সারাদেশ

নাগরিকত্ব দিতে আগ্রহ নেই মিয়ানমারের

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের অধিকার নিশ্চিত করেই ফেরত পাঠাতে চায় বাংলাদেশ। এ জন্য গত নভেম্বরে মিয়ানমারের সঙ্গে চুক্তিতে সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের বিষয়টি রাখা হয়েছে। গত বছরের ২৪ আগস্ট আনান কমিশনের সুপারিশে সংকটের জন্য রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব না থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে এটি দূর করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু মিয়ানমার সরকার এ বিষয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। তারা রোহিঙ্গাদের ‘নাগরিত্ব যাচাইকরণ কার্ড’ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলছে, এটি নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রথম ধাপ। কিন্তু রোহিঙ্গারা এ প্রক্রিয়া নিয়ে শঙ্কিত।

গত ১০ আগস্ট মিয়ানমার সরকারের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের ‘জোরপূর্বক’ বাস্তুচ্যুত হিসেবে বাংলাদেশ উল্লেখ করবে না। তবে পরদিন বাংলাদেশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রোহিঙ্গাদের ‘জোরপূর্বক’ বাস্তুচ্যুত হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, নেপিডোতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মিয়ানমারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে রোহিঙ্গাদের ‘জোরপূর্বক’ বাস্তুচ্যুত হিসেবে উল্লেখ না করার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। বাংলাদেশ কৌশলগত কারণে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ কোনোটিই বলেনি। এতেই মিয়ানমার ধরে নেয় বাংলাদেশ সম্মতি দিয়েছে। ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, মিয়ানমারের ওই প্রস্তাবে বাংলাদেশ যে সম্মত হয়নি তা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ১১ আগস্টের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেই স্পষ্ট।

কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের সঙ্গে এর আগে বাংলাদেশের যে দুই দফা সমঝোতা হয়েছিল তাতে কেবল ফিরে যাওয়ার প্রসঙ্গ ছিল। ফিরে যাওয়ার পর তাদের পরিস্থিতি দেখার দায়িত্ব মিয়ানমার সরকারের।

ঢাকায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, মিয়ানমারের সঙ্গে আগের সমঝোতার সময় সেখানে গণতান্ত্রিক সরকার ছিল না। এ কারণে মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার পর রোহিঙ্গারাদের অধিকারের বিষয়টিও তাতে উল্লেখ ছিল না। মিয়ানমারে অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি বলেই তাদের আবার ফিরতে হয়েছে। এমন অনেক রোহিঙ্গা আছে যারা বাংলাদেশে তৃতীয়বারের মতো আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, “১৯৭৮ সালে মিয়ানমারের সঙ্গে সমঝোতায় আমরা রোহিঙ্গাদের ‘ল’ফুল রেসিডেন্টস অব বার্মা’ (বার্মার আইনি বাসিন্দা) বলেছি। ১৯৯২ সালে আমরা বলেছি ‘মেম্বারস অব মিয়ানমারস সোসাইটি’ (মিয়ানমার সমাজের সদস্য)। সেখানে তাদের অধিকার নিয়ে ব্যাপক ছাড় দেওয়া হয়েছে।” তিনি আরো বলেন, ‘এবার বলেছি, অনুকূল পরিবেশ থাকতে হবে। কারণ তাদের এক যুদ্ধক্ষেত্র থেকে নিয়ে আরেক যুদ্ধ ক্ষেত্রে ফেলে দেওয়া চলবে না। তাদের অধিকার থাকবে, অত্যাচার হবে না। তারা মিয়ানমারের আইন-কানুন মেনে চলবে।’