আর্ন্তজাতিক

পাকিস্তানের কাছে একটি অত্যাধুনিক ‘মিসাইল ট্র্যাকিং সিস্টেম’ বিক্রি করেছে চীন।

‘মিসাইল ট্র্যাকিং সিস্টেম’

পাকিস্তানের কাছে একটি অত্যাধুনিক ‘মিসাইল ট্র্যাকিং সিস্টেম’ বিক্রি করেছে চীন। একাধিক অস্ত্রবাহী ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাণ এবং তার ক্ষমতা বৃদ্ধির গতি বাড়িয়ে তুলবে এ ব্যবস্থা। এ মিসাইল ট্র্যাকিং সিস্টেমের ফলে পাকিস্তান অনেকগুলো শহরকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে।
ভারত দুই মাস আগে এক আন্তর্মহাদেশীয় পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছিল। এ ক্ষেপণাস্ত্র চীনের বেইজিং ও সাংহাইয়ে আঘাত আনতে সক্ষম। এ খবরের পর এল পাকিস্তানের কাছে চীনের মিসাইল ট্র্যাকিং সিস্টেম বিক্রির খবর।

হংকংয়ের সংবাদপত্র ‘সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট’-এর এক প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি করা হয়েছে।

ভারতের আন্তর্মহাদেশীয় পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার দুই মাসের মাথায় সামনে এল চীনের কাছে ‘মিসাইল ট্র্যাকিং সিস্টেম’ কেনার খবরটি। এর ফলে ভারত-পাকিস্তানের অস্ত্র প্রতিযোগিতা ও শক্তিমত্তা প্রদর্শনের ব্যাপারটিও সামনে চলে আসছে। কাশ্মীরসহ নানা ইস্যুতে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্য বৈরী সম্পর্ক বিদ্যমান। দুই দেশের সীমান্তে মাঝেমধ্যেই উত্তেজনাও দেখা দেয়।

ভারতের সিঙ্গেল-ওয়ারহেড ক্ষেপণাস্ত্রটি অনেক বেশি পথ অতিক্রম করতে সক্ষম হলেও পাকিস্তান চেষ্টা করছে একাধিক লক্ষ্যে হামলার প্রযুক্তি ব্যবহারের। ‘মাল্টিপল ইন্ডিপেনডেন্ট টার্গেটেবল রি-এন্ট্রি ভেহিক্যাল-এমআইআরভি’ নামের এই গাড়িগুলো একসঙ্গে বিভিন্ন স্থানে পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে সক্ষম।

গত বুধবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়নি চীনের কাছ থেকে ওই ‘মিসাইল ট্র্যাকিং সিস্টেম’ কত অর্থ ব্যয়ে কিনেছে পাকিস্তান। ইতিমধ্যেই নাকি ট্র্যাকিং সিস্টেমটি ‘মিসাইল ফায়ারিং রেঞ্জে’ মোতায়েন করেছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। নতুন মিসাইল নির্মাণ নিয়ে চলছে বিস্তর পরীক্ষা-নিরীক্ষাও।

চায়নিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের (সিএএস) এক বিবৃতিতে বলা হয়, পাকিস্তানে এমন অস্ত্র সরবরাহ করা প্রথম দেশ চীন।

চিনের সিএএসে গবেষক ঝেং মেংউই খবরের সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন, ‘পাকিস্তান অতি উচ্চমানের, বড়মাপের অপটিক্যাল ট্র্যাকিং ও সিস্টেম কিনেছে চীন থেকে। এ ব্যবস্থার ফলে পাকিস্তান সামরিক বাহিনী নিজেদের নজরদারি আরও বাড়াতে পারবে। তাদের ‘ফায়ারিং রেঞ্জের; মধ্য অনেক কিছুই থাকবে।

ঝেং মেংউই আরও বলেন, ‘আমরা শুধু পাকিস্তানকে এক জোড়া চোখ দিয়েছি মাত্র। ওরা এটা দিয়ে যেখানে খুশি, এমনকি চাঁদেও নজরদারি চালাতে পারবে।’

উল্লেখ্য, বিভিন্ন সময়ে সামরিক বিশ্লেষকেরা দাবি করে থাকেন, পাকিস্তানের মিসাইল প্রোগ্রামে সব সময় সাহায্য দেয় চীন। তবে সরকারিভাবে এ অভিযোগ সব সময় খারিজ করে দিয়ে আসছে বেইজিং। সে ক্ষেত্রে এ স্বীকারোক্তির অর্থ হচ্ছে পাকিস্তান-নীতি পাল্টেছে কমিউনিস্টশাসিত দেশটি। আজীবন ক্ষমতার থাকার পথ পরিষ্কার হওয়া সি চিন পিংয়ের হাতে আসার পর থেকেই আরও আগ্রাসী চীন হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

পাকিস্তানের ট্র্যাকিং সিস্টেমের খবরটি যখন প্রকাশ পায়, সেদিন বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগতির ‘ব্রহ্মা’ নামে ভারত একটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করে। ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে তৈরি ব্রহ্মা ক্ষেপণাস্ত্রের এমন দ্রুতবেগে লক্ষ্যবস্তুর দিকে ধেয়ে যেতে সক্ষম যে রাডার তা চিহ্নিত করতে পারলেও মাঝপথে রুখে দেওয়া কঠিন। মার্কিন টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রকেও বহু পেছনে ফেলে দিয়েছে এই ব্রহ্মা ক্ষেপণাস্ত্র। ব্রহ্মা ক্ষেপণাস্ত্র ঘণ্টায় ৩ হাজার ৭০০ কিলোমিটার বেগে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। নিশানাও নিখুঁত। টমাহকের গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯০ কিলোমিটার ছিল। ব্রহ্মা ক্ষেপণাস্ত্র ভূমি এবং জাহাজ থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য দুটি সংস্করণ ইতিমধ্যেই ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারতের দ্রুত উত্থান অশনিসংকেত হিসেবে দেখছে চীন। তাই পাকিস্তানের সঙ্গে হাত মিলিয়ে দিল্লির ওপর চাপ বাড়াতে চাইছে বেইজিং। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই প্রযুক্তি হাতে আসায় পাকিস্তানের মিসাইল প্রোগ্রাম আরও দ্রুত এগিয়ে যাবে। ফলে আঞ্চলিক স্থিতাবস্থা বিঘ্নিত হওয়ার শঙ্কাও থাকছে।