলিন্দ সুমন। ৫২ বছরের এই সুদর্শন অভিনেতা বিয়ে করেছেন ২৬ বছর বয়সী বিমানবালা অঙ্কিতা কোনওয়ারকে।

প্রেম কোনো বাধা মানে না। দেশ মানেনা, তাঁরকাটার বাধন ছিঁড়েও চলে যায় নিষিদ্ধ সীমানায়। তোয়াক্কা করে না কোনো শাস্তির, তা সাধারণ মানুষ থেকে সব স্তরের মানুষের মধ্যে এই হৃদয় ঘটিত বিষয় ঘটে থাকে। বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে অসম প্রেমের চর্চাটা বেশ। বলিউডে চোখ রাখলেই তার অনেক উদাহরণ মিলে। বলিউড তারকাদের মধ্যে নানা রকম অসম সম্পর্ক দেখা যায়। তার মধ্যে রয়েছে বয়সের ব্যবধানে প্রেম। শুধু প্রেম নয়, তা গড়ায় বিয়ে পর্যন্তও। বলিউডের এমন দম্পতি রয়েছেন, যাদের স্ত্রী স্বামীর চেয়ে বয়সে বড়।

ফারাহ খান-শিরিষ কুন্দার: সফল জুটি বলা যায়। বয়সের ব্যাবধানটা তাদের প্রেম ও বিয়েতে কোন প্রভাব ফেলেনি। একসঙ্গে কাজ করতেই ভালো লাগা তৈরি হয় শিরিষ কুন্দার ও ফারাহ খানের। ম্যায়হুনা সিনেমার সম্পাদক ছিলেন শিরিষ আর পরিচালক ছিলেন ফারাহ। সে সময় প্রেমে পড়েন তারা। ফারাহ খান শিরিষ কুন্দার চেয়ে বয়সে ৮ বছরের বড়। কোন বাধা না মেনে ২০০৪ সালে গাঁটছড়া বাধেন তাঁরা। তারপর থেকে নিজেদের কাজ আর সংসার নিয়ে দিব্যি ভালো আছেন এই জুটি। দুই মেয়ে ও এক ছেলের জনক-জননী তাঁরা।

অভিষেক বচ্চন- ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন: অভিষেকের সঙ্গে প্রেম ও বিয়ের আগে ঐশ্বরিয়া প্রেমে মজেছিলেন সালমান খান ও বিবেকের। কিন্তু সে সম্পর্ক চুকিয়ে বিয়ে করেন অমিতাভ বচ্চন পুত্রকে। অভিষেক বচ্চনের চেয়ে দুই বছরের বড় বিশ্বসুন্দরী ঐশ্বরিয়া। বয়স কোনো বাধা হয়ে দাড়ায়নি। বিয়ের পর তাদের কোলজুড়ে এসেছে আরাধ্যা নামে একটি কন্যাসন্তান। সুখে শান্তিতেই তাঁদের বসবাস।

অর্জুন রামপাল- মেহের: মডেলিং করতে গিয়ে অর্জুনের সঙ্গে পরিচয় মেহেরের সঙ্গে। মাত্র দুই বছর প্রেম করে ১৯৯৮ সালে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন এই জুটি। মেহের অর্জুনের চেয়ে দুই বছরের বড়। অর্জুন-মেহেরের ২০ বছরের সুখের সংসারে দাঁড়ি পড়ে কিছুদিন আগে। তাদের দুই মেয়ে মাহিকা, মাইরা।

ফারহান আখতার-অধুনা: দীর্ঘ ৩ বছর প্রেম করে বিয়ে করেন ফারহান- অধুনা। ফারহান আখতার অধুনার চেয়ে বয়সে ৭ বছরের ছোট হলেও ২০০০ সালে প্রেমের সম্পর্ককে পরিণয়ে রূপ দেন তারা। তাঁদের সংসারে দুই কন্যাসন্তানও রয়েছে।

সাইফ আলি খান-অমৃতা সিং: ভালোবাসায় অন্ধ হয়ে প্রেমে মজেছিলেন তাঁর চেয়ে বয়সে ১৩ বছরের বড় অভিনেত্রী অমৃতা সিংয়ের। ১৯৯১ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন এই জুটি। তাদের সংসারে রয়েছে দুই সন্তান। কিন্তু ২০০০ সালে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে সাইফ-অমৃতার। সাইফ তারপর প্রেমে মজেন বলিউড অভিনেত্রী কারিনা কাপুরের সঙ্গে। ২০১২ সালে কারিনাকে বিয়ে করে সংসারে থিতু হয়েছেন সাইফ। সে ঘরেও রয়েছে এক পুত্র সন্তান। কারিনার চেয়ে দশ বছরের বড় সাইফ। বলিউড মহলের গুঞ্জন, অমৃতাকে বিয়ের সময় সাইফ কারিনাকে ‘বেটা’ বলে ডাকতেন।

সোহা আলি- কুনাল খেমু: একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে প্রেমের সম্পর্ক হয় কুনাল ও সোহার। নবাব পরিবারের এই কন্যার চেয়ে বয়সে ৪ বছরের ছোট কুনাল খেমু। অবশেষে ২০১৫ সালে গাঁটছড়া বাঁধেন এই জুটি। এখন বেশ আনন্দেই দিন কাটছে এই দম্পতির। তাঁদের এক কন্যা সন্তানও রয়েছে।

রাজেশ খান্না ও ডিম্পল কাপাডিয়া: তখন সদ্য বলিউডে হাতেখড়ি হয়েছে অভিনেত্রী ডিম্পল কপাডিয়ার। আর সিনেমা জগতে পা রাখা মাত্র ডিম্পলকে পছন্দ হয়ে যায় সুপারস্টার রাজেশ খান্নার। তাড়াতাড়ি বিয়ের পীড়িতে বসেন দুইজন। বিয়ের সময় ডিম্পল ১৬ বছরের আর রাজেশ খান্নার বয়স তখন ৩১ বছর।

শহিদ কাপুর ও মীরা রাজপুত: তাঁদের বয়সের ফারাক ১৩ বছর। বিয়ের পরপরই কন্যা সন্তানের বাবা হন শহীদ।

কবির বেদী ও পারভিন: কবির বেদী ও পারভিনের বয়সের ফারাক প্রায় ২৮ বছরের। ২০১৬ সালে তারা বিয়ে করেন। এমনকি কবিরের মেয়ে পূজা বেদীর থেকেও ছোট তাঁর বর্তমান স্ত্রী পারভিন।

সঞ্জয় দত্ত ও মান্যতা দত্ত: আগের দুটি বিয়ে না টেকার পর তৃতীয়বারের জন্য বিয়ের পিঁড়িতে বসেন সঞ্জয়। বিয়ে করেন মান্যতা দত্তকে। প্রায় ২০ বছরের ব্যবধান সঞ্জয় ও মান্যতার। বেশ সুখে শান্তিতে আছেন। সঞ্জয়ের স্থায়ী এক ঠিকানা হয়েছে।

আমির খান ও কিরণ রাও: প্রথম স্ত্রী রিনার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর কিরণের প্রেমে পড়েন আমির। আর তারপরই মিস্টার পারফেকশনিস্ট খ্যাত আমির বিয়ে করেন কিরণকে। কিরণের থেকে আমির প্রায় আট বছরের বড়।

দিলীপ কুমার ও সায়রা বানু: বিয়ের প্রায় ৫০ বছর হয়ে গেছে দিলীপ কুমার ও সায়রা বানুর। তাদের বয়সের ফারাক প্রায় ২২ বছর।

ধর্মেন্দ্র ও হেমা মালিনী: তাদের বয়সের পার্থক্য প্রায় ১৩ বছরের। তবে এই বিয়েতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে দুইজনকে। ধর্মেন্দ্রর প্রথম পক্ষের স্ত্রীর ঘোর আপত্তি ছিল বিচ্ছেদে। অনেকটা দিন সুখেই কাটিয়েছেন তাঁরা।