খেলাধুলা

থামল ফুটবলের স্বপ্নযাত্রা

এবারের এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ দারুণ উজ্জীবিত এক দল। তবে আরেক রূপকথা হয়নি উত্তর কোরিয়ার দুর্দান্ত ফুটবলে। উত্তর কোরিয়া গতবারের ফাইনালিস্ট। বিরতির আগেই দুই গোলে এগিয়ে ম্যাচটি সহজ করে ফেলে তারা।

ভয় তাড়িয়ে আত্মবিশ্বাসী। আর ব্যর্থতার খোলস ছেড়ে স্বপ্নচারী হয়ে উঠেছিলেন ফুটবলাররা। নক আউটের ম্যাচটি প্রথমে ছিল সুযোগ। অধিনায়ক জামাল ভুঁইয়া মাঠে নামার আগে বলেছিলেন এটা ‘যুদ্ধ’। সেই যুদ্ধে জেতা হলো না। থামল তাই স্বপ্নযাত্রা। এশিয়ান গেমসের নক আউট রাউন্ডে উত্তর কোরিয়ার কাছে ১-৩ গোলে হেরে বিদায় বাংলাদেশ ফুটবল দলের।

এবারের এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ দারুণ উজ্জীবিত এক দল। তবে আরেক রূপকথা হয়নি উত্তর কোরিয়ার দুর্দান্ত ফুটবলে। উত্তর কোরিয়া গতবারের ফাইনালিস্ট। বয়সভিত্তিক দলের খেলা র‌্যাংকিংয়ের নিক্তিতে মাপা না গেলেও  উইবাওয়া মুকতি স্টেডিয়ামে ফুটে উঠেছে তাদের ১০৮ ও বাংলাদেশের ১৯৪-এ থাকার ব্যবধান। বিরতির আগেই দুই গোলে এগিয়ে ম্যাচটি সহজ করে ফেলে তারা। জেমি ডের শিষ্যরা হারের আগে হারে না। জেদি আর কৌশলী ফুটবলে বিপক্ষের ওপর ধরে রাখে চাপ। বিরতির পর ম্যাচে ফিরলেও একটির বেশি গোল ফেরানো হয়নি। ০-৩ গোলে পিছিয়ে থাকার পর ইনজুরি টাইমে এক গোল ফেরান সাদ উদ্দিন। এরপর জাফর ইকবালের ক্রসে মোহাম্মদ রবিউলের হেড অল্পের জন্য যায় বাহির দিয়ে। বদলি এই খেলোয়াড়রা বদলে দিয়েছিলেন দলকে। নতুন বাংলাদেশ হারের আগে হারে না বোঝা যাচ্ছিল ম্যাচে ফেরার প্রাণান্ত চেষ্টায়। কিন্তু ততক্ষণে দেরি হয়ে গেছে অনেক। ৩০ ফাউলের ম্যাচে বাংলাদেশ হলুদ কার্ড পেয়েছে পাঁচটি।

এভাবে হারার কারণ হিসেবে কোচ জেমি ডে প্রথমেই জানালেন ১৩ মিনিটের পেনাল্টি গোলে পিছিয়ে যাওয়ার কথা। বক্সে সুশান্ত ত্রিপুরার হাতে বল লেগেছিল নাকি ফাউলের জন্য রেফারি হ্যান্ডবল দিয়েছেন নিশ্চিত নন তিনি। এ নিয়ে ম্যাচ শেষে রেফারির সঙ্গেও তর্কে জড়ান সুশান্ত! জেমি ডের ক্ষোভ, ‘রেফারিদের পারফরম্যান্সে আমি খুশি নই। ওটা পেনাল্টি ছিল না। হ্যান্ডবল নাকি ফাউল রেফারিই ভালো বলতে পারবেন।’

বাংলাদেশের লক্ষ্যই ছিল গোল খাওয়া যাবে না, শুরুতে তো অবশ্যই না। উত্তর কোরিয়ার উল্টোটা। শুরুতেই গোল পেতে মরিয়া। আক্রমণ চলল টানা। তৃতীয় মিনিটেই হলুদ কার্ড জামাল ভুঁইয়ার। শরীরনির্ভর রক্ষণে পার পাওয়া যাবে না বুঝিয়ে দেন রেফারি। পঞ্চম মিনিটে প্রথম কর্নার উত্তর কোরিয়ার। গোলও হতে পারত তাতে। দশম মিনিটে একটি ফ্রি কিক থেকে অল্পের জন্য গোল মিস কিম ইউ সংয়ের। সেই কিমই ১৩ মিনিটে এগিয়ে নেন উত্তর কোরিয়াকে। বক্সে সুশান্ত ত্রিপুরার হাতে বল লাগায় পেনাল্টির জন্য ফ্লাগ তোলেন সহকারী রেফারি। কোরিয়ান এক ফরোয়ার্ড ছিলেন তাঁর সঙ্গে। বাঁ দিক দিয়ে আসা ক্রস লাফিয়ে ক্লিয়ার করতে গেলে হাতে লাগে তাঁর। সেটা এড়ানোর উপায় ছিল না রেফারির। সিদ্ধান্ত সঠিক না ভুল কিছু যায় আসে না। ঠাণ্ডা মাথায় সফল স্পট কিক কিম ইউ সংয়ের। এই গোলের পর থেকেই এলেমেলো বাংলাদেশ।

দুই মিনিট পরই দ্বিগুণ হতে পারত ব্যবধান। কিম ইউং একা পেয়ে গিয়েছিলেন বাংলাদেশি গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলামকে। তাঁর শটে আশরাফুল পরাস্ত হলেও বল ফেরে পোস্টে লেগে। এরপর কিছুটা গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা বাংলাদেশের। তবে জোরালো আক্রমণ হচ্ছিল না। ৩১ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে বাংলাদেশের একটি ফ্রি কিক কর্নারের বিনিময়ে ফেরান উত্তর কোরিয়ান কিম নাম। নক আউটে এক গোল নিরাপদ নয়। ব্যবধান দ্বিগুণ করতে চাপ দিয়ে চলেছিল কোরিয়াও। সেই প্রচেষ্টায় ৩৭ মিনিটে অসাধারণ টিম গোল। কয়েকটি পাস থেকে বল পান কিম কুক বুম। তাঁর ফাইনাল পাসে ডি বক্সে ঢুকে নেওয়া আড়াআড়ি শটে আশরাফুলকে সুযোগই দেননি হান ইয়ং তায়ে।

ইরানের কাছে ৩-০ গোলে হার আর মিয়ানমারের সঙ্গে ১-১ ড্র, শেষ ম্যাচে সৌদি আরবকে ৩-০ গোলে হারানো উত্তর কোরিয়া এশিয়ান গেমসে সব সময়ই শক্তিশালী দল। ১২১তম মিনিটে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে হেরেছিল গত এশিয়ান গেমসের ফাইনালে। ২০০২, ২০০৬ ও ২০১০ সালে খেলেছিল কোয়ার্টার ফাইনালেও। তাদের বিপক্ষে বিরতির পরও পেরে ওঠেনি বাংলাদেশ। ৬৮ মিনিটে বিশ্বনাথ ঘোষের ভুলে বক্সে বল পেয়ে যান জং হিয়ং। এরপর তপু বর্মণের ব্যর্থতায় হিয়ংয়ের স্কয়ার পাসে ব্যবধান ৩-০ করেন ক্যাংক কুক চোল। ইনজুরি টাইমে জটলা থেকে গোল করেন সাদ উদ্দিন। জামাল ভুঁইয়া থেকে রবিউলের ক্রসে জটলায় বল পেয়ে লক্ষ্যভেদ সাদের।

বাংলাদেশের আগের ম্যাচগুলো ছিল ফাঁকা গ্যালারিতে। এবারও তাই। তবে গতকাল উইবাওয়া মুকতি স্টেডিয়ামে আগের ম্যাচটাই ছিল স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া আর আরব আমিরাতের। ভরা গ্যালারি। ইন্দোনেশিয়ার প্রতিটি আক্রমণের সময় সমুদ্রের ঢেউ তাতে। ড্রামের তালে দলকে তাতানোও চলল পুরো সময়। ইন্দোনেশিয়া টাইব্রেকারে হেরে যেতে গ্যালারি আবারও সুনসান। এমন নীরবতা বাংলাদেশেও। এর পরও দলের পারফরম্যান্সে অসন্তুষ্ট নন কোচ জেমি ডে, ‘আমরা বিরতির পর ম্যাচে ফিরেছিলাম। বাজে একটা গোল খেয়ে হাতছাড়া হয় ম্যাচটি। এই ছেলেরা যেভাবে খেলেছে সেটা প্রশংসা করার মতো। এখন সাফে ভালো করার আত্মবিশ্বাস পাবে সবাই।’ সাফ ফুটবলে আত্মবিশ্বাস বাড়াতে জাকার্তা এসেছিল বাংলাদেশ। তাতে জ্বালানি এখন এশিয়াডের নক আউটে খেলা।