ক্রিকেট

বিপিএলে কোন দল এগিয়ে?

বিপিএল! দেশের সবচেয়ে আকর্ষণীয় টুর্নামেন্ট। ঘরোয়া এই আসরের ষষ্ঠ সংস্করণ চলছে। শুরুতে যান্ত্রিক ত্রুটি ও কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে অভিযোগ থাকলেও সময়ের সাথে তা মিলিয়ে গেছে। ঢাকা-সিলেট ঘুরে বন্দর নগরী চট্টগ্রামের স্বাদ নিলো দেশের সবচেয়ে জাঁকজমক আয়োজনটি। বোলিং বান্ধব উইকেট তৈরি করায় স্বল্প রানের ইনিংস দেখেছিল দর্শকরা। তবে চট্টগ্রাম পর্ব থেকেই রান বন্যা দেখেছে ক্রিকেটপ্রেমীরা। আগে ব্যাট করতে নেমে গড়ে প্রায় দু’শ করে রান করেছে দলগুলো। এক ইনিংসে একাধিক ব্যাটসম্যানের শতক হাঁকানো দেখেছে বিপিএলের ষষ্ঠ আসর। একের পর ম্যাচের পর বিপিএলের বেলা ডোবার সময় হয়ে আসছে। আর মাত্র ৪ টি ম্যাচ। এই ম্যাচগুলোর পরই নিশ্চিত হবে কোন কোন দল খেলবে শেষ চারে। বিপিএলের এবারের আয়োজনে জানাবো সবগুলো দলের লাভ ক্ষতির হিসাব।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে দিয়েই শুরু করা যাক। কেননা, বিপিএলের ষষ্ঠ আসরে সবার আগে প্লে অফ নিশ্চিত করেছে কুমিল্লা। তারায় তারায় তারাময় একবারের চ্যাম্পিয়নদের দল। দেশি তারকায় ঠাসা দলটিতে রয়েছে দেশসেরা ওপেনার তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েসের মতো ব্যাটসম্যান। ঝড় তোলার জন্য রয়েছেন শামসুর রহমান। আর টি-টোয়েন্টির বিদেশী ফেরিওয়ালায় ভরপুর কুমিল্লা। এভিন লুইস, শাহীদ আফ্রিদি, লিয়াম ডসন, থিসারা পেরেরার মতো তারকারা। দুই ম্যাচ হাতে রেখেই শেষ চারের টিকেট কেটেছে এবারের আসরের অন্যতম শিরোপার দাবীদার কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স।

গতবারের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন রংপুর রাইডার্স। দল সাজিয়েই যারা সবসময় আলোচনায় থাকে। এবারেও এর ব্যতিক্রম নয়। ২০১৯ এডিশন আরোও তারকাখচিত। রংপুর রাইডার্স এবার এক খণ্ড নক্ষত্র পুঞ্জ! ক্রিস গেইল, অ্যালেক্স হেলস, রাইলি রুশো, এবি ডি ভিলিয়ার্স। নাম শুনেই আন্দাজ করা যায়, কতোটা শিরোপা পিপাসু বাংলাদেশের ‘রিয়াল মাদ্রিদ’! কিউই তারকা ব্রেন্ডন ম্যাককালাম না থাকলেও এবারের আসরে এবি ডি ভিলিয়ার্সকে উড়িয়ে এনেছে রংপুর। শিরোপা ধরে রাখতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে দলটি। শুরুতে কিছুটা খেই হারিয়ে ফেললেও শেষের দিকে নিজেদের গুছিয়ে নিয়েছে দলটি। ১১ ম্যাচ খেলে ৭ টি জয় নিয়ে ১৪ পয়েন্ট মাশরাফির দলের। শেষ চারে খেলা নিয়ে সংশয় কেটেছে রাজশাহী কিংসের বিপক্ষে জয় দিয়ে। ডি ভিলিয়ার্সকে দলে ভেড়ানোর পর কোন ম্যাচেই হারেনি রংপুর। তবে গেইল নিজেকে খুঁজে বেড়াচ্ছেন প্রথম ম্যাচ থেকেই। শিরোপা ধরে রাখতে ক্যারিবিয়ান দানবের ঘুম ভাঙার অপেক্ষায় রংপুর!

শুরু থেকেই ছন্দে ছিলো চিটাগং ভাইকিংস। প্রথম ৭ ম্যাচের ৬ টি তেই জিতেছিলো বন্দর নগরীর দলটি। একটি মাত্র হার ছিলো সিলেটের বিপক্ষে। তাও মাত্র ৫ রানে। ঢাকা ও সিলেট পর্বে ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিংয়ের দারুণ কম্বিনেশন দেখেছিল মুশফিক-রবি ফ্রাইলিংকরা। তবে ঘরের মাঠে খেলতে নেমেই খেই হারিয়ে ফেলে মুশফিক বাহিনী। চট্টগ্রামের মাটিতে নেমেই হারতে শুরু করে ভাইকিংস। প্রথম ৩ ম্যাচ হারের বৃত্তেই ঘুরপাক খেয়েছে। জয়ের দেখা পেয়েছে ৪ নম্বর ম্যাচে। উড়তে থাকা ঢাকাকে ১১ রানে হারিয়ে শেষ চার নিশ্চিত করে চিটাগং ভাইকিংস।

কুমিল্লা, রংপুর, চিটাগংয়ের পর চার নম্বর দল নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করার কিছু নেই। কাগজে কলমে ঢাকা ও রাজশাহী উভয় দলের শেষ চারে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও রাজশাহী অপেক্ষা ঢাকার সম্ভাবনা ঢের বেশি। কেননা, এখনো দুই ম্যাচ হাতে রয়েছে সাকিব আল হাসানের দলের। দুই ম্যাচের একটিতে জিতলেই ট্র‍্যাকে ফিরবে ঢাকা। শিরোপা পুনঃউদ্ধারে আছে আন্দ্রে রাসেল, সুনিল নারাইন, কাইরন পোলার্ডের মতো ‘ভাড়াটে’ ‘খুনি’ রা। যারা ব্যাটকে ব্যবহার করেন ‘তরবারি’র ন্যায়। আর বল ব্যবহার করেন ‘গোলা’ হিসেবে। ক্যারিবিয়ান ত্রয়ীর ভেলকি আর দেশীদের সমন্বয়ে ঝড়ো ইনিংস দেখার অপেক্ষায় ডাইনামাইটস ভক্তরা। 

ডেভিড ওয়ার্নার থাকাকালীন কিছুটা প্রাণবন্ত ছিলো সিলেট। তবে অস্ট্রেলিয়ান তারকা থাকাকালীনও সুবিধাজনক অবস্থানে ছিলোনা সিক্সার্স। ঝড় তুললেও প্রতিপক্ষের পাল্টা ঝড়ে উড়ে গিয়েছিল সিলেটের স্বপ্ন। ৭ হারে প্লে অফ খেলার আশা শেষ হয়েছে। বাকি ১ ম্যাচের ফল যাই হোক না কেন, এবারের সিজনে সিলেটের বিপিএল যাত্রা শেষ হচ্ছে ১লা ফেব্রুয়ারি চিটাগং ভাইকিংসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে যেখানে ব্যাটসম্যানদের জয়জয়কার, সেখানে বোলিং নির্ভর দল নিয়ে চমক দিয়েছে রাজশাহী কিংস। ১৩৫ কিংবা ১৪০ রান পুঁজি নিয়েই প্রতিপক্ষকে আটকে দিতে সক্ষম হতো মেহেদী হাসান মিরাজের দল। ১২ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের চারে অবস্থান কিংসের। তবে প্রথম চারে থেকেও স্বস্তি নেই রাজশাহীর। ঢাকা ডাইনামাইটস বাকি দুই ম্যাচের একটিতে জিতলেই কপাল পুড়বে মিরাজ বাহিনীর। টিভির সামনে বসে ঢাকার হার প্রার্থনা করা ছাড়া আপাতত কোন কাজ নেই মুস্তাফিজদের! 

আশা জাগানিয়া পারফর্মেন্স পুরো টুর্নামেন্টে একবারও দেখাতে পারেনি খুলনা টাইটানস। ১১ ম্যাচ খেলে মাত্র ২ ম্যাচ জিতেছে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের দল। প্লে অফ খেলার আশা বহু আগেই শেষ হয়েছে খুলনার। ৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তলানিতে মাহেলা জয়াবর্ধনের শিষ্যদের। পরবর্তী বিপিএলের জন্য অপেক্ষায় দিন গুনতে হবে খুলনার।