জাতীয়

নিজেদের জনগণের সেবক মনে করি

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র এবং কাউন্সিলররা গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শপথ গ্রহণ করেছেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের সেবা আমাদের দায়িত্ব। আমরা নিজেদের জনগণের সেবক মনে করি এবং সেভাবেই কাজ করি।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলমকে এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন কাউন্সিলরদের শপথবাক্য পাঠ করান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব জাফর আহমেদ খান। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং গাজীপুরের রাজনৈতিক নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

নবনির্বাচিত মেয়র এবং ৭০ জন কমিশনার এদিন শপথ গ্রহণ করেন। হাইকোর্টের নির্দেশে কাউন্সিলরদের ছয়টি আসনের নির্বাচন স্থগিত রয়েছে। গত ২৬ জুন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

শপথগ্রহণ শেষে প্রধানমন্ত্রী জনপ্রতিনিধিদের নিজ নিজ এলাকায় কাজ করে মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘জনগণ ভোট দিয়েছে। আপনারা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। সবাইকে একটা অনুরোধ করব দেশের মানুষের সেবা করতে হবে।’

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাঁর সরকার সব এলাকার সমউন্নয়নে বিশ্বাসী। কাজেই দল-মত-নির্বিশেষে যারাই নির্বাচিত হয়েছেন আপনারা এলাকার মানুষের জন্য কাজ করতে পারবেন। আমরা পরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে সে সুযোগ সৃষ্টি করেছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশকে ক্ষুধা মুক্ত করেছি। এখনো দারিদ্র্য মুক্ত করতে পারিনি। এই দেশকে আমরা দারিদ্র্য মুক্ত করে গড়ে তুলব। ইনশাআল্লাহ ২০২১ সালে বাংলাদেশকে দারিদ্র্য মুক্ত করে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদ্‌যাপন করব।’

বাংলাদেশ চায় রোহিঙ্গারা ফেরত যাক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ মানবিক কারণে মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে আগত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে, কিন্তু এখন চাচ্ছে তারা ফেরত যাক। বাংলাদেশে মিসরের নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ওয়াহিদ আহমেদ শামসেলদিন সকালে প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এলে শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইহসানুল করিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী এবং মিসরের রাষ্ট্রদূত দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করেন। রোহিঙ্গা প্রসঙ্গও তাঁদের আলোচনায় উঠে আসে। শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ এ বিষয়ে মিয়ানমার এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেছে, কিন্তু মিয়ানমার চুক্তি অনুযায়ী পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

রাষ্ট্রদূত বলেন, তিনি দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং সহযোগিতাকে আরো বৃদ্ধির জন্য কাজ করবেন। রাষ্ট্রদূত বলেন, মিসর বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী এবং বাংলাদেশের একটি বৈদ্যুতিক তার কারখানা প্রতিষ্ঠায় প্রস্তুত আছে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর সন্ত্রাস এবং মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধেরও প্রশংসা করেন। সূত্র : বাসস।