খেলাধুলা

তিতেতেই আস্থা ব্রাজিলের

চক্রের শুরুটা যেখানেই হোক, শেষটা বিশ্বকাপ দিয়ে। তা সাফল্য পেলে যেমন, তেমনি ব্যর্থতাতেও। ব্রাজিল জাতীয় দলের কোচদের ক্ষেত্রে অন্তত এটি প্রায় নিয়মে পরিণত। তাইতো ১৯৭৮ সালের পর আর কোনো বিশ্বকাপ শেষে কোচের মেয়াদ বাড়েনি। ২০১৮ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে বাদ হয়ে যাওয়া ব্রাজিলের কোচ আদেনর বাক্কি তিতের চুক্তি ২০২২ পর্যন্ত বাড়ানোটা তাই কিছুটা বিস্ময়করই বৈকি!

১৯৯৪ সালে কার্লোস আলবের্তো পাহেইরা ও ২০০২ সালে লুই ফেলিপে স্কলারি বিশ্বকাপ জেতান ব্রাজিলকে। এরপর স্বেচ্ছায় ছেড়ে দেন দায়িত্ব। বাকিদের সরে যেতে হয় ব্যর্থতার দায় নিয়ে। তা ওই বিশ্বকাপের হিসাবে কম ব্যর্থ তো নন তিতেও। শিরোপার দাবিদার সেলেসাওদের শেষ চারে পর্যন্ত ওঠাতে পারেননি। বেলজিয়ামের কাছে শেষ আটে হেরে থেমে যায় ব্রাজিলের রাশিয়া অভিযান। তবু আগামী চার বছরের জন্য এই কোচের ওপর আস্থা রেখেছে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ)। ২০১৬ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের ফুটবলকে কক্ষপথে ফেরানোয় তাঁর ওপর এই ভরসা। সিবিএফের নির্বাহী পরিচালক রোসেরিও কারোসিও বলেছেন তেমনটাই, ‘একই কোচিং স্টাফদের সাড়ে ছয় বছরের দায়িত্বে রেখে আমরা দীর্ঘ মেয়াদে বিনিয়োগ করছি। সুচিন্তিত পরিকল্পনা ও বিচক্ষণ বাস্তবায়নে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলকে তাঁরা প্রত্যাশিত জায়গায় নিয়ে যেতে পারবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি।’

তিতে যখন দায়িত্ব নেন, বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে লাতিন আমেরিকা অঞ্চলে ব্রাজিল তখন ধুঁকছে। ১০ দলের মধ্যে পড়ে ছিল ছয় নম্বরে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ না খেলার ঝুঁকি ছিল প্রবলভাবে। সেখান থেকে ব্রাজিলকে স্বাগতিক রাশিয়ার বাইরে প্রথম দেশ হিসেবে ২০১৮ আসরের টিকিট পাইয়ে দেন তিতে। কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের কাছ হার প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে তাঁর অধীনে সেলেসাওদের প্রথম পরাজয়। এর বাইরে অন্য হারটি আর্জেন্টিনার কাছে প্রীতি ম্যাচে। তিতের অধীনে মোট ২৬ ম্যাচের মধ্যে ২০টিতেই জিতেছে ব্রাজিল। চার ড্রর সঙ্গে ওই দুই হার। দলের মধ্যেও তাঁর গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নাতীত। বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার পর দলের সেরা তারকা নেইমারসহ অনেকেই তিতের প্রতি আস্থার কথা জানিয়েছেন প্রকাশ্যে।

সে কারণেই হয়তো টিকে গেলেন এই কোচ। পরের বিশ্বকাপ পর্যন্ত চুক্তি নবায়নের প্রতিক্রিয়া তিতে জানিয়েছেন বিবৃতির মাধ্যমে, ‘ফেডারেশন আমাদের ওপর আস্থা রেখেছে একতা ও পেশাদারিত্বের পরিবেশের মাধ্যমে দল তৈরির জন্য। এটি অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। এর মুখোমুখি হতে পুরো কোচিং স্টাফ মুখিয়ে আছি। পরের ম্যাচ ও প্রতিযোগিতাগুলোর দিকে এরই মধ্যে মনোযোগ দিচ্ছি।’ সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে চার বছরের নতুন চক্র। আগামী বছর নিজ দেশে অনুষ্ঠেয় কোপা আমেরিকা ব্রাজিল ও তিতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। আর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ তো নিঃসন্দেহে ২০২২ সালে বিশ্বকাপ ট্রফি ঘরে ফেরানো।

নয় নয় করে তত দিনে যে সর্বশেষ বিশ্বকাপ জয়ের ২০ বছর পেরিয়ে যাবে ব্রাজিলের! বিবিসি, ইএসপিএন