লাইফস্টাইল

তিনিই কি ‘গোপাল ভাঁড়’? জানুন তার ইতিহাস!!

গোপাল ভাঁড়। যে নামটা শুনলেই বাঙালির মুখে এমনিতেই হাসি চলে আসে। তীক্ষ্ণ বুদ্ধি সম্পন্ন এই ব্যক্তিকে শুধু কাল্পনিক নাকি বাস্তবেও গোপাল ভাঁড় বলে সত্যিই কেউ ছিলেন? কি ছিল গোপালের পদবি? গোপালের বাবার নামই বা কি? গোপালের কি কোনো সন্তানাদি হয়েছিল? নাকি সবই লোকমুখে জন্ম নেওয়া কাহিনি? এই প্রশ্ন বাঙালির মনে অনেক দিনের। ঐতিহাসিকরাও এর কোনো নিশ্চিত উত্তর দিতে পারেননি।

তবে, গোপাল ভাঁড়ের পরিচয় নিয়ে রয়েছে নানা গুঞ্জন। নদিয়ারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের সভায় বিদূষক হিসেবে গোপালের উপস্থিতি বাস্তবেই ছিল বলে অনেকের ধারণা। কেউ কেউ বলেন, গোপাল নামে কেউ-ই ছিলেন না, কিন্তু কৃষ্ণচন্দ্রের সভায় ছিলেন অতি চালাক একাধিক ব্যক্তি।

দীর্ঘদিন ধরে চলা এই বিতর্কের মাঝে সরাসরি কেউ যদি দাবি করেন— ‘গোপাল ভাঁড় ছিলেন এবং আমিই তার বংশধর!’ তাহলে কেমন হয় বিষয়টি। আশ্চর্যের হলেও এমনটাই দাবি করেছেন নগেন্দ্রনাথ দাস। ‘নবদ্বীপ-কাহিনী বা মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র ও গোপাল ভাঁড়’ নামে একটি বইও লিখে ফেলেন তিনি।

এ বইয়ে নগেন্দ্রনাথ জানিয়েছেন, ‘ভাঁড়’ নয়, গোপালের পদবি ছিল ‘নাই’। তার ঠাকুর্দা ছিলেন ‘আনন্দরাম নাই’ নামে এক পরম তান্ত্রিক সাধক। আর গোপালের বাবা দুলালচন্দ্র নাই, পেশায় ছিলেন নাপিত। তবে, গোপালের বুদ্ধিতে মুগ্ধ হয়েই নদিয়ারাজ তাকে সভার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদে স্থান দেন। তখন গোপালের উপাধি দেওয়া হয় ‘ভাণ্ডারী’। ‘ভাণ্ডারী’ নামই পরিবর্তীত হয়ে হয় ‘ভাঁড়’! গোপাল ভাঁড়!

নগেন্দ্রনাথ দাসের দাবি, কোনো পুত্রসন্তান না থাকলেও গোপাল ভাঁড়ের একটি মেয়ে ছিল। তার নাম ‘রাধারাণী’। গোপাল ভাঁড়ের বংশ লতিকাও তিনি এই বইয়ে রেখেছেন।
নগেন্দ্রনাথের দাবি, তিনি গোপালের দাদা কল্যাণের উত্তরসূরি। সেই অর্থে গোপালের একমাত্র বংশধর।