আর্ন্তজাতিক

পাঁচ বিতর্ক ইমরানের পিছু ছাড়বে না!

অপ্রত্যাশিত কিছু না ঘটলে এটা মোটামুটি নিশ্চিত যে ইমরান খান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী হলেও সাবেক এ ক্রিকেট তারকা অন্তত পাঁচটি বিষয়ে নিজের বিতর্কিত অবস্থান অস্বীকার করতে পারবেন না। সেই পাঁচটি বিষয় ধরেই একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি।

নারীবাদ
পশ্চিমারা, বিশেষ করে যুক্তরাজ্যের অনেকেই পাকিস্তান ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ইমরানকে ‘মুক্তচিন্তার’ মানুষ হিসেবে দেখেন। এর মূল কারণ হলো, তিনি ‘আধুনিক’ জীবন যাপন  করেন এবং ব্রিটিশ সাংবাদিক জেমিমা গোল্ডস্মিথকে বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু ইমরানের আসল চেহারা সামনে আসে গত জানুয়ারিতে, যখন তিনি বলেন নারীবাদ একটা পশ্চিমা ধ্যান-ধারণা। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নারীবাদে মায়ের ভূমিকাকে উপেক্ষা করা হয়। সমালোচকরা মনে করেন, পাকিস্তানের রক্ষণশীল ভোটারদের মন পেতেই তিনি এ ধরনের ‘নির্বাচনী’ মন্তব্য করেন।

ধর্ম অবমাননার আইন
পাকিস্তানের ধর্ম অবমাননাবিষয়ক বিতর্কিত আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। বলা হয়, ইমরান খান এ আইনের অন্যতম এক সমর্থক। নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে টেলিভিশনে প্রচারিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, তাঁর দল ‘পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ’ (পিটিআই) এ আইন সমর্থন করে এবং ক্ষমতায় গেলে তা রক্ষা করবে। এ ছাড়া তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘মুহাম্মদ সর্বশেষ নবী—এ কথা বিশ্বাস না করা পর্যন্ত কেউ নিজেকে মুসলমান দাবি করতে পারে না।’ এ কথা পাকিস্তানের আহমাদি সম্প্রদায়ের লোকজন ব্যাপকভাবে আঘাত করে, যারা নিজেদের মুসলিম হিসেবে পরিচয় দেয় এবং বিশ্বাস করে যে মহানবীর পরও নবী আছে।

‘তালেবান খান’
তালেবানের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে পরিচিত সামি উল হক এবং জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে নিজের রাজনৈতিক জোটকে শান্তি আলোচনায় বসার জন্য বেশ কয়েকবার আহ্বান জানান ইমরান খান। তিনি এ আলোচনার জন্য এত বেশি আগ্রহ দেখান যে অনেকেই তাঁকে ‘তালেবান খান’ বলে ডাকা শুরু করে। এ ছাড়া ২০১৩ সালে তিনি এও বলেন যে পাকিস্তানে তালেবানকে কার্যালয় খোলার অনুমতি দেওয়া উচিত। এর আগের বছর মালালা ইউসুফ জাইয়ের ওপর তালেবানের হামলার নিন্দা প্রকাশে অনীহা দেখানোর কারণেও ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন পাকিস্তানের ‘নতুন প্রধানমন্ত্রী’।

যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলা
ইমরান খান বরাবরই পাকিস্তানের মাটিতে মার্কিন ড্রোন (চালকবিহীন বিমান) হামলার বিরোধী। তাঁর দাবি, ওই হামলায় পাকিস্তানের অনেক নিরীহ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র সব সময় এ অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে। ২০১২ সালে একবার কানাডা থেকে নিউ ইয়র্ক যাওয়ার সময় ইমরানকে বিমান থেকে নামিয়ে আটক করা হয় এবং ড্রোন হামলার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

দুর্নীতি
ইমরান খানের দৃষ্টিতে পাকিস্তানের নিরাপত্তা ঝুঁকির অন্যতম একটা কারণ হলো দুর্নীতি। এই দুর্নীতি থেকে দেশবাসীকে মুক্তির প্রতিশ্রুতি দিয়েই নির্বাচনে জয় পেয়েছেন তিনি। কিন্তু অন্যান্য দল থেকে যেসব নেতা পিটিআইয়ে যোগ দিয়েছেন, তাঁদের অনেকের বিরুদ্ধেই দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া ভবিষ্যতে তাঁর দলের লোকজন দুর্নীতিবিরোধী লড়াইয়ে কতটুকু এবং কত দিন সম্মান দেখাবে, তা এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সূত্র : এএফপি।