লাইফস্টাইল

বিয়ের ২০ দিনে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ! অতঃপর…

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় বিয়ের ২০ দিনের মাথায় ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা নববধূর গর্ভপাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (৩০ জুলাই) অসুস্থ ওই গৃহবধূকে পুলিশ উদ্ধার করে ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে।

জানা গেছে, ডিমলা উপজেলার চাপানী ইউনিয়নের উত্তর সোনাখূলি গ্রামের সূভাষ চন্দ্র রায়ের মেয়ে চাপানী সোনাখূলি সৈকত নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী শুধারানীর সাথে একই এলাকার ননী চন্দ্র রায়ের ছেলে জয়কান্ত রায়ের (১৮) প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। প্রেমের সূত্র ধরে তাদের মধ্যে দৈহিক সম্পর্কের কারণে শুধারানী ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। ঘটনাটি জানাজানি হলে উভয় পরিবারের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে তাদের বিয়ে দেন।

গত ৮ জুলাই নীলফামারী নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর থেকে শুধারানী তার স্বামীর বাড়িতে অবস্থান করে। এরই মধ্যে গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য স্বামী জয়কান্ত রায় শুধারানীকে ঔষধ সেবন করায়। এরপর একপর্যায়ে শুধারানীর গর্ভপাত করে। এসময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে মেয়েটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে।

এ সংবাদ পেয়ে মেয়ের পরিবার জয়কান্ত রায়ের বাড়িতে ছুটে গেলে তাদের বাড়িতে ঢুকতে বাঁধা দেয়। এ ঘটনায় মেয়ের কাকা ধনঞ্জয় রায় মেয়ে উদ্ধারে ডিমলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগের প্রক্ষিতে ডিমলা থানা পুলিশ (৩০ জুলাই) সোমবার সকালে শুধারানীকে তার শশুর বাড়ি থেকে উদ্ধার করে ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে দেয়।

শুধারানী জানায়, বিয়ের পর থেকেই শশুর, শাশুড়ি, স্বামী, ভাসুর এবং কাকাতো দেবররা সব সময় নির্যাতন করতো এবং বিভিন্ন কথা শুনাতো। গত বুধবার (২৫ জুলাই) রাতে তাকে জোর পূর্বক ঔষধ খাইয়ে গর্ভপাত ঘটায়। এর পর থেকেই সে অসুস্থ হয়ে পড়ে।

সে আরো জানায়, আমার বাবা, মা ঘটনা শুনে আমাকে দেখতে এলে তারা আমার বাবা, মাকে বাড়িতে ঢুকতে দেয়নি। আমি তাদের শাস্তি চাই। এ ব্যাপারে ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মফিজউদ্দিন শেখ জানান, মেয়েটির চিকিৎসা করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।