জাতীয়

ঢাকা-পঞ্চগড় রেলপথে ‘একতা’ ও ‘দ্রুতযান’ ট্রেন উদ্বোধন

ডেস্ক রিপোর্ট: ‘একতা’ ও ‘দ্রুতযান’ এক্সপ্রেস দিনাজপুর হয়ে ট্রেন দুটি চলবে পঞ্চগড় পর্যন্ত। পঞ্চগড় জেলা ও আশপাশের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল ঢাকা-পঞ্চগড় রুটে ট্রেন সার্ভিসের।

সেই স্বপ্ন এবার ‘পূরণ’ হচ্ছে। পঞ্চগড় স্টেশন থেকে আজ সকাল ৭টা ২০ মিনিটে পঞ্চগড় রেল স্টেশনে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবুল কালাম আজাদ দেশের দীর্ঘতম এ রেল চলাচলের উদ্বোধন করেন।  উদ্বোধনের পর সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে পঞ্চগড় স্টেশন থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায় লাল সবুজের দ্রুতযান আন্তঃনগর ট্রেনটি। রেল বিভাগের পক্ষ থেকে দ্রুতযানের নতুন যাত্রীদের রজনীগন্ধার স্টিক দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।

পঞ্চগড়ে রাত ৯টায় একতা এক্সপ্রেসের চলাচল উদ্বোধন করা হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজন, সংসদ সদস্য নাজমুল হক প্রধানসহ জনপ্রতিনিধিরা থাকবেন। এছাড়া রেলওয়ে মহাপরিচালক কাজী রফিকুল আলম, পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন উপস্থিত থাকবেন।

দুটি জেলা আর ১৪৩ কিলোমিটার পথ যুক্ত হচ্ছে ট্রেন দুটির সার্ভিসে। তবে বাড়ছে না যাত্রীবাহী কোচ। বরং দিনাজপুর, পার্বতীপুর ও শান্তাহার রেলওয়ে স্টেশনে বরাদ্দ আসন ৪০টি কমিয়ে তা দেয়া হয়েছে পঞ্চগড়ে।

এব্যাপারে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোফাজ্জেল হোসেন শুক্রবার সন্ধ্যায় বলেন, ‘আমরা পঞ্চগড়সহ পার্শ্ববর্তী জেলার বাসিন্দাদের নিরাশ করতে চাই না। এ মুহূর্তে চলমান ট্রেন দুটি দিয়ে পঞ্চগড় পর্যন্ত সার্ভিস দেয়া ছাড়া উপায় ছিল না। কয়েক মাসের মধ্যেই নতুন যাত্রীবাহী কোচ রেলবহরে যুক্ত হচ্ছে। তখন ট্রেন দুটিতে আরও বগি সংযোজনের পাশাপাশি নতুন আরেকটি ট্রেন সার্ভিসেরও উদ্যোগ নেয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা রেলওয়েতে আমূল পরিবর্তন আনতে চাচ্ছি। কয়েক বছরের মধ্যে সব রুটেই নতুন ট্রেন চালানো সম্ভব হবে।’

রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ঢাকা-পঞ্চগড় রুটের দূরত্ব ৬৩৯ কিলোমিটার। দেশে এটিই হবে সবচেয়ে বেশি দূরত্বের ট্রেন সার্ভিস। ট্রেন দুটির সার্ভিসে ঢাকা-দিনাজপুর ৪৯৬ কিলোমিটার পথের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ১৪৩ কিলোমিটার। ঢাকা-দিনাজপুর পথে পুরনো সময়সূচিতে, দিনাজপুর-পঞ্চগড় পথে নতুন সূচিতে চলবে তা। সাপ্তাহিক বন্ধ থাকবে না। সেই সঙ্গে বন্ধ হয়ে যাবে পঞ্চগড়-দিনাজপুর শাটল ট্রেন।

পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘ট্রেন দুটি পঞ্চগড় থেকে চলাচল উদ্বোধন নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দ বিরাজ করছে। তবে তারা এও বলছেন, নতুন একটি ট্রেন চান তারা।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা একেকটি ট্রেনে ৩৫টি করে শোভন চেয়ার পাচ্ছি। তাছাড়া দ্রুতযানে একটি নন-এসি সিঙ্গেল কেবিন ও একতায় ৩টি এসি, ২টি নন-এসি সিট বরাদ্দ পেয়েছি। অথচ অন্তত দুটি বগি প্রয়োজন ছিল।’

দিনাজপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার শেখ আবদুর জব্বার বলেন, ‘ট্রেন দুটি ঢাকা-দিনাজপুর ১৩টি বগি নিয়ে চলাচল করছে। যাত্রী চাপ অতিরিক্ত।

স্থানীয় সংসদ সদস্য নাজমুল হক প্রধান জানান, দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হল। এজন্য সরকারকে আমরা অভিনন্দন জানাই। সরকার নিশ্চয় এ রুটে পর্যাপ্ত কোচসহ ট্রেন চালানো ও নতুন একটি ট্রেন চালুর ব্যবস্থা করবে।

দ্রুতযান পঞ্চগড় থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবে সকাল ৭টা ২০ মিনিটে। ১০ ঘণ্টা ৫০ মিনিট পর ট্রেনটি ঢাকায় পৌঁছাবে সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে। ঢাকা থেকে দ্রুতযান ছাড়বে রাত ৮টায় এবং পঞ্চগড় পৌঁছাবে সকাল ৬টা ৩৫ মিনিটে।

একতা পঞ্চগড় থেকে ছাড়বে রাত ৯টায়। ঢাকায় পৌঁছাবে পরদিন সকাল ৮টা ১০ মিনিটে। ঢাকা থেকে একতা এক্সপ্রেস ছাড়বে সকাল ১০টায় এবং পঞ্চগড় পৌঁছাবে রাত পৌনে ৯টায়।

দ্রুতযান ও একতা এক্সপ্রেস ট্রেন দুটি প্রায় ১২০০ যাত্রী বহন করতে পারবে। ঢাকা-পঞ্চগড় এসি বার্থের ভাড়া ১ হাজার ৯৪২ টাকা, এসি চেয়ারের ভাড়া ১ হাজার ৫৩ টাকা, নন-এসি বার্থের ভাড়া ১ হাজার ১৪৫ টাকা ও শোভন চেয়ারের ভাড়া ৫৫০ টাকা করা হয়েছে।