অর্থনীতি

দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে সিমেন্সের সঙ্গে চুক্তি সই

দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র হতে যাচ্ছে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র। ৩ হাজার ৬০০ মেগাওয়াটের এই বিদ্যুৎকেন্দ্র যৌথভাবে নির্মাণ করবে জার্মানির সিমেন্স এজি ও বাংলাদেশের নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি (এনডব্লিউপিজিসিএল)। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে শুক্রবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে সিমেন্স ও নর্থ ওয়েস্ট কোম্পানির মধ্যে যৌথ উন্নয়ন চুক্তি (জেডিএ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

সিমেন্সের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন কোম্পানিটির প্রেসিডেন্ট (গ্যাস এবং ওয়ার ) রিচার্ড ক্লেটন রেজিং এবং  নর্থ ওয়েস্ট কোম্পানির সচিব দীপক কুমার ঢালী। এর আগে গত বছরের ৫ নভেম্বর সমঝোতা স্মারকে সই করে এই দুই সংস্থা।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মানির ডেপুটি হেড অব মিশন মাইকেল সুথাই, সিমেন্স বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্রবাল বোস, পিডিবি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী খালেদ মাহমুদ , এনডব্লিউপিজিসিএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এম খোরশেদুল আলম সহ আরও অনেকে বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, আমদানি করা এলএনজি-নির্ভর এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে দুই দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে। এরমধ্যে দুই দশমিক ৪০ বিলিয়ন ঋণ করা হবে। বাকি ৪০০ মিলিয়ন ডলার  দুই সংস্থা সমানভাবে সরবরাহ করবে।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে পায়রায় চীনের একটি কোম্পানির সঙ্গে যৌথভাবে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার। ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গেই নতুন এই কেন্দ্রের জন্য ১০০ একর জমি নতুন করে বরাদ্দ করা হয়েছে।

৩ হাজার ৬০০ মেগাওয়াটের এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে ১২শ’ মেগাওয়াটের মোট ৩টি ইউনিট থাকবে। এরমধ্যে প্রথম ইউনিট ২০২১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে উৎপাদনে আসার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্য দুটি ইউনিট ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে চালু হতে পারে।

জ্বালানি সরবরাহের জন্য এই কেন্দ্রের সঙ্গে এলএনজি রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট থাকবে। ইতোমধ্যে এলএনজি সরবরাহের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে। এখন পূর্ণাঙ্গ সমীক্ষার কাজ চলছে। বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে নিতে ৪০০ কিলোভোল্টের সঞ্চালন লাইনের নির্মাণ কাজ চলছে।

অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ সচিব ড. আহমদ কায়কাউস বলেন, ‘জেডিএ (যৌথ উন্নয়ন চুক্তি) হওয়ার কথা ছিল জুনে, হলো সেপ্টেম্বরে ৷ আগামীতে দ্রুত কাজ করে এই বিলম্ব পুষিয়ে নিতে হবে।’

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন