বিএনপি

দণ্ড নয়, বিএনপির দৃষ্টি আন্দোলন ও নির্বাচনে

খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান। ফাইল ছবি

• তারেককে সাজা দেওয়া হবে—আগেই আঁচ করেছিলেন নেতারা
• বিএনপি নেতাদের ধারণা, ক্ষমতার পরিবর্তন হলে দণ্ড থাকবে না 
• এ কারণে মামলার রায়ের পর বড় কোনো কর্মসূচি দেওয়া হয়নি 
• নেতা-কর্মীদের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে নির্দেশনা 
• তারেকের কারাদণ্ডে তাঁর নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন 
• নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্নকে নীতিনির্ধারকেরা গুরুত্ব দিচ্ছেন না

নির্বাচনের প্রাক্কালে দলের প্রধান দুই নেতা খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলায় কারাদণ্ডে চিন্তিত বিএনপির নীতিনির্ধারকেরা। তাঁদের দৃষ্টি এখন আন্দোলন ও নির্বাচনের দিকে।

বিএনপির উচ্চপর্যায়ের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় তারেক রহমানকে যে বড় ধরনের সাজা দেওয়া হবে, তা তাঁরা সরকারি দলের নেতাদের বক্তব্য থেকে অনেক আগেই আঁচ করেছিলেন। এখন তাঁদের ধারণা, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার পট পরিবর্তন করা গেলে এসব দণ্ড থাকবে না। এ কারণে মামলার রায়ের পর বড় কোনো কর্মসূচিও দেওয়া হয়নি। নেতা-কর্মীদের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পর বিভিন্ন মহল থেকে তাঁর নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, সেটাকেও বিএনপির নীতিনির্ধারকেরা এখন গুরুত্ব দিতে চাচ্ছেন না।

দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা মনে করেন, বিএনপিকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে দূরে রাখার জন্য সরকার পরিকল্পিত ছকে এগোচ্ছে। সেই ছকেই ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের সাজা দিয়ে কারাবন্দী করার আট মাসের মাথায় গত বুধবার ২১ আগস্টের ঘটনায় তারেক রহমানের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় হয় বলে বিএনপির নেতারা দাবি করেন।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় তারেক রহমানের যাবজ্জীবন সাজা হওয়ার বিষয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘জাতির দুর্ভাগ্য, সরকার তার প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্যই আদালতকে ব্যবহার করে আরেকটি মন্দ দৃষ্টান্ত স্থাপন করল। যেমনটি করেছে মিথ্যা মামলায় বেগম খালেদা জিয়াকে কারাদণ্ড দিয়ে।’

এর আগে আরও দুটি মামলায় তারেক রহমানের যথাক্রমে ৭ ও ১০ বছর কারাদণ্ড হয়। তিনি ২০০৮ সাল থেকে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী। বর্তমানে তিনি ওই দেশে রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছেন। তাঁর মা ও দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জেলে যাওয়ার পর সেখান থেকেই তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে তারেক রহমান দণ্ডিত হওয়ার পর তাঁর নেতৃত্বে থাকার নৈতিকতা নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠছে। যদিও দলের নেতারা বলছেন, আদালত এই দণ্ড দেওয়ায় দলের নেতৃত্বে কোনো হেরফের হবে না।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কারাদণ্ডের রায় যে সরকারের একটি নির্বাচনী প্রকল্পের অংশ, তা জনগণের জানা আছে। এই রায় বিচারিক সিদ্ধান্তে হয়নি, রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে হয়েছে। সবকিছু হয়েছে মিথ্যাচারের মাধ্যমে। সেখানে নীতি-নৈতিকতার প্রশ্ন আসে কীভাবে?’

বিএনপির নেতা-কর্মীরাও খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিচারকে সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে দেখছেন। বুধবার গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ের পর দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের বেশ কজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাঁরা মনে করছেন, নির্বাচন সামনে রেখে সরকার দুটি লক্ষ্য নিয়ে খালেদা জিয়াকে কারাবন্দী ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ২১ আগস্টের মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে। এক. দুই প্রধান নেতাকে দণ্ড দিয়ে বিএনপির নেতৃত্বে সংকট সৃষ্টি করে দলে ভাঙন ধরানো। দুই. মাঠপর্যায়ের কর্মী-সমর্থকদের মনোবলে চিড় ধরানো।

বিএনপির সূত্রগুলো বলছে, গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে যে বড় ধরনের দণ্ড আসছে, তা গত কয়েক মাসে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে মন্ত্রী-সাংসদদের কথাবার্তায় প্রকাশ পেয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন দাবি করেন, ‘তারেক রহমানকে আওয়ামী লীগ এত দিন ধারণাগত নেতা মনে করত। এ দণ্ড তাঁকে জনগণের কাছে সত্যিকারের নেতা বানিয়ে দিল। কারণ, মানুষের কাছে এই সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা নেই, ন্যায়বিচারও প্রশ্নবিদ্ধ। সুত্র- প্রথম আলো।