আর্ন্তজাতিক

পথচলা কঠিন হবে

পাকিস্তানে এ বছরের নির্বাচনে যেভাবে মৌলবাদী দলগুলোর উত্থান ঘটেছে, যার পেছনে খোদ সেনাবাহিনীর মদদ রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে, তাতে যারাই নতুন সরকার গঠন করুক না কেন তাদের যেতে হবে এক কঠিন অবস্থার ভেতর দিয়ে। অন্তত বিশ্লেষকরা এমনটাই মনে করছেন।

ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব ওয়ার্ল্ড অ্যাফেয়ার্সের মহাপরিচালক ড. টি সি এ রাঘবন গতকাল ভোটের দিন এক মন্তব্যে বলেন, ‘এবার অনেকগুলো (রাজনৈতিক) ধারার অংশগ্রহণে বড় ধরনের নির্বাচন হচ্ছে এবং যেকোনো একটি ধারা সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হবে, এমন সম্ভাবনা কম।’ তাঁর ধারণা, সাবেক ক্রিকেটার ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এগিয়ে আছে বলে মনে হলেও দলটির সঙ্গে নওয়াজ শরিফের পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হচ্ছে।

নির্বাচনে মৌলবাদীদের অংশগ্রহণ সম্পর্কে পাকিস্তানে নিযুক্ত সাবেক ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘মূলধারার রাজনীতিতে চরমপন্থীদের অংশগ্রহণ হলো নির্বাচনের একটা দিক। কিন্তু ধর্মভিত্তিক দলগুলো সাধারণত সর্বোচ্চ সফলতা পায় না।’

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাবেক বিশেষ দূত সতিন্দর কে লাম্বাহ মনে করছেন, গণমাধ্যমগুলো পিএমএল-এনকে যেভাবে খাটো করে দেখিয়েছে, সেটা ভুল হতে পারে।

নওয়াজের গ্রেপ্তার ঘিরে সৃষ্ট মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পাকিস্তানি সাংবাদিক সাজিদ ইকবাল বলছেন, ‘এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানি রাজনীতির বিশেষত অস্থিতিশীল পর্যায়টির নতুন সূচনা হতে যাচ্ছে। এ মামলা এক দিনে শেষ হওয়ার নয়।’

বিশ্লেষকদের এসব মন্তব্য সবটাই অনুমাননির্ভর এবং দূর থেকে পর্যবেক্ষণই তাদের সব তথ্যের উৎস। কেননা পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা হয়েছে এবং এ কঠোরতার জন্য সরাসরি সেনাবাহিনীকেই দায়ী করা হচ্ছে। ভারত জানিয়েছে, তাদের একজন সাংবাদিককেও পাকিস্তানের ভিসা দেওয়া হয়নি বা নির্বাচনী তথ্য সংগ্রহের অনুমতি দেওয়া হয়নি। এদিকে পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশনও সব তথ্য প্রকাশ করছে না।

এর পরও বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভারতের সংবাদমাধ্যম বলছে, পাকিস্তানের এবারের নির্বাচনে মৌলবাদী বা সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর সঙ্গে জড়িত ৪৬০ প্রার্থীর অপ্রত্যাশিত তৎপরতা দেখা গেছে। তাঁদের মধ্যে ২০০৮ সালে মুম্বাই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত হাফিজ সাঈদের মিল্লি মুসলিম লীগের ১৭২ জন রয়েছেন। হাফিজ সাঈদ নিজে প্রার্থী না হলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন তাঁর ছেলে ও জামাতা।

এ ছাড়া ভারতের রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং (র) জানায়, নিষিদ্ধঘোষিত আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের ১০০ প্রার্থী স্বল্প পরিচিত রাহ-ই-হক দলের হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।

‘র’ কর্মকর্তাদের দাবি, পাকিস্তানের নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার অনেক চরমপন্থী প্রার্থীর নাম সন্ত্রাসীর তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে। এ ধরনের প্রার্থীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন বলছে, তারা স্রেফ আদালতের নির্দেশ মেনে চলছে।

এ অবস্থায় পাকিস্তানের নেতৃত্বে যদি পরিবর্তন আসে, বিশেষত মৌলবাদীদের যদি জয় হয়, তবে সীমান্তে সেটার সরাসরি প্রভাব পড়বে—এমনটা বলেন ভারতের কাশ্মীরবিষয়ক একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

সূত্র : দ্য হিন্দু, এনডিটিভি।