লাইফস্টাইল

বিয়ের আগেই প্রেমিকের বাড়িতে থাকবেন তরুণী! কিন্তু কেন জানেন?

প্রেম মানে না কোনো বাধা। তা আরও একবার প্রমাণিত হলো। জাত আলাদা। তাই তো সম্পর্ক মেনে নেয়নি পরিবার। এমনকি, সম্মান রক্ষার্থে হত্যার হুমকি পর্যন্ত দেয়া হয়। অবশেষে প্রেমিকের হাত ধরে বাড়ি থেকে পালিয়ে আসে মেয়েটি।

বলছি, ভারতের বরানগরের গোপাল তিওয়ারি নামের এক প্রেমিকের সঙ্গে বাড়ি থেকে পালিয়ে আসা বিহারের সুষমা কুমারীর কথা। এদিকে, অপহরণের অভিযোগে ছেলের খোঁজে কলকাতায় আসে বিহার পুলিশ। এরপর! কথায় আছে, শেষ ভালো যার সব ভালো তার। ঠিক হলোও তাই। আদালতে নির্দেশে মধুরেণ সমাপয়েৎ।

সুষমা কুমারী থাকেন বিহারের আর বরাহনগরের থাকেন গোপাল তিওয়ারি। কিন্তু, পথের দূরত্ব অনেকখানি হলেও তা ঘুচিয়ে দেয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ফেসবুক’। ফেসবুকেই তাদের পরিচয় হয়। সেই পরিচয় প্রণয় পর্যন্ত গড়ায়। তাদের দুটি মন সংসার বাঁধার স্বপ্নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়। কিন্তু, বাদ সাধে জাত। ভিন্ন জাত হওয়ায় বেঁকে বসে মেয়ের পরিবার। মেয়ের বাড়ি বিহারের চাপরা। ছেলে কলকাতার বরাহনগরের।

মেয়েটির অভিযোগ, বাড়ির সম্মানরক্ষায় দু’জনকেই খুনের হুমকি পর্যন্ত দেয়া হয়।

এরপরই এক মাস আগে বিহারের সুষমা কুমারী বাড়ি থেকে পালিয়ে আসেন। অশ্রয় নেন
বরানগরে প্রেমিকের বাড়িতে। আর তারপরই প্রেমিক গোপাল তিওয়ারি নামে অপহরণের মামলা
করে প্রেমিকা সুষমা কুমারীর পরিবার।

আর এই সমস্যা দূর করতে কলকাতায় আসে বিহার পুলিশের একটি প্রতিনিধি দল।

পুলিশকে সুষমা পরিস্কার জানিয়ে দেয়, তাকে কেউ অপহরণ করেনি। গোপালকে তিনি নিজের ইচ্ছায় বিয়ে করতে চান।

কিন্তু, মেয়ের বয়স ২১ বছর। আর ছেলের বয়স এখন ১৯ বছর। পাত্রের এখনো বিয়ের বয়স হয়নি। ফলে এখনই আইনি মতে বিয়ে হওয়া সম্ভব নয়। তবে মেয়েও নাছোড়াবান্দা। বারাকপুর আদালতে সুষমা জানায়, প্রেমিক গোপালের বাড়িতেই থাকতে চান তিনি।

এদিকে, প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের সেই ইচ্ছাকেই স্বীকৃতি দেন বিচারক। পাশাপাশি জানিয়ে দেন, বিহারের যে আদালতে অপহরণের মামলা চলছে সেখানে গিয়ে হাজিরা দিতে হবে ওই তরুণীকে। সঙ্গে কোর্ট এও জানিয়ে দেয় প্রয়োজনে তার নিরাপত্তার ব্যবস্থাও করতে হবে। এরপর ফিরে যায় বিহার পুলিশের দলটি।