আর্ন্তজাতিক

প্রথমবার ছেলেকে নিয়ে মুখ খুললেন ওসামা বিন লাদেনের মা !

এফপি

ডেস্কনিউজ; এবার ওসামা বিন লাদেনের মা আলিয়া ঘানেম প্রথমবারের মতো গণমাধ্যমের সামনে আসলেন। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে তিনি ছেলেকে নিয়ে কথা বলেছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি জানিয়েছেন লাদেন সম্পর্কে বেশ কিছু অজানা তথ্য।

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ার্ড ট্রেড সেন্টারে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরে ভয়াবহ হামলায় প্রাণ হারিয়েছিল ২ হাজার ৭৫৩ জন। শনাক্ত হওয়া গেছে ১ হাজার ৬৪১ জনের পরিচয়। শুধু প্রাণের হিসেবেই নয়, সেই ঘটনায় পাল্টে গেছে বিশ্ব রাজনীতির মানচিত্র। ঘটনার পরপরই সন্দেহের তীর আল কায়দার ওপর গিয়ে পড়ে। প্রাথমিকভাবে নির্মম হামলাগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয় অস্বীকার করলেও ২০০৪ সালে হামলার দায় স্বীকার করে নেন আল কায়দা প্রধান ওসামা বিন লাদেন। পরে ২০১১ সালে মার্কিন সিল টিমের অভিযানে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে নিহত হন ওসামা বিন লাদেন।

ওসামা বিন লাদেন প্রায় দুই দশক ধরে আল কায়েদার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এতদিন তার মা কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু সৌদি আরবে ৩২ বছরের প্রভাবশালী যুবরাজ হিসেবে মুহাম্মদ বিন সালমান দায়িত্ব নেওয়ার পর লাদেন পরিবারের সাক্ষাৎকার নিতে দ্য গার্ডিয়ানের অনুরোধে সাড়া দেন তিনি। কারণ, লাদেন পরিবার সৌদি আরবের অন্যতম প্রভাবশালী পরিবার এবং তাদের সব ধরনের গতিবিধি ঘনিষ্ঠভাবে নজরদারিতে রাখা হয়।

এতদিন পর সাক্ষাৎকারের অনুমতির কারণ সম্পর্কে দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরব ও লাদেন পরিবারে ওসামার ঘটনাটি বড় ধরনের কলঙ্কজনক অধ্যায়। সিনিয়র কর্মকর্তারা মনে করছেন, লাদেন পরিবারকে তাদের কাহিনি বলার সুযোগ দিলে তারা একটি বার্তা দিতে পারবেন- আর তা হলো ওসামা তাদের কোনও এজেন্ট ছিলেন না। সৌদি আরবের সমালোচকরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছিলেন, ওসামা সৌদি সরকারের সমর্থন পেয়েছিলেন। একই সঙ্গে ৯/১১ হামলায় ক্ষতিগ্রস্তরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছে। বিমান হাইজ্যাকের ঘটনায় জড়িত ১৯ জনের মধ্যে ১৫ জনই ছিলেন সৌদি আরবের নাগরিক।

স্বাভাবিকভাবেই লাদেনের পরিবার দ্য গার্ডিয়ানের সঙ্গে শুরুতে আলোচনার বিষয়ে সতর্ক ছিল। তারা নিশ্চিত ছিলেন না যে পুরনো ক্ষত খুঁচিয়ে তুললে তা আবেগমুক্তি ঘটাবে নাকি ক্ষতিকর হবে। বেশ কয়েকদিন আলোচনার পর তারা সাক্ষাৎকারে রাজি হন।

দ্য গার্ডিয়ান প্রতিবেদক মার্টিন চুলব জানান, জুন মাসের শুরুতে গরমের দিনে তিনি লাদেন পরিবারের সঙ্গে প্রথম কথা বলেন। ওই সময় তাদের সঙ্গে সৌদি আরবের সরকারের একজন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। যদিও তিনি আলোচনায় কোনও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেননি।

ওসামার সৎভাইদের মাঝখানে বসে আলিয়া নিজের প্রথম সন্তান ওসামাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন। তিনি জানান, লাজুক হলেও সে পড়াশোনায় খুব ভালো ছিল। ২০ বছরের দিকে সে শক্তিশালী, উদ্যমী ও ধার্মিক ব্যক্তিতে পরিণত হয়।

ছেলেকে নিয়ে প্রথমবারের মতো মুখ খুলে আলিয়া ঘানেম আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, সে আমার কাছ থেকে অনেক দূরে ছিল, তাই আমার জীবন ভীষণ কঠিন ছিল। সে খুব ভালো ছেলে ছিল এবং আমাকে অনেক বেশি ভালোবাসতো।

লাদেনের মা সৎবাবাকে দেখিয়ে জানান, তিন বছর বয়স থেকেই ওসামাকে বড় করেছেন তিনি। তিনি ভালো মানুষ এবং ওসামার কাছেও ভালো ছিলেন।

তিনি আরো বলেন, জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের সময়েই ওসামা উগ্রবাদে জড়িয়ে পড়েন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকেরাই তাকে বদলে দেয়। সে অন্যরকম মানুষে পরিণত হয়। বিশ বছর পার হওয়ার প্রথম দিকে কিছু মানুষ তার দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে দেওয়ার আগ পর্যন্ত সে ভালো ছেলে ছিল। ওই মানুষেরা নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য অর্থ পেয়েছিল। আমি তাকে সবসময় এদের কাছ থেকে দূরে থাকতে বলতাম। কিন্তু সে কখনোই আমাকে কিছু বলত না। কারণ, সে আমাকে অনেক বেশি ভালোবাসত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here