জাতীয়

বিমানবন্দর সড়কে যানচলাচল শুরু

বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের প্রতিবাদে রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে অবরোধ করা শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দিয়েছে পুলিশ ও র‌্যাব। সোমবার (৩০ জুলাই) বিকাল ৩টা ৪৫ মিনিটের দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধাওয়ায় শিক্ষার্থীরা ইট-পাটকেল মারতে মারতে শেওড়ার দিকে সরে যায়। এরপর বিকাল ৪টা ১২ মিনিটে যানচলাচল শুরু হয়।

এর আগে সোমবার সকাল ১১টা থেকে বিমানবন্দর সড়ক (হোটেল র‌্যাডিসনের সামনে) অবরোধ করে রাখে ঢাকার বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা। এ কারণে বনানী থেকে উত্তরা, উত্তরা থেকে বনানী ও কালশি হয়ে উত্তরা যাওয়ার সড়কগুলো অচল হয়ে পড়েছে। এসব রাস্তার উভয় প্রান্তে তৈরি হয় যানজট।

অবরোধের কারণে হজযাত্রীরা আটকা পড়েছে জানিয়ে সড়ক ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিল পুলিশ ও রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষকরা। পরে কয়েকজন হজযাত্রীকে বহনকারী গাড়ি ও মোটরসাইকেল ছেড়েছে শিক্ষার্থীরা।

রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্টের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে আশেপাশের কয়েকটি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও সড়ক অবরোধ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে। এগুলো হলো ভাষানটেক সরকারি কলেজ, গুলশান কমার্স কলেজ, গুলশার ডিগ্রি কলেজ, মাইলস্টোন কলেজ, বিএফ শাহীন কুর্মিটোলা, আদমজী ক্যান্টনমেন্ট, ঢাকা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কলেজ, বনানী বিদ্যানিকেতন কলেজ।

অবরোধে ৯ দফা দাবি জানিয়েছে ঢাকার বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যে রয়েছে— নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খানের ক্ষমাপ্রার্থনা, বাসচালকদের গ্রেফতার, লাইসেন্সবিহীন চালকদের গাড়ি চালানো বন্ধ ইত্যাদি। এসব দাবি বাস্তবায়নে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটামও দিয়েছে তারা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অবরোধ কর্মসূচি থেকে পাঁচজনকে পুলিশ আটক করেছে। তবে গুলশান বিভাগের ডিসি মোশতাক আহমেদের দাবি, কাউকে আটক করা হয়নি।

বিমানবন্দর সড়কে যানচলাচল শুরুএদিকে অভিযুক্ত বাসচালক ও হেলপারদের বিরুদ্ধে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানায় রবিবার (২৯ জুলাই) রাতে নিহত শিক্ষার্থী দিয়া খানম মীমের বাবা জাহাঙ্গীর হোসেন মামলা দায়ের করেন। ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহান হক মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সোমবার ভোরে রাজধানীর মিরপুর থেকে ওই দুই বাসচালক ও তাদের সহকারীসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। র‌্যাব-১ উপ-অধিনায়ক মেজর ইশতিয়াক আহমেদ এ খবর নিশ্চিত করেছেন। গ্রেফতার হওয়া জাবালে নূর পরিবহনের দুই বাসচালক হলো জুবায়ের ও সোহাগ। তবে তাদের সহকারীদের নাম জানা যায়নি। গ্রেফতার ব্যক্তিদের ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানা যায়।

রবিবার রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের অদূরে বিমানবন্দর সড়কে (র‌্যাডিসন হোটেলের উল্টো দিকে) বাসচাপায় রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়। দুপুর সাড়ে ১২টায় বিমানবন্দর সড়কের বাঁ-পাশে বাসের জন্য অপেক্ষা করার সময় জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাস তাদের চাপা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলো দিয়া আক্তার মীম ও আব্দুল করিম। এ সময় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়। পথচারীরা সঙ্গে সঙ্গে আহতদের নিকটস্থ কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে গুরুতর আহত কয়েকজনকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে কলেজের শিক্ষার্থীরা। তারা জাবালে নূর পরিবহনের ওই বাসে আগুন ধরিয়ে দেয় ও শতাধিকের বেশি বাস ভাঙচুর করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।