খেলাধুলা

ধর্ষণ মামলায় রেহাই পেল রোনালদো কিন্তু নেইমারের কি হবে ?

এফপি

ডেস্কনিউজ; লাস ভেগাসে ১০ বছর আগে করা ধর্ষণ মামলার অভিযোগ থেকে রেহাই পেলেন পর্তুগাল সুপার স্টার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ঐ ঘটনার সঙ্গে তার সংশ্লিষ্ঠতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

রোনালদোর মতোই ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড নেইমার জুনিয়রের বিরুদ্ধে। সেই অভিযোগে করা মামলা এখনও চলমান। ইতোমধ্যে পুলিশ নেইমারকে পুলিশি জিজ্ঞাসাবদাও সম্পন্ন হয়েছে। তবে প্রশ্ন থাকে, নেইমার কী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর মতো নির্দেোষ প্রমাণ করতে পারবেন নিজেকে?

সর্বকালের সেরা ফুটবল তারকাদের অন্যতম জুভেন্টাস ফোরয়ার্ড এই মামলায় নির্দোষ ঘোষণা করা হয়েছে। ক্যাথরিন মায়োর্গা নামের এক মহিলা তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে নেভাদার একটি আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছিলেন। যেখানে বলা হয় ২০০৯ সালে লাস ভেগাসের একটি হোটেলের স্যুইট রুমে তাকে ধর্ষণ করেছিলেন রোনালদো। এ জন্য তাকে ৩ লাখ ৭৫ হাজার মার্কিন ডলার প্রদান করা হয়েছিল বলেও জানান তিনি।

ক্লার্ক কাউন্টি ডিস্ট্রিকের এ্যাটর্নি অফিস সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, একজন মহিলা ২০০৯ সালের ১৩ জুন লাস ভেগাস পুলিশকে অভিযোগ করেন যে তাকে যৌন হয়রানি করা হয়েছে। পরে পুলিশ তাকে পরীক্ষা করানোর জন্য হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু তখন নিজের যৌন হয়রানিকারীকে শনাক্ত করতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।

প্রসিকিউটররা জানায়, ২০১০ সালে রোনালদো ও মায়োর্গা বিষয়টি নিয়ে আপোষ রফায় আসেন। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাও ২০১৮ সালের ২৮ আগস্টে ফের মামলাটি শুরু করার আগে এ বিষয়ে আর কোন কিছু শোনেননি। নতুন করে শুরু করা মামলায় তিনি দাবী করেন রোনালদোই তাকে যৌন হয়রানি করেছিলেন এবং বিষয়টি তদন্তের জন্য পুলিশের প্রতি আহ্বান জানান।

ফলে ৮ জুলাই লাস ভেগাস পুলিশ ক্লার্ক কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট এ্যাটর্নি অফিসকে মামলাটি চালানোর আহ্বান জানায়। সোমবার এ্যাটর্নি অফিসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘ওই সময় উপস্থাপিত তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণীত হয়নি এবং তাকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়।’

ধর্ষণ মামলা পিছু ছাড়ছেই না নেইমারের। জুনে থানায় গিয়ে হাজিরা দিয়ে এসেছেন। এবার ধর্ষণের সেই কথিত অভিযোগের বিষয়ে ফুটবল সুপারস্টার নেইমারকে প্রায় ৫ ঘন্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ব্রাজিলীয় পুলিশ।

মে মাসে প্যারিসের একটি হোটেলে সাক্ষাৎ করতে যাওয়া এক মহিলাকে নেইমার ধর্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে, যেটি বরাবরের মত অস্বীকার করে আসছেন পিএসজি তারকা।

বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টায় থানায় প্রবেশ করেন নেইমার। থানা থেকে বের হন রাত ৯টার পরে। পরে থানা গেটের সামনে উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আজ নয়তো কাল, সত্য একদিন বের হবেই!’

নেইমারের নামে পুলিশের মানহানি মামলার একদিন পরেই দ্বিতীয়বারের মতো থানায় হাজির হলেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। বাদী নাহিলা ট্রিনদাদে ডি সুজার করা ধর্ষণ মামলার জবাবে নেইমারের বানানো একটি ভিডিও দেখে তার বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দেয় ব্রাজিলিয়ান পুলিশ। তাদের অভিযোগ ভিডিও বানিয়ে বাদীর গোপনীয়তা লঙ্ঘন করেছেন নেইমার।

নেইমার দোষী নাকি নির্দোষ সে নিয়ে ২০৭১ জনের জরিপে একটি পরিসংখ্যানও হয়ে গেছে ব্রাজিলে। সেখানে ৬০ শতাংশ ব্রাজিলিয়ান মনে করেন সম্পূর্ণ নির্দোষ তিনি। মাত্র ১৪ শতাংশের রায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা! সুত্র; নয়াদিগন্ত