খেলাধুলা

পরের ইনিংসে তামিমের সঙ্গী বদল!

আবার সেঞ্চুরি : ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজটা দুর্দান্ত কেটেছে তামিম ইকবালের। তিন ম্যাচের দুটিতেই শতরান বাংলাদেশের এই ওপেনারের। প্রথম ওয়ানডেতে অপরাজিত ১৩০ রান করার পর দ্বিতীয় ম্যাচে ৫৪। কাল সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ওয়ানডেতেও সর্বশেষ ১০০ রানে ব্যাট করছিলেন তিনি। ১২০ বলে ৭ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কায় ইনিংসটি সাজিয়েছেন তামিম। তখন বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৩৭.৪ ওভারে ৩ উইকেটে ১৯৪ রান।

আবার সেঞ্চুরি : ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজটা দুর্দান্ত কেটেছে তামিম ইকবালের। তিন ম্যাচের দুটিতেই শতরান বাংলাদেশের এই ওপেনারের। অন্যটিতেও করেছেন হাফ সেঞ্চুরি। প্রথম ওয়ানডেতে অপরাজিত ১৩০ রান করার পর দ্বিতীয় ম্যাচে করেছেন ৫৪। দুর্দান্ত ছন্দটা ধরে রেখে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ওয়ানডেতেও ছুঁয়েছেন তিন অঙ্কের জাদুকরী স্কোর। সেন্ট কিটসে খেলেছেন ১২৪ বলে ৭ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কায় ১০৩ রানের ইনিংস। ক্যারিয়ারে এটা তামিমের একাদশ সেঞ্চুরি।  ছবি : এএফপি

দ্বিধান্বিত মানুষের এমনটাই হয়। জেসন হোল্ডারের খাটো লেন্থের বলটা হুক করলেন তিনি, মিস টাইমড হয়ে বল জমা পড়ে মিড অফ ফিল্ডারের হাতে। তাতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে নিশ্চিতভাবেই দীর্ঘকালীন ছুটি মিলে গেল এনামুল হকের। সেন্ট কিটসের ওয়ার্নার পার্কের প্লেয়ার্স প্যাভিলিয়নের পেছনেই তখন নেট করছিলেন লিটন কুমার দাশ। পরের ওয়ানডেতে যে তামিম ইকবালের সঙ্গে ইনিংসের গোড়াপত্তন করতে হবে তাঁকেই!

এটা নিছকই কোনো প্রেডিকশন নয়, দুবাইয়ে অনুষ্ঠেয় এশিয়া কাপেই আবারও সঙ্গী বদল করে ব্যাটিংয়ে নামতে দেখা যাবে তামিমকে। সবাইকে পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়ার সাম্প্রতিক রীতি যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে নিশ্চিত করেই বলা যায় যে এশিয়া কাপ জুড়ে নিজের পছন্দের জায়গায় ব্যাটিং করবেন লিটন। তিনি ব্যর্থ হলে দেশের মাটিতে জিম্বাবুয়ে সিরিজে সুযোগ মিলবে সৌম্য সরকারের। তিনিও যদি ব্যর্থ হন, তাহলে? তাহলে হয়তো আবার ইমরুল কায়েসের শরণাপন্ন হবে টিম ম্যানেজমেন্ট। তামিম এবং ‘অন্য একজন’কে দিয়ে ইনিংস শুরুর সংকট থেকে যে মুক্তিই মিলছে না বাংলাদেশের।

অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার বিশ্বকাপ চিন্তার সূত্র ধরে এনামুল হক ডাক পেয়েছিলেন দলে। এক দ্বিতীয় ওয়ানডেতে রান রেটের চাপ কমিয়ে দেওয়া ছাড়া পুরোপুরি বিভ্রান্তই দেখিয়েছে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে দ্রুততম সময়ে ওয়ানডেতে হাজার রান পূর্ণ করা এনামুল। কিন্তু সেসব এখন ইতিহাস। ক্ষমতাবান অধিনায়কের জোরালো সমর্থনও তাঁকে আর আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে দেয় না। ১৯৮৬-৮৭ মৌসুমে ভারত সফরে পাকিস্তানের তৎকালীন অধিনায়ক ইমরান খান ঠিক এভাবেই পুরো সিরিজজুড়ে বয়ে বেরিয়েছিলেন রিজওয়ান উজ্জামানকে। তবে এরপর আর পাকিস্তানের জার্সিতে ওয়ানডেতে দেখা যায়নি তাঁকে। এক বছর পর থেমে পড়ে রিজওয়ানের টেস্ট ক্যারিয়ারও।

এনামুলের ভবিষ্যৎ এখন পুরোপুরি তাঁর নিজের হাতে। পর্যাপ্ত সুযোগ না পাওয়ার অনুযোগ অন্তত আর করতে পারবেন না তিনি। তিনটি ম্যাচ খেললেন, যেসব ম্যাচে প্রতিপক্ষের বোলিং মান মোটেও বিশ্বসেরা নয়, উইকেট রক্তচক্ষু দেখায়নি। তা ছাড়া অধিনায়কের তুলে ধরা যুক্তির সূত্র ধরে কোচ এবং বাকি দলের পূর্ণ সমর্থনও মিলেছে এনামুলের। এরপর আর সুযোগ না দেওয়ার অনুযোগ শুনতে হবে না—‘এনামুল চ্যালেঞ্জে’ হারার পর হয়তো এটাই মাশরাফির একমাত্র স্বস্তির জায়গা!

কিন্তু চরম অস্বস্তিতে বাংলাদেশ। টস জিতুক কি হারুক— খুব দ্রুত এক উইকেটের পতন ঘটবে। সিংহভাগ ক্ষেত্রে ড্রেসিংরুমে ফিরে আসা ব্যাটসম্যানটি হন তামিমের সঙ্গী। তাই অনেকটা বাধ্য হয়ে এখন তামিমের ব্যাটে দীর্ঘস্থায়িত্ব খোঁজে পুরো দল। জাভেদ ওমর থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত ১৪ জনের সঙ্গে ইনিংস ওপেন করেছেন তিনি। এনামুল হক, লিটন দাশ, সৌম্য সরকার ও ইমরুল কায়েস— আপাতত এই চারজন আছেন তামিমের সম্ভাব্য উদ্বোধনী সঙ্গীর তালিকায়। এঁদের মধ্য থেকে কাল ঝরে পড়লেন এনামুল। বাকি তিনজনের পরিণতি ভবিষ্যতের হাতে।

এনামুলের ‘উইকেট পতনে’র পর লিটন দাশকেই ব্যাটিংয়ে নামতে দেখা যাচ্ছে! সেই শুরু থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজে আছেন। এরপর প্রস্তুতি ম্যাচে ৭০ রানের ইনিংস খেলার পর এনামুলের আগে তাঁকে খেলানোর পক্ষেই ভোট বেশি পড়েছিল। কিন্তু এনামুলকে ‘জবরদস্তি’ দেশ থেকে উড়িয়ে এনে বসিয়ে রাখার তো কোনো মানে হয় না। তবে প্রতিবারই একাদশে এনামুলের নাম লেখার সময় অধিনায়কের মনে লিটন দাশের ছবি উঁকি দেওয়া অসম্ভব নয়। প্রকাশ্যে লিটনকে ‘আনলাকি’ বলবেন কেন তিনি? যত দূর জানা গেছে, সেন্ট কিটসে তৃতীয় ওয়ানডের আগে লিটনের সঙ্গে বসেছিলেন মাশরাফি। খোলামেলা আলোচনায় তিনি অধিনায়ককে জানিয়েছেনও যে, ওপেনারের ভূমিকাতে নিজের স্বচ্ছন্দের কথা।

স্বচ্ছন্দ কতটা, তার প্রতিচ্ছবি অবশ্য সেভাবে নেই লিটনের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে। খেলেছেনই মোটে ১১ টেস্ট আর ৩ ওয়ানডে। অবশ্য দুই ফরম্যাটেই তাঁর সর্বোচ্চ ইনিংস টপ অর্ডারে খেলে। টেস্টে তিন ফিফটির সবগুলোই টপ অর্ডারে খেলে। টেস্টে তাঁর সেরা ৯৪ রানের ইনিংস তিন নম্বরে খেলে। আর ওয়ানডে সর্বোচ্চ ৩৬ রানও একই পজিশনে খেলে করেছেন তিনি। সাকিব আল হাসান তিন নম্বরে খেলে ফেলায় আপাতত তামিমের উদ্বোধনী সঙ্গী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করা ছাড়া কোনো উপায় নেই লিটনের। তাই ওপেনার হয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে ফিরতে চান তিনি।

যেভাবে ‘একে একে নিভেছে দেউটি’, তাতে লিটনের ইচ্ছার পথে বাধা দেওয়ার কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না মাশরাফি বিন মর্তুজাও।

সেদিন অলস এক বিকেলে জাতীয় দলের এক ক্রিকেটার ঠাট্টাচ্ছলেই বলছিলেন, ‘শুনছেন নাকি, এখন নাকি অনেকেই ইনিংস ওপেন করছে?’ এই পজিশনে খেলে ঘরোয়া ক্রিকেটে টপ অর্ডারে ভালো করলেই যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পথ খুলে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা। ঘরোয়া ক্রিকেটের মান নেই তো কি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তামিমের কোনো উদ্বোধনী সঙ্গীরও তো ব্যাটে রান নেই!