লাইফস্টাইল

দোয়া করি মেয়েটির স্বপ্ন পূরণ হোক

বাবা দিনমজুর আর মা গৃহিণী। তিন ভাইবোনের মধ্যে বড় তাহমিনা খাতুন। প্রবল ইচ্ছাশক্তি ও শিক্ষকদের সহযোগিতায় এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়ে মা-বাবার মুখ উজ্জ্বল করেছে সে। তবে তার উচ্চশিক্ষা গ্রহণ এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

তাহমিনা তেঁতুলিয়া গ্রামের দিনমজুর তাহের শেখ ও গৃহিণী রাজিয়া বেগমের কন্যা। বসতভিটা ছাড়া বাবার সম্পদ বলতে কিছু নেই। বাবা পরের বাড়িতে শ্রম দিয়ে স্ত্রী ও তিন সন্তানের সংসার চালান।

তাহমিনা খাতুন জানায়, সে চরফরিদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পাস করে ভর্তি হয় ইন্দুরদী উচ্চবিদ্যালয়ে। ২০১৩ সালে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৪.৫৬ পায়। স্থানীয় বহরপুর ডিগ্রি কলেজে ভর্তি হওয়ার পর থেকে কলেজের ইংরেজি শিক্ষক ইকবাল হোসেন ও হিসাববিজ্ঞান শিক্ষক ফয়জুর রহমান খান বাচ্চু বিনা পয়সায় তাকে প্রাইভেট পড়ান।

শিক্ষকদের ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় সে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে বাণিজ্য বিভাগ থেকে জিপিএ ৫ পেয়েছে। বাবার অর্থ না থাকায় এখন উচ্চশিক্ষা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তার জীবনের ইচ্ছা একজন আদর্শ শিক্ষক হওয়ার, কিন্তু অর্থের অভাবে সেই স্বপ্ন কি অঙ্কুরেই শেষ হয়ে যাবে? সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে চায়।

যদি কেউ তার প্রতি আর্থিক সহযোগিতার হাত বাড়ায় তাহলে স্বপ্ন পূরণ হবে তাহমিনার।
তাহমিনার বাবা তাহের শেখ জানান, তার যত কষ্টই হোক মেয়েকে শিক্ষক হিসেবে গড়ে তুলতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাবেন। তার মেয়ের উচ্চশিক্ষায় সমাজের সহৃদয় মানুষদের এগিয়ে আসার অনুরোধ জানান তিনি।