লাইফস্টাইল

বিধবা বৌদির সঙ্গে পনেরো বছরের ছেলের বিয়ে, কিন্তু কেন? এর কারনটা জানলে …

বাড়ি ভর্তি আত্মীয়দের ভিড়। বাইরে সানাইয়ের আওয়াজ। বাড়ির বারান্দায় সবেমাত্র নিমন্ত্রিত অতিথিদের খেতে দেওয়া হয়েছে। আচমকাই উচ্ছ্বাসের আবহের তাল কাটল।

ঘরের ভিতর থেকে শোনা গেল বুক ফাটা কান্নার আওয়াজ। ততক্ষণে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন বর। বিয়ের পোশাক তখন তার পরনে। কিন্তু কেন এমন পরিণতি? বিহারের গয়ার এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে মর্মান্তিক কাহিনী। যাতে ফের বিপন্ন সমাজব্যবস্থার চেহারাটাকেও।

আত্মঘাতী কিশোরের নাম মহাদেব দাস। নবম শ্রেণির ছাত্র মহাদেব গয়ার ভিনোবানগর গ্রামের বাসিন্দা। সোমবার সকালে নিজের বাড়িতেই গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হয় সে। তদন্তে নেমে পুলিসের হাতে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

পুলিস জানতে পারে, মহাদেবকে জোর করে তার থেকে দশ বছরের বড় বিধবা বৌদি রুবি দাসের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছিল পরিবার। সেই বিয়ে মেনে নিতে পারেনি মহাদেব। প্রথমে প্রতিবাদও করেছিল, কিন্তু পরিবার তার কথায় বিশেষ আমল দেয়নি। বিয়ের পর সেদিনই সন্ধ্যায় নিজের ঘরে গিয়ে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হয় মহাদেব।

কিন্তু প্রশ্ন কেন দশ বছরের বড় বিধবা বৌদির সঙ্গে পনেরো বছরের ছেলের বিয়ে দেওয়া হল?এর নেপথ্যেও উঠে এসেছে মর্মান্তিক ঘটনা। মহাদেবের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৩ সালে মহাদেবের বড় দাদার মৃত্যু হয়। তিনি একটি বেসরকারি সংস্থায় ইলেকট্রিসিয়ান ছিলেন। মৃত্যুর পর ওই কোম্পানির তরফ থেকে পরিবারকে ৮০ হাজার টাকা দেওয়া হয়।

মহাদেবের বাবা চন্দ্রশেখর জানিয়েছেন, ওই ৮০ হাজার টাকা তাঁর অ্যাকাউন্টে রয়েছে। কিন্তু তার বৌম রুবির পরিবার ওই ৮০ হাজার টাকা চেয়ে হুমকি দিতে থাকে। এক দফায় ২৭ হাজার টাকা রুবির অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করে দেওয়া হয় বলেও দাবি চন্দ্রশেখরের।

কিন্তু তাতেও কাজ হয় না। রুবির বাড়ি থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়, হয় ৮০ হাজার টাকার রুবির অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করে দেওয়া হোক, অথবা মহাদেবের সঙ্গে রুবির বিয়ে দেওয়া হোক। ৮০ হাজার টাকার জন্য মহাদেবের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয় রুবির। চাইল্ড ম্যারেজ অ্যাক্টের ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে।