অন্যরকম

প্রাচীন কালে রানীরা পাগলী হয়ে যা করতেন

ইতিহাস যে কত বৈচিত্র্য ও অদ্ভুত ঘটনার সাক্ষী, তা বলে শেষ করা যায় না। ইতিহাসে এমন কিছু রাজা-রানী ছিলেন, যারা তাদের কর্মকাণ্ডে ‘ইতিহাসের পাগলা রাজা-রানী’ বলে পরিচিত। আর এরা বড়ই বিচিত্র এবং অদ্ভুত ধরনের রাজা-রাণী ছিলেন। নতুন সময়ের পাঠকরা জেনে নিন এমনই কিছু রাজা-রানীর কথা।

ভ্লাদ দ্য ইম্পেলার : বিশ্বের সকল রাজা-রানীদের মধ্যে সবচেয়ে কুখ্যাত ইতিহাস রচনা করেছেন তিনি। রোমানিয়ার দক্ষিণাংশের কিং ভ্লাদ অব ওয়ালাচিয়ার ইতিহাসে বিখ্যাত ও কুখ্যাত হয়েছেন তার নিষ্ঠুরতার মাধ্যমে। তার নিষ্ঠুরতার এত গল্প ছড়িয়েছে যে, তার অনেকটা মিথলজির জন্ম দিয়েছে। তার চরিত্রের ওপর ভিত্তি করেই রচিত হয়েছে ব্রাম স্টোকারের বিখ্যাত চরিত্র ‘ড্রাকুলা’। তিনি নাকি বাস্তবে ড্রাকুলার চেয়েও ভয়ঙ্কর ছিলেন। শাসক অবস্থায় প্রায় ২০ হাজার মানুষকে মেরেছেন তিনি। আর তার মৃত্যুদণ্ডের প্রিয় উপায়টি ছিলো শূলে চড়িয়ে মারা। এটি সর্বকালের সবচেয়ে নিষ্ঠুত মৃত্যুদণ্ডের উপায় হিসেবে বিবেচিত।

কার্লোস ২ অব স্পেন : মানসিকভাবে দারুণ সংবেদনশীল ছিলেন তিনি। মানসিকভাবে অসুস্থ বলা হতো তাকে। একবার তিনি চাইলেন, তার মৃত স্বজনদের কফিন তুলে এনে তাদের দেখবেন তিনি। নিজের প্রতি বিস্ময়কর ধারণা পোষণ করতেন নিজেই।

জুয়ানা অব ক্যাসিলি : বিয়ের পর স্বামীর প্রেমে প্রায় পাগল হয়ে গেলেন জুয়ানা। স্বামী ফিলিপ দ্য হ্যান্ডসাম মারা গেলেন। এর পর তিনি প্রায়ই স্বামীর কফিন তুলে তার মৃতদেহকে আদর করতেন পাগলের মতো।

নিজের বিষয়ে অদ্ভুত সব ভয়ঙ্কর চিন্তা করতেন চার্লস। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, তার দেহের হাড় তৈরি হয়েছে কাঁচ দিয়ে। এগুলো যেনো ভেঙে না যায়, সেজন্য পোশাকে লোহার রড় ঢুকিয়ে নানা কাঠামো তৈরি করে তার মাঝেই থাকতেন।

জাস্টিন ২ অব বাইজান্টাইন : নিজের বিশাল অঞ্চল খুইয়ে পাগলপ্রায় হয়ে যান এই রাজা। তিনি মাথার ভেতরে শুধু মানুষের ফিসফিসানি শুনতে পেতেন। চাকরদের বলতেন তার মাথায় বাড়ি দিতে। কিংবদন্তি রয়েছে, তিনি তার দুজন চাকরকে হত্যা করে তাদের খেয়েও ফেলেন। তাকে শান্ত করতে নিজের রাজপ্রাসাদের মতো খেলনা প্রাসাদ বানিয়ে সাজিয়ে রাখতে হতো।

এম্প্রেস অ্যানা অব রাশিয়া : একজন পাপেট সম্রাজ্ঞী ছিলেন। মূলত দেশের এলিট শ্রেণি তাকে পরিচালিত করতো। তার সবচেয়ে বড় পাগলামি হলো, বয়স্ক প্রিন্সের বিয়ে ঠিক করেন একজন ভৃত্যের সঙ্গে। বরফের তৈরি আচ্ছাদনে তাদের বিয়ে আয়োজিত হয়। সেখানে তিনি ভাঁড়ের পোশাক পরে আনন্দ উপভোগ করেন।

সুলতান ইব্রাহিম-১ : খুব অল্প সময়ে অটোম্যান সাম্রাজ্যের পতন ঘটিয়েছিলেন তিনি। তার স্থূলকায় নারীদের প্রতি আসক্তি ছিলো। দেশে যেকোনো স্থূলকায় নারী তার তহবিল থেকে পেনসন পেতেন। নানারকম মাছ অ্যাকুরিয়ামে রাখতেন তিনি। তাদের সোনার কয়েন খাওয়াতেন। প্রতারণার অভিযোগে নিজের হেরেমের ২৮০ জন সদস্যকে বসফরাস সমুদ্রে ডুবিয়ে মারেন তিনি।