আর্ন্তজাতিক

নিজের বুলেটপ্রুফ গাড়িও বিক্রি করে দেবেন ইমরান খান!

দেশের ধনীদের কর দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জীবন যাপনে বিলাসিতা ত্যাগ ও সংযমের ডাক দিয়েছেন পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তিনি বলেছেন, ঋণের চাপ কমাতে দ্রুতই দেশজুড়ে কৃচ্ছ্রতা অভিযানও শুরু করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের বুলেটপ্রুফ গাড়িবহরের বেশিরভাগ গাড়ি বিক্রি করে দিয়ে নিজেই এ কৃচ্ছ্রতা অভিযানের উদ্বোধন করবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

রবিবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া প্রথম ভাষণে ইমরান ঋণের মাত্রা ও দারিদ্রতা কমিয়ে ইসলামী কল্যাণমূলক ব্যবস্থায়‘নতুন পাকিস্তান’ গড়ে তোলার দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, ‘ঋণ নিয়ে জীবনযাপন ও অন্য দেশের কাছ থেকে সহায়তা নিয়ে চলার বাজে অভ্যাস করেছি আমরা। কোনো দেশ এভাবে উন্নতি করতে পারে না। একটি দেশকে অবশ্যই নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে।’

কৃচ্ছ্রতা অভিযান পরিচালনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ইশরাত হুসেনের নেতৃত্বে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ঔপনিবেশিক আমলের মানসিকতা ও অভিজাত পাকিস্তানিদের বিলাসী জীবনযাপনের সমালোচনা করে পিটিআইর এ নেতা প্রাসাদোপম প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বদলে তিন কক্ষবিশিষ্ট একটি ছোট বাসায় থাকবেন বলে ঘোষণা দেন।

প্রধানমন্ত্রীর জন্য নিয়োজিত ৫২৪ জন কর্মচারীর সংখ্যা কমিয়ে ২ এ নামিয়ে আনার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি বুলেট প্রুফ গাড়ি বহরের অধিকাংশই বিক্রি করে দিয়ে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ঘাটতি মোকাবিলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।

মুসলিম জঙ্গিদের হুমকির মুখে থাকা পাকিস্তানের কোনো প্রধানমন্ত্রীর জন্য এমন পদক্ষেপ ‘বেশ সাহসী’ বলে মন্তব্য করেছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

‘আমি আমার জনগণকে বলতে চাই, আমি সাধারণ জীবনযাপন করবো, আমি আপনাদের অর্থ বাঁচাবো,’ বলেন পাকিস্তানের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী।

ভাষণে প্রবাসী পাকিস্তানিদের নিজের দেশে বিনিয়োগ ও ধনীদের নিয়ম মেনে কর দেওয়ারও আহ্বান জানান ইমরান। ব্যক্তি পর্যায়ে কর ফাঁকির জন্য পাকিস্তান বিখ্যাত। দেশটির মোট জনসংখ্যার ১ শতাংশেরও কম লোক নিয়মিত আয়কর দেয় বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

‘কর দেওয়া আপনাদের দায়িত্ব। মনে করুন এটি জিহাদ, আপনার দেওয়া কর দেশের উন্নতিতে ব্যয় হবে,’ বলেছেন পিটিআইপ্রধান।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পাকিস্তান ভয়াবহ বিপদে আছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। নবজাতক ও মাতৃমৃত্যুর হার কমানোর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।

পাশাপাশি স্কুলের বাইরে থাকা সোয়া দুই কোটিরও বেশি শিশুকে সাহায্য করার বিষয় নিয়েও কথা বলেছেন তিনি। এ সময় আগে কখনোই সরকারি কোনো দায়িত্বে না থাকা ইমরানের কণ্ঠে ছিল আবেগের রেশ।

প্লেবয় জীবনযাপন থেকে ধর্মীয় রাজনীতিতে আকৃষ্ট হওয়া এ সাবেক ক্রিকেটার বলেছেন, মদিনায় নবী মোহাম্মদ (সাঃ) যে আদর্শ রাষ্ট্রের কথা বলেছিলেন, পাকিস্তানকে সেই আদলেই একটি কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চান তিনি।

‘আল্লাহ যাদের পর্যাপ্ত দেননি আমি তাদের পেছনেই খরচ করতে চাই,’ বলেছেন ইমরান।

সূত্র: রয়টার্স