ঢাকা বিভাগ

দখল, দূষণসহ নানা ভোগান্তিতে সাভার পৌরবাসী

রাজধানী ঢাকার উপকণ্ঠ সাভার পৌরসভার কার্যক্রম ২৬ বছর পেরিয়ে গেলেও এখানে পৌরবাসীর সমস্যার অন্ত নেই। গোটা পৌরসভার বেশির ভাগ সড়কের দশা এখন বেহাল। কার্যকর পরিকল্পনার অভাবে পৌরসভার আবাসিক এলাকায় অবাধে গড়ে উঠেছে পরিবেশদূষণকারী বিভিন্ন শিল্প বা মিল-কলকারখানা। পৌরবাসীর এই সব সমস্যা, দুর্ভোগ ও ভোগান্তি নিয়ে দুই পর্বের প্রতিবেদন তৈরি করেছেন তায়েফুর রহমান। আজ প্রকাশিত হলো প্রতিবেদনটির প্রথম পর্ব

১৯৯১ সালে পৌরসভা হিসেবে উন্নীত হওয়ার পর সাভার পৌরসভার কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৯২ সালের ১৬ মার্চ। ১৪.০৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই পৌরসভা ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত হয় ১৯৯৭ সালে। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী এ পৌরসভার জনসংখ্যা দুই লাখ ৯৬ হাজার ৮৫১ জন। উপজেলা পরিসংখ্যান অফিস সূত্র অনুয়ায়ী ২০১৭ সালে এই পৌরসভার জনসংখ্যা চার লাখ ৯৩ হাজার ২০৭ জন। আর বর্তমানে বেসরকারিভাবে এই পৌরসভার জনসংখ্যা আট লক্ষাধিক। ৯টি ওয়ার্ডবিশিষ্ট এই পৌরসভার সীমানা—উত্তরে ঘোড়াদিয়া, মল্লিকের টেক, টেউটি, মদপুর, দক্ষিণ কৃষ্ণ ছলিয়া, দেওগাঁও, পূর্বে ধরেণ্ডা মৌজা, বনগাঁও ইউনিয়ন, দক্ষিণে কর্ণপাড়া খাল এবং পশ্চিমে বংশী নদী।

সাভার পৌরসভার কার্যক্রম ২৬ বছর পেরিয়ে গেলেও এখানে সমস্যার অন্ত নেই। অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও বাড়িঘর নির্মাণ, আবাসিক এলাকায় মিল-কলকারখানা, সংস্কারবিহীন খানা-খন্দে ভরা রাস্তাঘাট, সড়কবাতির অভাব, মাদকদ্রব্যের বিস্তার, যত্রতত্র কাঁচাবাজার, শব্দদূষণ, মানহীন ক্লিনিক-হাসপাতাল, পানি সরবরাহের ব্যবস্থা না-থাকা, প্রয়োজনীয় ড্রেন ও ডাস্টবিনের অভাব, ময়লা-আবর্জনা ও কলকারখানার বিষাক্ত তরল বর্জ্যের প্রভাব, শিশু পার্ক ও খেলার মাঠের অভাব, খাসজমি ও নদ-নদী বা খাল দখল ও দূষণ, মশা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগের অভাবসহ অসংখ্য সমস্যায় রয়েছে পৌরবাসী। দীর্ঘদিন ধরে সৃষ্ট পৌরবাসীর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি সমস্যা, দুর্ভোগ ও ভোগান্তির কথা তুলে ধরা হলো।

সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায় রাস্তাঘাট

সাভার পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায় রাস্তাঘাট। জলাবদ্ধতা এখানে একটি গুরুতর সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। এক ঘণ্টার বর্ষণে কোনো কোনো মহল্লার বাড়িঘর ও দোকানপাটে পানি ঢুকে পড়ে। কিছু এলাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থার সংস্কার করা হলেও যেসব এলাকায় এখনো কাজ চলছে, সেসব এলাকার মানুষকে পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি। পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ভাগলপুরের বাসিন্দা কহিনুর হোসেন বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগের সীমা থাকে না। একসময় শহরের পয়ঃপানি খাল-নালা দিয়ে বংশী নদীতে গিয়ে পড়ত। কিন্তু নদী-নালা, খাল-বিল দখল করে অপরিকল্পিতভাবে ঘরবাড়ি, দোকানপাট, মিল-কারখানা গড়ে তোলার ফলে পয়োনিষ্কাশনের মুখ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে এখন আর পানি ও ময়লা-আবর্জনা নিষ্কাশন হয় না। তাই বর্ষা মৌসুম এলেই সাভার পৌরবাসীর জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে।’ জলাবদ্ধতার কারণে রাস্তাঘাটের প্রভূত ক্ষতি হয় এবং নর্দমার পচা পানি ও ময়লা-আবর্জনা পরিবেশ দূষিত করে তোলে। পৌরবাসীর অভিযোগ, পৌর কর্তৃপক্ষ নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না রেখেই ড্রেন তৈরি করেছে। ফলে জমে থাকা পানি রাস্তার বিভিন্ন স্থানে গর্তের সৃষ্টি করে। সাভার পৌরসভার ব্যাংক কলোনি, রেডিও কলোনি, আড়াপাড়া, বক্তারপুর, মধ্যপাড়া, ইমান্দিপুর, সোবহানবাগ, রাজাশন, শাহীবাগ, গেণ্ডা, ভাগলপুর এবং কাতলাপুরসহ বিভিন্ন মহল্লায় জলাবদ্ধতার সমস্যা প্রকট। সাভারবাজার বাসস্ট্যান্ড-সংলগ্ন রাস্তাঘাট ও মার্কেটের পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা নেই। সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভার নিউ মার্কেটের সামনে রাস্তার দুই পাশে, ব্যাংক কলোনিতে সাবেক এমপি সালাউদ্দিন বাবুর বাড়ির সামনে থেকে ব্যাংক কলোনি মসজিদ পর্যন্ত রাস্তা ও ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সঙ্গে হাবিব টাওয়ার ঘেঁষে ব্যাংক কলোনির দিকে রাস্তাটি জলাবদ্ধাতার কারণে হাঁটুপানি জমে রয়েছে।

১ নম্বর ওয়ার্ডের বাড্ডা-ভাটপাড়া এলাকার খানাখন্দে ভরা একটি রাস্তা

খানাখন্দে ভরা বেশির ভাগ সড়ক

পৌরসভার গেণ্ডা, ব্যাংক কলোনি, ভাগলপুরের সিরামিক বাজার থেকে বালুঘাট পর্যন্ত, বাড্ডা-ভাটপাড়া সড়ক, সিরামিক বাজার হয়ে উপজেলা পরিষদ সড়ক, নিউ মার্কেট থেকে শাহীবাগে প্রবেশের সড়কসহ পৌর এলাকার বেশির ভাগ সড়কের এখন বেহাল অবস্থা। বহুদিন ধরে এসব সড়কের সংস্কারকাজ হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। ফলে সড়কের পুরো অংশই খানাখন্দে ভরে গেছে। পিচ ঢালা পথ হলেও এখন আর পিচের কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সড়কগুলোতে এখন সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্তের। প্রায় ১০ মাস আগে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভার গেণ্ডা বাসস্ট্যান্ড থেকে পুকুরপাড় পর্যন্ত ড্রেনের পাইপলাইন বসানোর জন্য রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি হলেও তা আর মেরামত করা হয়নি। এতে বৃষ্টির মৌসুম হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই এলাকাবাসীকে পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। নেই সড়কবাতি। বড় বড় গর্ত থাকায় অনেক সময় যানবাহন উল্টে পড়ে গেলেও জীবনের ঝুঁকি ও চরম দুর্ভোগ সহ্য করে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এ সড়কে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে। এ ব্যাপারে ৯ নম্বর ওয়ার্ড কমিশনার আয়নাল হক গেদু এলাকার রাস্তার দুরবস্থার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘এলাকাবাসীর একটু কষ্ট হচ্ছে। কারণ রাস্তায় ড্রেনের পাইপ বানানো হচ্ছে। পাইপ বসানোর পর রাস্তা সংস্কার করা হবে। তখন আর কোনো সমস্যা থাকবে না।’

অননুমোদিত ওয়েল্ডিং কারখানা

পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় ব্যস্ততম সড়ক ও আবাসিক এলাকায় ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে বহুসংখ্যক অননুমোদিত ওয়েল্ডিং কারখানা। ওয়েল্ডিং কারখানার ক্ষতিকর আলোকরশ্মি, লোহা-লক্কড় পেটানোসহ কারখানার শব্দ ও বিষাক্ত ধোঁয়া জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। থানা রোড, বাজার রোড, নামাবাজারসহ বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় এ রকম অনেক ওয়েল্ডিং কারখানা ও দোকান গড়ে উঠেছে। এ ছাড়া অনেক আবাসিক এলাকা ও মহল্লার মধ্যেও অনেক দোকান গড়ে উঠেছে, যেগুলোর কোনো অনুমোদন নেই। হাসপাতাল, ক্লিনিক ও স্কুলের পাশেও গড়ে উঠেছে অনেক ওয়েল্ডিং কারখানা। মালিকরা কারখানা স্থাপনের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেয় না। এসব কারখানায় অল্প বয়সী ও শিশু শ্রমিকদেরই বেশি কাজ করতে দেখা যায়। নিয়ম অনুযায়ী কারখানার ভেতর অথবা পেছনের বর্ধিত স্থানে ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করার কথা। কিন্তু তারা রাস্তার জায়গা দখল করে গ্রিল ঝালাই, মেরামত বা লোহা পেটানোর কাজ করছে। এতে পথচারীদেরও চলাচলে অসুবিধা হচ্ছে। সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমজাদুল হক বলেন, ‘সড়কের পাশে অবৈধভাবে স্থাপিত এসব ওয়েল্ডিং কারখানা থেকে নির্গত তীব্র আলোকরশ্মি মানুষের চোখের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এতে পথচারীদের চোখের রেটিনা ঝলসে যেতে পারে।’

নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যাগে ছয়লাপ

সাভার পৌর এলাকায় গড়ে ওঠা বিভিন্ন বাজার এবং পাইকারি ও খুচরা দোকানগুলো নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যাগে ছয়লাপ হয়ে গেছে। সব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বহনের জন্য পৌর এলাকার প্রতিটি বাজারে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক এ পলিথিনের অবাধ ব্যবহার লক্ষ করা যাচ্ছে। ক্রেতাসাধারণকে বাধ্য হয়েই পণ্য বহনের জন্য পলিথিনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজার বাসস্ট্যান্ড, গেণ্ডা কাঁচাবাজার, সাভার নামাবাজার, উলাইল বাজার, সিরামিক বাজার, বৌ বাজারসহ বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা দোকানে মাছ, মাংস, তরিতরকারি, মসলাসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পলিথিন ব্যাগে ভরে ক্রেতাদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা নিত্যপণ্য বহনে সহজলভ্য হওয়ায় আইনত দণ্ডনীয় হওয়া সত্ত্বেও পলিথিন ব্যবহার বন্ধ করছে না। অনেক খুচরা ব্যবসায়ী ও পাইকারি দোকানিকে পলিথিন মজুদ করে রাখতেও দেখা গেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন শপিং সেন্টারেও নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যবহার হচ্ছে। এদিকে পলিথিন ব্যবহারের পর তা ড্রেনসহ যত্রতত্র ফেলা হয়। ফলে প্রায়ই পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং ময়লা পানি উপচে পড়ে এলাকার পরিবেশ নষ্ট করছে।

মহাসড়কসহ সর্বত্র আবর্জনা

পৌরসভার পুরোটাই যেন একটি ডাস্টবিনের শহরে পরিণত হয়েছে। ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য পৌর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ ডাস্টবিনের ব্যবস্থা করা হলেও তা নিয়মিত পরিষ্কার এবং সঠিক স্থানে স্থাপন না করায় যত্রতত্র আবর্জনা থেকেই যাচ্ছে। মহল্লাগুলোতে নেই কোনো নির্দিষ্ট ডাস্টবিন বা ময়লা ফেলার স্থান। দু-একটি ডাস্টবিন থাকলেও তা ভেঙে গিয়ে আশপাশের অনেকটা এলাকাজুড়ে ময়লা ছড়িয়ে পড়ছে। আর তীব্র দুর্গন্ধে পথচলা দায় হয়ে পড়েছে এলাকাবাসীর। পৌর এলাকার বিভিন্ন অলিগলিতে ময়লাভর্তি পলিথিন ব্যাগ পড়ে থাকা নিত্যদিনের চিত্র। মোড়ে মোড়ে ময়লার স্তূপ জমা হলেও তা সময়মতো পরিষ্কার করা হয় না। সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডের কাঁচাবাজার এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ওপর ফেলা হয় ময়লা-আবর্জনা। এতে নোংরা হয়ে থাকে ভিআইপিসহ সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ এ মহাসড়ক। এতে মহাসড়কে যানবাহন চলাচলে যেমন বাধার সৃষ্টি হয়, তেমনি ময়লা-আবর্জনার পচা দুর্গন্ধে যাত্রী ও পথচারীদের পোহাতে হয় দুর্ভোগ। গৃহস্থালির বিপুল পরিমাণ ময়লা-আবর্জনা প্রতিদিন রাস্তায় জমা হচ্ছে এবং পরে সেগুলো পৌরসভার ময়লার ভ্যানে ভরে নিয়ে ফেলা হচ্ছে শহর বা মহাসড়কের আশপাশের নিচু জমিতে। এসব ময়লা-আবর্জনা সড়ক-মহাসড়কের পাশে ফেলার কারণে বাতাসে উৎকট গন্ধ ছড়িয়ে পরিবেশদূষণ ঘটাচ্ছে। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের রাজালাখ ফার্ম, উলাইল, কর্ষপাড়া ও রেডিও কলোনি এলাকায় মহাসড়কের পাশে স্তূপ করে রাখা ময়লা-আবর্জনার কারণে এসব স্থান দিয়ে চলাচল করা কষ্টকর।

দখলের আগ্রাসনে বংশী নদী

চলছে নদী খাল জলাশয় ও খাসজমি দখল

রাজধানীর পার্শ্ববর্তী সাভার পৌর এলাকার ভেতরেই বিভিন্ন নদী, খাল, জলাশয় ও খাসজমি দখলের রীতিমতো প্রতিযোগিতা চলছে। দখলদারদের দৌরাত্ম্যে একসময়ের প্রমত্তা বংশী ও ধলেশ্বরী নদী ভরাট হয়ে বর্তমানে প্রায় খালে পরিণত হয়েছে। আর খালগুলো প্রায় বিলীন হতে বসেছে। নদীগুলোর দুই পাশের শত শত বিঘা জমি দখল করে নিয়েছে এলাকার প্রভাবশালীরা। প্রশাসনের চোখের সামনেই এভাবে নদী-খাল দখল হতে থাকলেও এসব বন্ধে তাদের কোনো উদ্যোগ লক্ষ করা যাচ্ছে না। ফলে নদী ও জলাশয় দখলও বন্ধ হচ্ছে না। বংশী ও ধলেশ্বরী নদী ও একাধিক খালের তীর বেদখল হয়ে যাচ্ছে। এলাকার বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও বিভিন্ন হাউজিং কম্পানির লোকজন প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করে এ দখলপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তুরাগ নদ, বংশী, ধলেশ্বরী নদী দখলমুক্ত করার জন্য পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো বিভিন্ন সময় মিছিল, মানববন্ধন, সমাবেশ করলেও কোনোভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না দখলদারদের। বংশী নদীর কূল ঘেঁষে অবস্থিত সাভারের নামাবাজার আস্তে আস্তে বড় হচ্ছে। আর ছোট হয়ে আসছে নদীটি। বাজারের প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা নদীর জমি দখল করে সেখানে নির্মাণ করছে দোকানপাট, মালামাল রাখার গুদামঘর, চিঁড়া ও তেলের মিলসহ অন্যান্য কলকারখানা। আর সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ব্যবসায়ীদের নামে অবৈধভাবে জমি লিজ দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

পার্ক ও খেলার মাঠের অভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে শিশুদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশ

স্মরণ সাহা

স্থানীয় সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক

এখানে বিনোদনের তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। নেই খেলার মাঠ ও পার্ক। মানুষের বিনোদন, সভা-সমাবেশ ও সেমিনার করার মতো কোনো মিলনায়তনও তৈরি হয়নি। এলাকায় কয়েকটি নাট্য, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন থাকলেও তাদের চর্চার কোনো মঞ্চ বা অডিটরিয়াম না থাকায় সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড নেই বললেই চলে। খেলাধুলার কোনো জায়গা না পেয়ে অনেক শিশুকেই ঘরে বসে টিভি দেখে অথবা কম্পিউটারে ভিডিও গেমস খেলে সময় কাটাতে হচ্ছে। পার্ক ও খেলার মাঠের অভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে শিশুদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশ। বংশী নদীর তীরে একটি মিনি স্টেডিয়ামের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলেও দীর্ঘদিনেও এর কাজ শুরু হয়নি। সরকারিভাবে এখানে কোনো সাংস্কৃতিক সংগঠন গড়ে ওঠেনি। সাভারে শিল্পকলা একাডেমি গড়ে তোলা সংস্কৃতিকর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবি থাকলেও জমিসংক্রান্ত জটিলতায় তা অগ্রসর হচ্ছে না।

কার্যকর পৌরসভা গড়ে তুলতে সম্মিলিতভাবে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন

হাজী মো. আবদুল গনি

মেয়র, সাভার পৌরসভা

দায়িত্ব গ্রহণ করার পর আমার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ। সে লক্ষ্যে দৈনিক হাজিরা ভিত্তিতে প্রায় ২৫৬ জন শ্রমিক দ্বারা পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডসহ পৌরভবন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করানো হচ্ছে। পৌরসভার ৯টি গার্বেজ ট্রাকের মধ্যে চারটি অচল। সচল পাঁচটি গার্বেজ ট্রাক ও ৭৫টি ভ্যান দিয়ে পৌর এলাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করা হচ্ছে। চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল হওয়ায় বিভিন্ন দপ্তরে ১৬টি গার্বেজ ট্রাক ও এস্কেভেটর ও একটি পে-লোডার বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। এ ছাড়া পৌরসভার নিজস্ব অর্থায়নে দুটি গার্বেজ ট্রাক এবং প্রায় ১.৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে নিজস্ব ডাম্পিং সাইটের জমি কেনার জন্য চলতি অর্থবছরের বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। রাস্তাঘাটের সংস্কার ও উন্নয়নের কাজ অব্যাহত রয়েছে। আশা রাখি আগামী ডিসেম্বর নাগাদ সড়কগুলোর নির্মাণ বা সংস্কারকাজ শেষ হবে। পৌরবাসীকে ড্রেন ব্যবহারে সতর্ক হওয়া জরুরি। কারণ বাসাবাড়ির ময়লা-আবর্জনা ড্রেনে ফেললে রাস্তাঘাট তো পানিতে ডুববেই। তাই কার্যকর পৌরসভা গড়ে তুলতে সম্মিলিতভাবে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।